ইরান যুদ্ধে আমেরিকা-ইসরায়েলের ভয়াবহ অস্ত্র সংকট: মাত্র ৯৬ ঘণ্টায় ফুরিয়ে গেল ১৮ মাসের মজুত!
ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক বিশ্বখ্যাত থিংক ট্যাংক 'ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট' (FPRI) তাদের এক সাম্প্রতিক ও চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে ইরান যুদ্ধের এক ভয়াবহ সামরিক চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম মাত্র ৪ দিনে (৯৬ ঘণ্টা) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে পরিমাণ অত্যাধুনিক মিসাইল ও অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেছে, তা দেশ দুটির সামরিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের ব্যবহার দেশ দুটির দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সক্ষমতাকে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
FPRI-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অভিযানের প্রথম ৪ দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মোট ৩৫ ধরনের ৫ হাজার ১৯৭টি অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর ফলে উভয় দেশের প্রতিরক্ষা কারখানায় থাকা জরুরি মজুত (Stockpile) আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। নিচে এই সংকটের একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হলো:
| অস্ত্রের নাম | ব্যবহৃত সংখ্যা (৪ দিনে) | ঘাটতি পূরণে প্রয়োজনীয় সময় |
|---|---|---|
| প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর | ৯৪৩টি | ১৮ মাস (দেড় বছর) |
| টমাহক ক্রুজ মিসাইল | ৩৭৫টি | ৫৩ মাস (সাড়ে ৪ বছর) |
| অ্যারো (Arrow) ইসরায়েল | ৫০% মজুত শেষ | ৩২ মাস (২.৬ বছর) |
| বাঙ্কার-বাস্টার (GBU-57) | ৮টি | ২ বছরের বেশি |
শুধুমাত্র যুদ্ধাস্ত্রের ঘাটতি পূরণ করতেই পেন্টাগনের খরচ হবে ১০ থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে উন্নত রাডার ধ্বংস হওয়া এবং ১১টি MQ-9 Reaper ড্রোন হারানো আমেরিকার জন্য এক বড় ধরনের সামরিক বিপর্যয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হিসাবের মধ্যে সামরিক ঘাঁটির অবকাঠামো বা উচ্চ প্রযুক্তির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যদি সেই হিসাব ধরা হয়, তবে ক্ষতির পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সবচেয়ে বড় বিপদের কথা হলো, এই মিসাইলগুলো উচ্চ প্রযুক্তির হওয়ায় এগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল। কোনোভাবেই চাইলেই রাতারাতি এর উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। ফলে ইরান যদি যুদ্ধের এই তীব্রতা বজায় রাখতে পারে, তবে আমেরিকা ও ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে।