ইসরাইলের ডিমোনা পারমাণবিক শহরে ইরানের হামলা: ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম!
আসসালামু আলাইকুম। আজ ২২ মার্চ ২০২৬, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের এক অকল্পনীয় এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ইসরাইলের অত্যন্ত গোপনীয় এবং সুরক্ষিত পারমাণবিক শহর ডিমোনা (Dimona) লক্ষ্য করে দফায় দফায় ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। এই ডেমোনা শহরটি ইসরাইলের পারমাণবিক প্রকল্পের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, যেখানে কয়েকশ পারমাণবিক বোমা মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
গতকালের এই হামলায় ডেমোনা শহরের অত্যন্ত সুরক্ষিত আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকারগুলোতে সরাসরি হিট করেছে ইরানের শক্তিশালী মিসাইল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ডেমোনায় ৪৭ জন হতাহত হয়েছেন। এর ঠিক পরেই ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাত (Arad)-এ ইরানের বাংকার ব্লাস্টার মিসাইল আঘাত হানে। একটি মাত্র মিসাইল হামলায় সেখানে ২০টি ভবন মাটির সাথে মিশে গেছে এবং ১১ জন নিহতের পাশাপাশি প্রায় ২০০ জন গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই হামলাটি ছিল মূলত ইরানের নাতানস পারমাণবিক প্রকল্পে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার সরাসরি পাল্টা জবাব।
| টার্গেট এলাকা | ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ | বর্তমান পরিস্থিতি |
|---|---|---|
| ডিমোনা (Dimona) | ৪৭ জন হতাহত, বাংকার ধ্বংস। | পারমাণবিক প্রকল্পের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ। |
| আরাত (Arad) | ২০টি ভবন মাটির সাথে মিশে গেছে। | ১১ জন নিহত, ২০০ জন গুরুতর আহত। |
| মার্কিন বিমান বাহিনী | ৩য় F-35 ফাইটার জেট ভূপাতিত। | আমেরিকার সামরিক দাপটে বড় ধরণের ধাক্কা। |
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন। তাঁর আল্টিমেটাম অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে ইরানকে হরমুজ প্রণালী নিঃশর্তভাবে খুলে দিতে হবে। অন্যথায় ইরানের বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে পুরো দেশকে অন্ধকারে ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে আমেরিকা। এর জবাবে ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ও ইসরাইলি মিত্রদের কোনো বিদ্যুৎ কেন্দ্র বা পানি শোধনাগার কেন্দ্র রেহাই পাবে না।
৩. যুদ্ধের নতুন সহযোগী ও হুতিদের হুঁশিয়ারিইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আশঙ্কা করছে যে, আগামী সোমবার থেকে এই যুদ্ধে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরাও সরাসরি যোগ দিতে পারে। অন্যদিকে, হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরাইলে রকেট হামলা আরও জোরদার করেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আমেরিকা রাডার ছাড়াই অন্ধের মতো প্লেন নামানোর পরিকল্পনা করছে, যা সামরিক বিশ্লেষকদের মতে একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হতে পারে।
৪. যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫টি কঠিন শর্তইরান এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য ৫টি শর্ত দিয়েছে: ১. যুদ্ধের জন্য আমেরিকার নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ২. মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ৩. সহযোগী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ, ৪. যুদ্ধের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ৫. হরমুজ প্রণালীর নতুন প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা।