লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তি ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে চরম বৈপরীত্য। ফিলিস্তিনের পাশে লুলা দা সিলভা এবং ইসরায়েলের পক্ষে জাভিয়ের মাইলির ভূরাজনৈতিক অবস্থানের এক অনন্য ও বিস্তারিত রিপোর্ট।

ফিলিস্তিনের পক্ষে ব্রাজিলের অনড় অবস্থান বনাম ইসরায়েলের পক্ষে আর্জেন্টিনার নগ্ন দালালি: লাতিন আমেরিকার ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা
📅 Jun 2026

ফিলিস্তিনের পক্ষে ব্রাজিলের অনড় অবস্থান বনাম ইসরায়েলের পক্ষে আর্জেন্টিনার নগ্ন দালালি: লাতিন আমেরিকার ভূরাজনীতিতে চরম উত্তেজনা

📅 ১৬ জুন, ২০২৬ | ✍️ বিশেষ প্রতিনিধি, Chronicle Point

লাতিন আমেরিকার ভূরাজনীতিতে চিরবৈরী দুই পরাশক্তি ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা ফুটবল মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে এবার বিশ্ব রাজনীতির এক চরম সংঘাতময় মুখোমুখি অবস্থানে অবতীর্ণ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি সংকটকে কেন্দ্র করে এই দুই দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানদের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করছে। একদিকে ব্রাজিলের বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের পক্ষে এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার কট্টর ডানপন্থী, অ্যানার্কো-কপিটালিস্ট প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মাইলি সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইসরায়েলের পক্ষে প্রকাশ্য ও নগ্ন দালালি শুরু করেছেন। এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থান কেবল লাতিন আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকেই উত্তপ্ত করেনি, বরং তা গ্লোবাল সাউথ এবং পশ্চিমা অক্ষের মধ্যকার বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে এক নতুন রূপ দিয়েছে। ক্রনিকল পয়েন্টের এই বিশেষ ও দীর্ঘ প্রতিবেদনে আমরা বিশ্লেষণ করব কীভাবে এই দুই দেশের ঐতিহাসিক ও বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে এক নতুন বিশ্বযুদ্ধের আবহ তৈরি করছে।

১. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও লাতিন আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্য নীতি

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতিতে মধ্যপ্রাচ্য সবসময়ই একটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে এসেছে। ঐতিহাসিকভাবে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা উভয়েই একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের চেষ্টা করে এসেছে, যেখানে ফিলিস্তিনের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার—উভয়কেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। বিগত দশকগুলোতে বামপন্থী ও প্রগতিশীল সরকারগুলোর আমলে এই অঞ্চলের দেশগুলো ফিলিস্তিনের প্রতি অধিকতর সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্জেন্টিনার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এই ধারাবাহিকতায় এক বিশাল ধাক্কা দিয়েছে। জাভিয়ের মাইলির ক্ষমতায় আগমন আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিকে এক ঝটকায় আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে। তিনি আর্জেন্টিনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের কট্টর অনুসারী রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন, যা লাতিন আমেরিকার আঞ্চলিক সংহতিকে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করেছে।

২. ব্রাজিলের ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান ও লুলা দা সিলভার সাহসী নেতৃত্ব

ব্রাজিলের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের পক্ষে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছেন। গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা, শিশু ও নারী হত্যা এবং বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের বিরুদ্ধে লুলা আন্তর্জাতিক মঞ্চে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন। তিনি গাজার এই নির্মমতাকে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্টতম গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। লুলার এই সাহসী অবস্থান কেবল কথার কথায় সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তিনি ব্রাজিলের পররাষ্ট্রনীতিতে এর বাস্তব প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা ইসরায়েল বিরোধী গণহত্যার মামলায় ব্রাজিল সরাসরি সমর্থন জানিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে এক বিশাল মনস্তাত্ত্বিক ও আইনি বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

