ইরানে মোসাদের নেটওয়ার্ক তছনছ: ১০০০ মার্কিন এজেন্ট আটক, ৪ জন ইসরায়েলি গুপ্তচরের ফাঁসি কার্যকর
ইরানের অভ্যন্তরে ইসরায়েল ও আমেরিকার বিশাল এক গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে তেহরান। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ জন দুর্ধর্ষ গুপ্তচরকে ফাঁসির দড়িতে ঝোলানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, গত তিন দিনের অভিযানে পুরো ইরান জুড়ে প্রায় ১০০০ এর বেশি মার্কিন ও ইসরায়েলি এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। চলমান ইরান-ইসরায়েল ছায়া যুদ্ধের ইতিহাসে একে বলা হচ্ছে সবচেয়ে বড় 'ইন্টেলিজেন্স ক্লিনআপ'।
৪ জনের ফাঁসি এবং মোসাদের সাথে সম্পৃক্ততা
বুধবার ভোরে ইরানের বিচার বিভাগ চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা নিশ্চিত করেছে। এদের মধ্যে অন্যতম ছিল কুরেশ কেইভানি, যাকে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ইরানের অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনার ছবি এবং ভিডিও মোসাদের কাছে পাচার করেছিলেন। এছাড়াও একজন সুইডিশ নাগরিকের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে, যিনি ইসরায়েলের হয়ে কাজ করছিলেন বলে তেহরান দাবি করেছে।
২৬ প্রদেশে সাঁড়াশি অভিযান: ১০০০ মার্কিন এজেন্ট আটক
ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের পুলিশ প্রধান আহমদ রেজা রাদান জানিয়েছেন, গত তিন দিনে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৬টিতেই সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এই অভিযানে ১০০০ এর বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সম্প্রতি ইরানে হওয়া বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো শনাক্ত করতে ইসরায়েলকে সাহায্য করেছে। গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আটককৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক অস্ত্র ও যোগাযোগের সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
আলী লারিজানি হত্যাকাণ্ড ও তথ্যের নির্ভুলতা
সাম্প্রতিক সময়ে কুদস দিবসে ইরানের প্রভাবশালী নেতা আলী লারিজানিকে যেভাবে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু করে হত্যা করা হয়েছে, তাতে ইরান সরকার হতভম্ব হয়ে যায়। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, লারিজানির আশেপাশে থাকা এই গুপ্তচররাই তার প্রতিটি মুহূর্তের অবস্থান মোসাদকে জানিয়ে দিচ্ছিল। এই ঘটনার পরই ইরান তার 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করে এবং ঘরে থাকা শত্রুদের দমনে মাঠে নামে।
রাশিয়া ও তুরস্কের গোয়েন্দা সহায়তা
ইরান তার গোয়েন্দা দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে এখন তুরস্ক ও রাশিয়ার সাহায্য নিচ্ছে। তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান হাকান ফিদানের নির্দেশে বিশেষ একদল বিশেষজ্ঞ ইরানি গোয়েন্দাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়ার 'স্যাটেলাইট ইন্টেলিজেন্স' ব্যবহার করে ইরান এখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোতে নিখুঁতভাবে পাল্টা হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বড় মাপের গ্রেফতারি অভিযানের ফলে ইসরায়েল সাময়িকভাবে তাদের ইনপুট হারাবে। তবে ইরানের ভেতরে থাকা এই 'ভিতরের শত্রু' দমনে তেহরান কতটা সফল হয়, তা দেখার বিষয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. ১০০০ ব্যক্তিকে কেন আটক করা হলো?
— ইরানের দাবি অনুযায়ী, আটককৃতরা সরাসরি ইসরায়েল ও আমেরিকার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি এবং সাম্প্রতিক হামলায় লক্ষ্যবস্তু শনাক্তের কাজে জড়িত ছিল।
২. ইসরায়েল কীভাবে এত নিখুঁত হামলা করছে?
— ইরানের ভেতরে থাকা এই স্থানীয় গুপ্তচররা নিখুঁত জিপিএস লোকেশন ও ছবি সরবরাহ করার কারণেই ইসরায়েল সফলভাবে পিন-পয়েন্ট অ্যাটাক করতে পারছে।
৩. ফাঁসি হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় কী?
— এদের মধ্যে কুরেশ কেইভানি নামে একজন ইরানি এবং একজন সুইডিশ নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকিদের বিচারিক প্রক্রিয়া এখনো চলমান।