দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে কি পরমাণু বোমা দাগবে ইসরাইল? জেনে নিন ভয়ংকর 'স্যামসন নীতি' ও ডিমোনার গোপন রহস্য।

ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন অগ্নিগর্ভ। এই অবস্থায় বিশ্বজুড়ে একটিই প্রশ্ন—দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে ইসরাইল কি তাদের গোপন পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে? জানুন ইসরাইলের আত্মঘাতী 'স্যামসন নীতি' ও ডিমোনার অজানা ইতিহাস।

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে কি পরমাণু বোমা দাগবে ইসরাইল? জেনে নিন ভয়ংকর 'স্যামসন নীতি' ও ডিমোনার গোপন রহস্য

স্যামসন নীতি: "আমি মরবো, তবে সবাইকে নিয়ে"

ইসরাইলের পরমাণু নীতির মূলে রয়েছে বাইবেলের বীর যোদ্ধা স্যামসনের কাহিনী। শত্রু পরিবেষ্টিত স্যামসন যখন বুঝতে পেরেছিলেন তার মৃত্যু নিশ্চিত, তখন তিনি মন্দিরের স্তম্ভ ভেঙে দিয়ে নিজে মরার পাশাপাশি হাজার হাজার শত্রুকেও ধ্বংস করেছিলেন। ইসরাইলের সামরিক দর্শনে এই 'স্যামসন নীতি' (Samson Option) মানে হলো—যদি কখনো আরব দেশ বা শত্রুদের আক্রমণে ইসরাইলের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়, তবে তারা তাদের মজুদ করা পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করে শত্রুদের চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। সহজ কথায়, "আমরা একা মরবো না, শত্রুদের সাথে নিয়ে মরবো।"

Chronicle Point-এর গভীর বিশ্লেষণ: ইসরাইল সরকারিভাবে কখনো স্বীকার করেনি যে তাদের কাছে পরমাণু অস্ত্র আছে, একে বলা হয় 'নিউক্লিয়ার অ্যাম্বিগুইটি পলিসি'। তবে নেগেব মরুভূমির ডিমোনা (Dimona) রিয়্যাক্টর নিয়ে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে অন্তত পাঁচটি অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। ১৯৮৬ সালে ডিমোনার টেকনিশিয়ান মরদেকাই ভানুনু ৫৭টি গোপন ছবি ফাঁস করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন। এছাড়া ১৯৭৯ সালের 'ভেলা ইনসিডেন্ট' দক্ষিণ আটলান্টিকে ইসরাইলের গোপন পরমাণু পরীক্ষার এক বড় ইঙ্গিত হিসেবে গণ্য হয়।

ডিমোনা: যেখানে তৈরি হয় ধ্বংসের নীল নকশা

১৯৫০-এর দশকে ফ্রান্সের সহায়তায় নির্মিত এই ডিমোনা রিয়্যাক্টরটি বাইরে থেকে সাধারণ গবেষণা কেন্দ্র মনে হলেও এর মাটির তলায় রয়েছে প্লুটোনিয়াম সেপারেশন প্ল্যান্ট। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ইসরাইলের কাছে বর্তমানে ৮০ থেকে ৯০টি সচল পরমাণু ওয়ারহেড রয়েছে এবং আরও কয়েকশ বানানোর কাঁচামাল মজুদ আছে। বর্তমানে ইরান যদি ডিমোনায় সুপারসোনিক মিসাইল দিয়ে হামলা চালায়, তবে ইসরাইল কি তাদের 'লাস্ট রিসোর্ট' হিসেবে পরমাণু বোমার বোতাম টিপে দেবে? এই আশঙ্কাই এখন বিশ্ববাসীকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে অসন্তোষ ও পদত্যাগ

২০২৬ সালের এই ভয়াবহ যুদ্ধের প্রতিবাদে খোদ ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরেই ফাটল দেখা দিয়েছে। আমেরিকার ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের প্রধান জো কেন্ট যুদ্ধের প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইরান আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি ছিল না; বরং ইসরাইল লবির চাপে আমেরিকা এই অমানবিক যুদ্ধে জড়িয়েছে। এমনকি ট্রাম্পের কড়া সমর্থক সাংবাদিক টাকার কার্লসনও এখন এই যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করছেন।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)

১. ইসরাইলের কাছে কতটি পরমাণু বোমা আছে?
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুযায়ী, ইসরাইলের কাছে বর্তমানে ৮০ থেকে ৯০টি সচল পরমাণু ওয়ারহেড থাকার সম্ভাবনা প্রবল।

২. স্যামসন অপশন বলতে আসলে কী বোঝায়?
এটি ইসরাইলের একটি আত্মঘাতী প্রতিরক্ষা নীতি। যদি দেশটি অস্তিত্ব সংকটে পড়ে, তবে তারা শত্রুদের ধ্বংস করতে পরমাণু হামলা চালাবে, এমনকি তাতে নিজেরা ধ্বংস হয়ে গেলেও।

৩. ডিমোনা রিয়্যাক্টরটি কোথায় অবস্থিত?
এটি ইসরাইলের নেগেব মরুভূমির বিয়ারসিবা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এটিই দেশটির পরমাণু গবেষণার মূল কেন্দ্র।

/* 'async' ব্যবহার করা হয়েছে যাতে মেইন সাইট লোড হতে দেরি না হয় */