৩. হিটলারের সাথে নেতানিয়াহুর তুলনা: লুলার সেই ঐতিহাসিক মন্তব্য

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা আফ্রিকান ইউনিয়নের এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এডলফ হিটলারের নাৎসি বাহিনীর সাথে তুলনা করেন। লুলা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেন যে, গাজায় আজ যা ঘটছে তা কোনো সাধারণ যুদ্ধ নয়, এটি হচ্ছে একটি সুপরিকল্পিত গণহত্যা, ঠিক যেভাবে হিটলার ইহুদিদের নিধন করেছিলেন। এই মন্তব্যটি বিশ্ব রাজনীতিতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করে। ইসরায়েল সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লুলাকে তাদের দেশে 'পারসোনা নন গ্রাটা' বা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। কিন্তু লুলা নিজের অবস্থান থেকে এক চুলও নড়েননি, বরং তিনি বারবার পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে সত্য বলতে তিনি কাউকেই ভয় পান না এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ব্রাজিলের এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

৪. আর্জেন্টিনার নগ্ন রূপান্তর: জাভিয়ের মাইলির কট্টর ইসরায়েলপন্থী নীতি

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মাইলি নিজেকে একজন অন্ধ ইসরায়েলপন্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি নিজেকে আর্জেন্টিনার 'ডোনাল্ড ট্রাম্প' হিসেবে প্রমাণ করতে মরিয়া। মাইলির এই ইসরায়েলপন্থী অবস্থান কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি তার ব্যক্তিগত ও আদর্শিক অন্ধত্বের বহিঃপ্রকাশ। তিনি ক্যাথলিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও বর্তমানে ইহুদি ধর্মের প্রতি প্রচণ্ডভাবে আকৃষ্ট এবং তিনি প্রকাশ্যে তোরাহ পাঠ করেন ও ইসরায়েলি কট্টরপন্থী র্যাবাইদের পরামর্শ গ্রহণ করেন। গাজায় যখন হাজার হাজার নিরীহ ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করা হচ্ছে, তখন জাভিয়ের মাইলি ইসরায়েল সফর করে নেতানিয়াহুর সাথে কোলাকুলি করছেন এবং ইসরায়েলের প্রতিটি সামরিক পদক্ষেপকে আত্মরক্ষার অধিকার বলে দালালি করছেন, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তীব্র নিন্দার শিকার হয়েছে।

৫. তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস স্থানান্তরের বিতর্কিত ঘোষণা

জাভিয়ের মাইলি ক্ষমতাপ্রাপ্ত হওয়ার পরপরই ঘোষণা করেন যে আর্জেন্টিনার দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে বিতর্কিত শহর জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়া হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী জেরুজালেম একটি বিতর্কিত এবং অধিকৃত এলাকা, যেখানে কোনো দেশের দূতাবাস স্থাপন ফিলিস্তিনিদের অধিকারকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করার শামিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর মাইলিই প্রথম কোনো বড় লাতিন আমেরিকান দেশের নেতা যিনি এই ধরনের আত্মঘাতী এবং উসকানিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরে এবং ল্যাটিন আমেরিকার অন্যান্য দেশে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা হয়েছে, এমনকি ব্রিটিশ কোম্পানির সাথে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের তেল নিষ্কাশন সংক্রান্ত জটিলতায় এটি কিছুটা ঝুলে রয়েছে, তবুও মাইলির এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে তিনি ফিলিস্তিনিদের রক্ত নিয়ে ইসরায়েলের সাথে রাজনৈতিক বাণিজ্য করতে কতটা প্রস্তুত।

৬. গ্লোবাল সাউথ বনাম পশ্চিমা অক্ষের ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার এই বিপরীতমুখী অবস্থান আসলে বর্তমান বিশ্বের একটি বড় ভূরাজনৈতিক বিভাজনকে নির্দেশ করে। ব্রাজিল হচ্ছে 'গ্লোবাল সাউথ' বা উন্নয়নশীল বিশ্বের অন্যতম প্রধান মুখপাত্র। ব্রিকস (BRICS) জোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে ব্রাজিল একটি বহুপাক্ষিক বিশ্ব ব্যবস্থা চায়, যেখানে পশ্চিমা দেশগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য থাকবে না। ফিলিস্তিনের পক্ষে ব্রাজিলের অবস্থান এই গ্লোবাল সাউথেরই সম্মিলিত কণ্ঠস্বর। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনা জাভিয়ের মাইলির অধীনে ব্রিকস জোটে যোগদানের আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং নিজেদের সম্পূর্ণভাবে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব অক্ষের সাথে বিলীন করে দিয়েছে। মাইলি মনে করেন আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক মুক্তির চাবিকাঠি পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের দাসত্ব করার মধ্যেই নিহিত, যা আর্জেন্টিনাকে তার নিজস্ব অঞ্চলেই ক্রমান্বয়ে একঘরে করে ফেলছে।

