জেফ্রি অ্যাপস্টাইন রহস্য: পর্দার আড়ালে কে এই ফ্রন্টম্যান? আশকেনাজি ইহুদি নেটওয়ার্ক ও বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের ভয়ংকর নীল নকশা

জেফ্রি অ্যাপস্টাইন—যিনি কোনো বড় কোম্পানির মালিক ছিলেন না, ছিল না কোনো বিশেষ ডিগ্রি। তবুও কীভাবে তিনি বিশ্বের ক্ষমতাধর বিলিয়নেয়ার এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের সাথে ওঠাবসা করতেন? Chronicle Point-এর বিশেষ প্রতিবেদনে উন্মোচিত হচ্ছে অ্যাপস্টাইনের জীবনের অন্ধকার অধ্যায়।

জেফ্রি অ্যাপস্টাইন রহস্য: পর্দার আড়ালে কে এই ফ্রন্টম্যান? আশকেনাজি ইহুদি নেটওয়ার্ক ও বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের ভয়ংকর নীল নকশা

ডিগ্রিহীন শিক্ষক থেকে ওয়াল স্ট্রিটের পার্টনার: এক অতিপ্রাকৃত উত্থান

জেফ্রি অ্যাপস্টাইনের ক্যারিয়ার শুরু হয় ১৯৭৪ সালে নিউইয়র্কের ডেল্টন স্কুলে ফিজিক্স ও ম্যাথ শিক্ষক হিসেবে। মজার ব্যাপার হলো, মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি এই পদে যোগ দেন কোনো ডিগ্রি ছাড়াই! তিনি ছিলেন একজন কলেজ ড্রপআউট। অনেকের মতে, এটি ছিল ধনী পরিবারের সন্তানদের সাথে মিশে তাদের বাবা-মাদের (যারা প্রভাবশালী বিজনেসম্যান) কাছে পৌঁছানোর একটি কৌশল। পরবর্তীতে মাস্টার ম্যানিপুলেটর অ্যাপস্টাইন কোনো যোগ্যতা ছাড়াই ওয়াল স্ট্রিটের বিখ্যাত ফার্ম 'বেয়ার স্টার্নস'-এর পার্টনার হয়ে যান।

Chronicle Point-এর গভীর বিশ্লেষণ: অ্যাপস্টাইন কেবল একজন চতুর মানুষ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অংশ। তাকে 'ডগলাস লিস' নামক এক রহস্যময় ব্যক্তির মেন্টরশিপে তৈরি করা হয়েছিল, যিনি সিআইএ (CIA) এবং এমআই সিক্স (MI6)-এর সাথে যুক্ত ছিলেন। অ্যাপস্টাইনের কাজ ছিল প্রভাবশালী ব্যক্তিদের 'হানি ট্র্যাপ' বা যৌন কেলেঙ্কারিতে ফাঁসিয়ে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা। এটি মূলত একটি 'ডিপ স্টেট' (Deep State) প্রজেক্ট, যা বিশ্ব নেতাদের ব্ল্যাকমেইল করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

আশকেনাজি ইহুদি নেটওয়ার্ক ও মোসাদ কানেকশন

অ্যাপস্টাইনের পারিবারিক ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় তিনি একজন 'আশকেনাজি ইহুদি' (Ashkenazi Jew)। এই ব্লাডলাইনের সাথে যুক্ত ছিলেন তার অনেক ব্যবসায়িক পার্টনার যেমন লেস ওয়েক্সনার (ভিক্টোরিয়া সিক্রেট-এর মালিক) এবং এস গ্রিনবার্গ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিলিয়নেয়ার লেস ওয়েক্সনার ১৯৯১ সালে তার যাবতীয় সম্পদের 'ফুল পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি' অ্যাপস্টাইনের হাতে তুলে দেন। এই বিপুল অর্থ মূলত ব্যবহৃত হতো মোসাদের (Mossad) হয়ে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালাতে এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আধিপত্য রক্ষা করতে।

লিটল সেন্ট জেমস: দ্বীপটি যখন ট্র্যাপ হাউস

১৯৯৮ সালে অ্যাপস্টাইন প্রায় ৮ মিলিয়ন ডলারে 'লিটল সেন্ট জেমস' দ্বীপটি কিনে নেন। এখানে তিনি বিল ক্লিনটন, বিল গেটস, ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রিন্স অ্যান্ড্রু-এর মতো ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানাতেন। দ্বীপের প্রতিটি কোণে গোপন ক্যামেরা বসানো ছিল। উদ্দেশ্য ছিল—এসব ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের আপত্তিকর কাজে লিপ্ত করে সেই ফুটেজ দিয়ে সারাজীবন তাদের ব্ল্যাকমেইল করা। অ্যাপস্টাইনের সাথে এই কাজে সরাসরি যুক্ত ছিলেন গিসলেন ম্যাক্সওয়েল, যিনি মোসাদের সুপার স্পাই রবার্ট ম্যাক্সওয়েলের মেয়ে।

সচরাচর জিজ্ঞাস্য (FAQ)

১. অ্যাপস্টাইন কি সত্যিই আত্মহত্যা করেছিলেন?
২০১৯ সালে কারাগারে তার মৃত্যুকে 'আত্মহত্যা' বলা হলেও অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ মৃত ব্যক্তির ওপর কোনো বিচার চলে না এবং এতে অনেক ক্ষমতাধরের নাম গোপন রয়ে যায়।

২. অ্যাপস্টাইন ফাইলের সাথে সেলিব্রেটিদের সম্পর্ক কী?
অ্যাপস্টাইন ফাইল লিক হওয়ার পর দেখা গেছে, বিশ্বের অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি তার দ্বীপে যাতায়াত করতেন। অনেক ক্ষেত্রে সেলিব্রেটিদের এই নেটওয়ার্কে বাধ্য করা হতো অথবা ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হতো।

৩. আশকেনাজি ইহুদি কারা?
তারা মূলত প্রাচীন খাজার সাম্রাজ্যের বংশধর যারা পরবর্তীতে ইহুদি ধর্মে ধর্মান্তরিত হয়। বর্তমানে বিশ্বের ব্যাংকিং সিস্টেম এবং প্রভাবশালী অনেক বড় পরিবার এই ব্লাডলাইনের সাথে যুক্ত বলে ধারণা করা হয়।