৪১ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে নতিস্বীকার করল ওয়াশিংটন।
ইসলামাবাদে ১০ দফার মেগা ডিল: যুক্তরাষ্ট্রের নতিস্বীকার, না কি যুদ্ধের নতুন কৌশল?
ক্রনিকল পয়েন্ট মেগা আপডেট: ৮ই এপ্রিল, ২০২৬। ৪১ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে নতিস্বীকার করল ওয়াশিংটন। ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা শর্তকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে মেনে নিয়ে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী শুক্রবার থেকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা। তবে যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবাননে ইসরাইলি হামলায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
১. ১০ দফা শর্তে রাজি ওয়াশিংটন
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের প্রস্তাবিত ১০ দফা কাঠামো মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে আগ্রাসন না করার নিশ্চয়তা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।
২. ইসলামাবাদে দুই সপ্তাহের শান্তি মিশন
আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যস্থতায় এই আলোচনা প্রাথমিকভাবে দুই সপ্তাহ চলবে, যেখানে ১০ দফার বাস্তবায়ন নিয়ে রূপরেখা তৈরি হবে।
৩. হরমোজ প্রণালীতে ইরানের একচ্ছত্র আধিপত্য
যুদ্ধবিরতি চলাকালেও হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই থাকছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি স্পষ্ট করেছেন যে, যেকোনো জাহাজ চলাচলের আগে ইরানের সামরিক কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করতে হবে। এই শর্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় শেয়ার করে বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
৪. লেবাননে ইসরাইলি হামলা ও চুক্তি লঙ্ঘন
যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন যে, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এরপরই দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছে, যা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন বলে মনে করা হচ্ছে।
৫. সর্বোচ্চ নেতার 'গুলিবন্ধ' নির্দেশ
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোস্তফা আলি খামেনি সামরিক বাহিনীকে 'গুলিবন্ধ' করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এটি যুদ্ধের শেষ নয়। শত্রুপক্ষ সামান্য ভুল করলেই ইরান আবারও পূর্ণ শক্তিতে জবাব দিতে প্রস্তুত এবং তাদের হাত এখনো 'ট্রিগারে' রয়েছে।
৬. ট্রাম্পের সমালোচনা করলেন পোপ
পোপ ফ্রান্সিস সরাসরি ট্রাম্পের নাম না নিলেও তার অবকাঠামো ধ্বংসের হুমকির তীব্র সমালোচনা করেছেন। পোপ বলেছেন, একটি পুরো সভ্যতাকে ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া অমানবিক ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তিনি সামরিক শক্তির বদলে কূটনীতিতে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।
৭. ইসরাইলের অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভ
এই যুদ্ধবিরতিকে ইসরাইলের অনেক সংবাদমাধ্যম '৭ই অক্টোবরের পর সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা' হিসেবে বর্ণনা করেছে। ৪১ দিনের যুদ্ধে ৫০০০ ভবন ধ্বংস হওয়ার পরও কোনো লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়ছে।
Chronicle Point Analysis: যুদ্ধবিরতির নেপথ্যে
- ১. ইরানের কৌশলগত বিজয়: ১০ দফা শর্তকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য করা ইরানের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক জয়।
- ২. হরমোজ কার্ড: প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ হাতে রেখেই ইরান আলোচনায় বসেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে তাদের প্রভাব বজায় রাখবে।
- ৩. ইসরাইলের একগুঁয়েমি: লেবাননে হামলা চালিয়ে ইসরাইল প্রমাণ করল তারা এই শান্তি আলোচনার পূর্ণ বিরোধী।
- ৪. ট্রাম্পের ইউ-টার্ন: সম্ভবত অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে পড়েই ট্রাম্প আপাতত আলোচনায় সম্মত হয়েছেন।
- ৫. পাকিস্তান ফ্যাক্টর: ইসলামাবাদের এই মধ্যস্থতা দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
- ৬. প্রতিরোধ অক্ষের শক্তি: লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনের সম্মিলিত হামলা মার্কিন অবকাঠামোকে নড়বড়ে করে দিয়েছে।
- ৭. ভঙ্গুর শান্তি: রাজনৈতিক নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।