৭. ব্রিকস (BRICS) এবং নতুন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সমীকরণ

ব্রাজিল যখন ব্রিকসকে শক্তিশালী করে মার্কিন ডলারের আধিপত্য কমানোর এবং একটি নতুন অর্থনৈতিক বিকল্প গড়ে তোলার লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে, তখন আর্জেন্টিনা সেই ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া করেছে। পূর্ববর্তী আলবার্তো ফার্নান্দেজের সরকার ব্রিকসে যোগদানের সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও মাইলি ক্ষমতায় এসেই তা বাতিল করে দেন। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো যেমন চীন, রাশিয়া, ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা—সবাই কোনো না কোনোভাবে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে এবং মার্কিন-ইসরায়েলি একাধিপত্যের বিরুদ্ধে। ব্রাজিল এই জোটকে ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার এবং ইসরায়েলের ওপর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। আর্জেন্টিনার এই জোট থেকে দূরে থাকা এবং ইসরায়েলের দালালি করা মূলত গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোর পিঠে ছুরিকাঘাত করার শামিল।

৮. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্যাক্টর ও মাইলির ভবিষ্যৎ কৌশল

জাভিয়ের মাইলির পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি তার অন্ধ আনুগত্য। মাইলি বিশ্বাস করেন যে বিশ্বজুড়ে কট্টর ডানপন্থী ও পপুলিস্ট নেতাদের যে উত্থান ঘটছে, তিনি তার লাতিন আমেরিকান প্রতিনিধি। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আসার পর মাইলির এই কট্টরপন্থী ইসরায়েল ও আমেরিকা নীতি আরও গতি পেয়েছে। তিনি আমেরিকার সাথে একটি বিশেষ কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক চুক্তি করার জন্য মুখিয়ে আছেন। ওয়াশিংটনের সবুজ সংকেত পেতেই তিনি মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের প্রতিটি নৃশংসতাকে বৈধতা দিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওকালতি করে যাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তিনি আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বকে আমেরিকার কাছে বন্ধক রাখছেন বলে দেশের ভেতরেই তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

৯. লাতিন আমেরিকার আঞ্চলিক অর্থনীতি ও মারকোসুরের (Mercosur) ওপর প্রভাব

ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার এই রাজনৈতিক বৈরিতা লাতিন আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনৈতিক ব্লক 'মারকোসুর' (Mercosur)-এর ওপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মারকোসুরের প্রধান দুই স্তম্ভ হলো এই দুই দেশ। লুলা এবং মাইলির মধ্যে কোনো ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা সরাসরি সংলাপ নেই বললেই চলে। মাইলি লুলাকে একজন 'দুর্নীতিগ্রস্ত কমিউনিস্ট' বলে গালি দিয়েছেন, আর লুলা মাইলির উগ্র আচরণকে লাতিন আমেরিকার স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি মনে করেন। মধ্যপ্রাচ্য নীতি এবং ফিলিস্তিন ইস্যু নিয়ে এই দুই নেতার চরম দ্বন্দ্ব মারকোসুরের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রক্রিয়াকে ধীরগতির করে দিয়েছে। ব্রাজিলের ব্যবসায়িক মহল মাইলির এই উগ্র ইসরায়েলপন্থী ও চীনবিরোধী নীতির কারণে আঞ্চলিক বাণিজ্য যুদ্ধের আশঙ্কা করছে।

১০. আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও মাইলির তীব্র অর্থনৈতিক সংকট

