মধ্যপ্রাচ্যে আগুনের লেলিহান শিখা: আরমাকো ও ইসরায়েলে ইরানের নজিরবিহীন ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা ।

বিশ্ব রাজনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে আগুনের লেলিহান শিখা: আরমাকো ও ইসরায়েলে ইরানের নজিরবিহীন ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখন এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের সর্ববৃহৎ তেল ক্ষেত্রে ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইরান একযোগে সৌদি আরবের আরামকো (Aramco), কাতারের রাস লাফফান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি অবকাঠামোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। একই সাথে ইসরায়েলের প্রাণকেন্দ্র তেল আবিবসহ একাধিক শহরে ক্লাস্টার ওয়ারহেড যুক্ত ব্যালিস্টিক মিসাইল বর্ষণ করেছে তেহরান।

"ইরানের এই হামলা শুধু প্রতিশোধ নয়, বরং একটি পরিষ্কার বার্তা—আমেরিকা ও তার মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামো আর নিরাপদ নয়।"

বেনগুরিয়ান বিমানবন্দর অচল ও ইসরায়েলে হাহাকার

ইরানের সুচিন্তিত হামলায় ইসরায়েলের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বেনগুরিয়ান কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা বিমানবন্দরটিকে লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে যাতে ইসরায়েলিরা সহজে পালাতে না পারে এবং রানওয়ে সামরিক কাজে ব্যবহার করা না যায়। হামলার ফলে ইসরায়েলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো অচল হয়ে পড়ায় সারা দেশ তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কবলে পড়েছে। ইতোমধ্যে সেন্ট্রাল ইসরায়েল থেকে ৪০০০-এর বেশি ইহুদিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার প্রভাব

ইরানের রেভোল্যুশন গার্ড কোর (IRGC) তাদের 'অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪'-এর অংশ হিসেবে কাতারের রাস লাফফান গ্যাস ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দফা হামলা চালিয়েছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ এলএনজি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্থানে হামলার পর কাতার সরকার ইরানি মিলিটারি আটাশিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে এবং পাল্টা সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছে।

জ্বালানি তেলের বিশ্ববাজার ও ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলার থেকে বেড়ে ১০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় এক পোস্টে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন ওই দেশগুলোকেই নিতে হবে যারা এটি ব্যবহার করে। তিনি ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিলেও ন্যাটো এবং এশিয়ার মিত্র দেশগুলো (যেমন জাপান ও অস্ট্রেলিয়া) ট্রাম্পের সাথে যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

"আমেরিকা ও ইসরায়েল এখনো বুঝতে পারেনি যে ইরানের সরকার কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে না; এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক কাঠামো।" — আব্বাস আরাকচি

হিজবুল্লাহর সামরিক তৎপরতা

ইরানের হামলার সাথে সমন্বয় রেখে লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা উত্তর ইসরায়েলে ব্যাপক ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে। তারা ইসরায়েলি বাহিনীর মার্কাভা ট্যাংক ও সামরিক যান ধ্বংস করার দাবি করেছে। হিজবুল্লাহর এই সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে ইসরায়েল এখন চরম চাপের মুখে পড়েছে, যার প্রতিক্রিয়ায় তারা লেবাননের বেসামরিক এলাকায় বিমান হামলা জোরদার করেছে।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোস্তফা খামেনী ঘোষণা করেছেন যে, শহীদ আলী লারিজানি ও অন্যান্য নেতাদের খুনিদের প্রতিটি রক্তের ফোটার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে বিশ্ববাসী শঙ্কিত।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ইরান কেন সৌদি আরব ও কাতারের তেল ক্ষেত্রে হামলা করল?

— ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এবং আমেরিকার সাথে যুক্ত মিত্র দেশগুলোর স্থাপনাকে টার্গেট করেছে।

২. বেনগুরিয়ান বিমানবন্দরের বর্তমান অবস্থা কী?

— হামলার ফলে বিমানবন্দরের বড় অংশ অচল হয়ে পড়েছে এবং অন্তত চারটি ব্যক্তিগত বিমান ধ্বংস হয়েছে বলে ইসরায়েল স্বীকার করেছে।

৩. বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর কী প্রভাব পড়েছে?

— মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনায় তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে এবং এটি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

/* 'async' ব্যবহার করা হয়েছে যাতে মেইন সাইট লোড হতে দেরি না হয় */