জাভিয়ের মাইলি যখন আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইসরায়েলের পক্ষে দালালি করতে এবং বিশ্বভ্রমণ করতে ব্যস্ত, তখন আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সম্পূর্ণ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। তিনি 'চেইনসো নীতি' বা গণহারে সরকারি ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। দেশের মুদ্রাস্ফীতি এবং দারিদ্র্যের হার চরম আকার ধারণ করেছে। আর্জেন্টিনার সাধারণ মানুষ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো মাইলির এই পররাষ্ট্রনীতিকে একটি 'গণবিরোধী স্টান্ট' হিসেবে দেখছে। দেশের ভেতরে তীব্র অর্থনৈতিক কষ্টের মধ্যে প্রেসিডেন্ট কেন ফিলিস্তিনিদের অধিকার হরণকারী একটি দেশের পক্ষে এত মরিয়া হয়ে কাজ করছেন, তা নিয়ে আর্জেন্টিনার রাস্তায় রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ বিক্ষোভ করছে। সাধারণ আর্জেন্টাইনরা মনে করেন, ইসরায়েলের দালালি করে মাইলি মূলত দেশের মূল সংকট থেকে মানুষের চোখ অন্য দিকে সরাতে চান।

১১. ফিলিস্তিন সংকটে ব্রাজিলের কূটনৈতিক ও মানবিক সাহায্য

ব্রাজিল কেবল আন্তর্জাতিক ফোরামে ভাষণ দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, বরং গাজার অবরুদ্ধ এবং অনাহারক্লিষ্ট মানুষের জন্য নিয়মিত মানবিক সাহায্য পাঠাচ্ছে। ব্রাজিলের বিমানবাহিনী এবং রেড ক্রিসেন্টের মাধ্যমে টন টন খাদ্য, ওষুধ এবং জরুরি সামগ্রী মিশরের রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও, ব্রাজিল লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশগুলোকে সাথে নিয়ে একটি ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট গঠনের চেষ্টা করছে, যা ইসরায়েলের ওপর অনতিবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। লুলার কূটনৈতিক তৎপরতার কারণে চিলি, কলম্বিয়া এবং বলিভিয়ার মতো লাতিন আমেরিকান দেশগুলোও ইসরায়েলের সাথে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন বা রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে, যার ফলে এই অঞ্চলে ইসরায়েল সম্পূর্ণ কূটনৈতিকভাবে একাকী হয়ে পড়েছে।

১২. আর্জেন্টিনার ফিলিস্তিন বিরোধী ভোট ও আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যখনই ফিলিস্তিনে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ বা ফিলিস্তিনকে জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার বিষয়ে কোনো প্রস্তাব আনা হয়েছে, আর্জেন্টিনা জাভিয়ের মাইলির নির্দেশে তার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে অথবা ভোটদানে বিরত থেকেছে। এই ধরনের ভোট আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী কূটনৈতিক ইতিহাসের সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এর আগে আর্জেন্টিনার কোনো সরকারই এভাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের বিপক্ষে ভোট দেয়নি। মাইলির এই একগুঁয়ে নীতির কারণে আর্জেন্টিনা আজ বিশ্ব দরবারে একটি দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং উগ্র রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এশিয়ার বহু বন্ধুভাবাপন্ন দেশ আর্জেন্টিনার এই চরমপন্থী অবস্থানে বিস্ময় ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

১৩. ইসরায়েলি লবিং ও আর্জেন্টিনার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ

ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাভিয়ের মাইলির এই অন্ধ ইসরায়েল প্রীতির পেছনে গভীর অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ লুকিয়ে রয়েছে। আর্জেন্টিনার উত্তর ফ্রন্টে রয়েছে বিপুল পরিমাণ লিথিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার, যা আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। ইসরায়েলি এবং মার্কিন বহুজাতিক কোম্পানিগুলো আর্জেন্টিনার এই প্রাকৃতিক সম্পদ নামমাত্র মূল্যে লুটে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। মাইলি তার দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার বাহানায় এই সমস্ত খনিজ সম্পদ ইসরায়েলি ও পশ্চিমা পুঁজিবাদের হাতে তুলে দেওয়ার লাইসেন্স দিচ্ছেন। ফলস্বরূপ, ইসরায়েলের পক্ষে মাইলির এই দালালি আসলে কোনো আদর্শিক বিষয় নয়, বরং এটি হচ্ছে আর্জেন্টিনার জাতীয় সম্পদ বিক্রি করার একটি আন্তর্জাতিক লবিং প্রক্রিয়ার অংশ।

১৪. লাতিন আমেরিকার ভবিষ্যৎ এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুন যদি লাতিন আমেরিকার দুই পরাশক্তিকে স্থায়ীভাবে শত্রুতে পরিণত করে, তবে তা এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে চিরতরে নস্যাৎ করবে। একদিকে ব্রাজিল, চীন ও রাশিয়ার অক্ষ, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা, আমেরিকা ও ইসরায়েলের অক্ষ—এই দুই ব্লকের তৈরি হওয়া লাতিন আমেরিকাকে একটি নতুন শীতল যুদ্ধের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক বা বিশ্বযুদ্ধে রূপ নেয়, তবে লাতিন আমেরিকার এই দুই দেশ সরাসরি সামরিক বা কৌশলগতভাবে দুই পক্ষে জড়িয়ে পড়তে পারে। মাইলির উসকানিমূলক নীতি এই অঞ্চলের শান্তিপ্রিয় দেশগুলোর জন্য একটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

১৫. ফিলিস্তিনের মুক্তি এবং লাতিন আমেরিকার ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা

পরিশেষে বলা যায়, ফিলিস্তিনের মুক্তি সংগ্রাম কেবল মধ্যপ্রাচ্যের কোনো আঞ্চলিক বিষয় নয়, এটি বিশ্বজুড়ে শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের আত্মমর্যাদার লড়াই। লাতিন আমেরিকার দেশগুলো নিজেরা একসময় পশ্চিমা উপনিবেশবাদ এবং সাম্রাজ্যবাদী একনায়কতন্ত্রের শিকার হয়েছিল, তাই ফিলিস্তিনিদের এই বেদনার সাথে তাদের একটি ঐতিহাসিক ও আত্মিক যোগাযোগ রয়েছে। ব্রাজিল সেই ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা থেকে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং বিশ্বকে দেখিয়েছে কীভাবে একটি পরাশক্তি না হয়েও নৈতিকতার শীর্ষে অবস্থান করা যায়। অপরদিকে, আর্জেন্টিনা মাইলির নেতৃত্বে সাময়িকভাবে ইসরায়েলের দালালি করলেও, আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের বিপ্লবী জনতা এবং ল্যাটিন আমেরিকার প্রগতিশীল শক্তি এই নগ্ন আত্মসমর্পণকে মেনে নেবে না। ইতিহাস প্রমাণ করবে যে, শোষকের পক্ষে দালালি করা নয়, বরং শোষিতের পক্ষে দাঁড়ানোই ছিল একমাত্র সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত পথ।

Chronicle Point Analysis:

  • ১. কূটনৈতিক মেরুকরণ: ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার বর্তমান সম্পর্ক লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও আদর্শিক মেরুকরণকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
  • ২. লুলার বিশ্বজনীন নেতৃত্ব: ফিলিস্তিনের পক্ষে দাঁড়িয়ে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা নিজেকে গ্লোবাল সাউথের একজন অবিসংবাদিত এবং সাহসী নেতা হিসেবে পুনর্প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
  • ৩. মাইলির চরমপন্থী নীতি: জাভিয়ের মাইলির ইসরায়েলপন্থী পররাষ্ট্রনীতি মূলত আর্জেন্টিনার দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে ক্ষণস্থায়ী পশ্চিমা সমর্থনের সস্তা চেষ্টা।
  • ৪. আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: জেরুজালেমে আর্জেন্টিনার দূতাবাস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের রেজোলিউশনের পরিপন্থী, যা আর্জেন্টিনার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে।
  • ৫. ব্রিকসের গুরুত্ব হ্রাস: আর্জেন্টিনার ব্রিকসে যোগ না দেওয়া এবং ব্রাজিলের ব্রিকসকে শক্তিশালী করার প্রয়াস প্রমাণ করে যে লাতিন আমেরিকা অর্থনৈতিকভাবে দুই ভাগে বিভক্ত।
  • ৬. মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রভাব: মাইলির প্রতিটি পদক্ষেপ ওয়াশিংটন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা লাতিন আমেরিকার কৌশলগত স্বাতন্ত্র্যকে বিপন্ন করছে।
  • ৭. মানবিকতার জয় বনাম স্বার্থপরতা: গাজায় ব্রাজিলের মানবিক সাহায্য পাঠানো যেখানে প্রশংসিত, সেখানে জাতিসংঘের প্রস্তাবে আর্জেন্টিনার বিরোধিতা তাদের আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করছে।
  • ৮. আঞ্চলিক বাণিজ্যে স্থবিরতা: দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যকার চরম ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বৈরিতা মারকোসুর বাণিজ্যের গতিকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
  • ৯. খনিজ সম্পদের রাজনীতি: আর্জেন্টিনার লিথিয়াম ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর পশ্চিমা এবং ইসরায়েলি কোম্পানিগুলোর নজর মাইলির এই নগ্ন দালালি নীতির অন্যতম মূল কারণ।
  • ১০. জনবিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা: আর্জেন্টিনার অভ্যন্তরীণ চরম অর্থনৈতিক মন্দা এবং মাইলির ইসরায়েল প্রীতি দেশের ভেতরে এক বড় ধরনের গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করছে।
  • ১১. নাৎসি তুলনা ও নৈতিক অবস্থান: হিটলারের সাথে নেতানিয়াহুর তুলনা করে লুলা বিশ্বের বুকে পশ্চিমা দ্বিমুখী নীতিকে সাহসের সাথে নগ্ন করে দিয়েছেন।
  • ১২. লাতিন আমেরিকার একাকীত্বে ইসরায়েল: ব্রাজিল, বলিভিয়া, চিলি এবং কলম্বিয়ার কড়া অবস্থানের কারণে লাতিন আমেরিকায় ইসরায়েল আজ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধুহীন, একমাত্র ব্যতিক্রম আর্জেন্টিনা।
  • ১৩. ডলারে আধিপত্যের লড়াই: ব্রাজিল যখন বিকল্প মুদ্রার কথা ভাবছে, আর্জেন্টিনা তখন নিজের অর্থনীতিকে ডলারে রূপান্তর করতে চাইছে, যা এক বিশাল অর্থনৈতিক বৈপরীত্য।
  • ১৪. নতুন শীতল যুদ্ধের পদধ্বনি: এই দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থান লাতিন আমেরিকাকে চীন-রাশিয়া অক্ষ বনাম মার্কিন-ইসরায়েল অক্ষের প্রক্সি ওয়ারের ময়দানে পরিণত করতে পারে।
  • ১৫. ইতিহাসের অমোঘ রায়: ক্রনিকল পয়েন্ট মনে করে, আগ্রাসনের পক্ষে আর্জেন্টিনার এই দালালি সাময়িক, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার লড়াইয়ে ব্রাজিলের অনড় অবস্থানই ইতিহাসে চিরভাস্বর থাকবে।

পাঠকদের জিজ্ঞাসিত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

১. ফিলিস্তিন ইস্যুতে ব্রাজিলের প্রধান অবস্থান কী? ব্রাজিল ফিলিস্তিনের একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের অধিকারকে পূর্ণ সমর্থন করে এবং গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও গণহত্যার তীব্র বিরোধিতা করে। ২. আর্জেন্টিনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জাভিয়ের মাইলি কেন ইসরায়েলকে অন্ধভাবে সমর্থন করছেন? জাভিয়ের মাইলি আদর্শিকভাবে একজন কট্টর ডানপন্থী এবং মার্কিন-ইসরায়েল অক্ষের পরম অনুসারী। তিনি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণে ইসরায়েলের চরমপন্থী নীতিকে সমর্থন করছেন। ৩. ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ইসরায়েলকে নিয়ে কী মন্তব্য করেছিলেন? লুলা দা সিলভা গাজায় ইসরায়েলের নির্মমতাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের ইহুদি নিধনের (গণহত্যা) সাথে তুলনা করেছিলেন। ৪. ইসরায়েল লুলার মন্তব্যের পর কী পদক্ষেপ নিয়েছিল? ইসরায়েল সরকার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভাকে তাদের দেশে 'পারসোনা নন গ্রাটা' বা অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছিল। ৫. আর্জেন্টিনার দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করার তাৎপর্য কী? জেরুজালেম একটি বিতর্কিত ও আন্তর্জাতিকভাবে অধিকৃত শহর। সেখানে দূতাবাস নেওয়া মানে ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক দাবি ও আন্তর্জাতিক আইনকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করা। ৬. ব্রিকস (BRICS) জোট নিয়ে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের মধ্যে কী পার্থক্য তৈরি হয়েছে? ব্রাজিল ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে একে শক্তিশালী করছে, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা মাইলির অধীনে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেছে। ৭. চিলি বা কলম্বিয়ার মতো অন্যান্য লাতিন আমেরিকান দেশগুলোর অবস্থান কী? চিলি, কলম্বিয়া এবং বলিভিয়া ব্রাজিলের মতোই ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করেছে। ৮. মাইলির এই ইসরায়েলপন্থী নীতি আর্জেন্টিনার অর্থনীতিতে কী প্রভাব ফেলছে? এই নীতি আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক সংকট সমাধান করতে পারছে না, উল্টো দেশের মানুষ তীব্র মুদ্রাস্ফীতি ও দারিদ্র্যের মধ্যে মাইলির এই আন্তর্জাতিক স্টান্টের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে। ৯. লিথিয়াম বা প্রাকৃতিক সম্পদের সাথে মাইলির এই নীতির সম্পর্ক কী? বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনার লিথিয়াম ও খনিজ সম্পদ মার্কিন এবং ইসরায়েলি বহুজাতিক কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার বিনিময়ে মাইলি এই রাজনৈতিক দালালি করছেন। ১০. মারকোসুর (Mercosur) জোটে এর কী প্রভাব পড়ছে? লুলা এবং মাইলির মধ্যকার চরম রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দূরত্বের কারণে এই আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ব্লকের কার্যকারিতা এবং বাণিজ্য চুক্তিগুলো স্থবির হয়ে পড়েছে। ১১. ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে জাভিয়ের মাইলির সম্পর্ক কেমন? জাভিয়ের মাইলি নিজেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরম ভক্ত ও অনুসারী মনে করেন এবং ট্রাম্পের ডানপন্থী ও ইসরায়েলপন্থী নীতিকে লাতিন আমেরিকায় বাস্তবায়ন করতে চান। ১২. আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (ICJ) ব্রাজিলের ভূমিকা কী ছিল? ব্রাজিল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা ঐতিহাসিক গণহত্যা মামলাকে সরাসরি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন করেছে। ১৩. আর্জেন্টিনার সাধারণ মানুষ কি মাইলির এই পররাষ্ট্রনীতি সমর্থন করে? না, আর্জেন্টিনার একটি বিশাল অংশের সাধারণ মানুষ, বামপন্থী দল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো মাইলির এই ইসরায়েলপন্থী ও গণবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে তীব্র আন্দোলন করছে। ১৪. এই দুই দেশের দ্বন্দ্ব কি লাতিন আমেরিকায় নতুন যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে? সরাসরি যুদ্ধ না হলেও, এটি লাতিন আমেরিকাকে বিশ্বশক্তির প্রক্সি ওয়ার বা শীতল যুদ্ধের একটি নতুন ও বিপজ্জনক ক্ষেত্রে পরিণত করার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ১৫. ফিলিস্তিন সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে ব্রাজিলের প্রস্তাব কী? ব্রাজিল অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, গাজায় নির্বিঘ্নে মানবিক সাহায্য পৌঁছানো এবং ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবি জানায়।

SHARE THIS ARTICLE

Website Total View