ইরানের পাল্টা মিসাইল হামলায় কাঁপছে কুয়েত-বাহরাইন! ৮ মার্কিন ঘাঁটিতে বিধ্বংসী আঘাত, লেবাননে ইসরাইলের নতুন মানচিত্র ও ইরাকে ভয়াবহ রাজনৈতিক অভ্যুত্থান।

📅 Jun 2026

ব্রেকিং: ইরানের পাল্টা মিসাইল হামলায় কাঁপছে কুয়েত-বাহরাইন! লক্ষ্য ৮ মার্কিন ঘাঁটি

📅 ২৮ জুন, ২০২৬ | ✍️ বিশেষ প্রতিনিধি, Chronicle Point

ঢাকা ও বৈরুত: মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এক নজিরবিহীন এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে সরাসরি পাল্টা আঘাত হেনেছে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান। গতকাল রাতে ইরানের ছোঁড়া ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক মিসাইল ও আত্মঘাতী ড্রোনের আঘাতে কেঁপে উঠেছে কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো। বিশেষ করে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চম সদর দপ্তরসহ মোট আটটি প্রধান মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুকে গুঁড়িয়ে দিতে এই অপারেশন পরিচালনা করে তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির পরপরই ইরানের এই অসমসাহসী ও নজিরবিহীন পাল্টা হামলা সমগ্র বিশ্বকে এক সম্ভাব্য তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। একই সাথে লেবাননের সীমান্ত দখল করে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নতুন মানচিত্র প্রকাশ, সিরিয়ায় ইসরাইলের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ইরাকে আকস্মিক রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ও গণগ্রেপ্তার পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক বিশাল অগ্নিকুণ্ডে পরিণত করেছে। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা এই সামগ্রিক সংকটের প্রতিটি নেপথ্য ঘটনা ও গভীর ভূরাজনৈতিক সমীকরণ উন্মোচন করব।

১. কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের নজিরবিহীন ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় গতকাল রাতে এক দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সূচনা লক্ষ্য করা গেছে, যখন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে একের পর এক শক্তিশালী ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, মিসাইলগুলো আঘাত হানার সাথে সাথে কুয়েত ও বাহরাইনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। ইরানের এই আকস্মিক ও তীব্র আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে পঙ্গু করে দেওয়া। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত এলে তারা চুপ করে বসে থাকবে না এবং এই হামলা ছিল আমেরিকার সাম্প্রতিক আগ্রাসনের একটি সরাসরি ও যৌক্তিক জবাব। এই হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২. মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম সদর দপ্তর লক্ষ্য করে নিখুঁত আঘাত

বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম সদর দপ্তর (5th Fleet HQ) হলো পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখার প্রধান স্নায়ুকেন্দ্র। গতকাল রাতের হামলায় ইরান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এই পঞ্চম সদর দপ্তরকে টার্গেট করে মিসাইল বর্ষণ করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রধান নৌঘাঁটিতে আঘাত হানার মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করেছে যে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি অত্যন্ত উন্নত এবং তারা আমেরিকার যেকোনো সুরক্ষিত ঘাঁটিতে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে। হামলার সময় বাহরাইন ও কুয়েতের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং আকাশেই ইরানের ড্রোন ও মিসাইল প্রতিহত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। তবে হামলার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়, যা মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডকে (CENTCOM) বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

৩. ৮টি মার্কিন ঘাঁটিতে একযোগে অপারেশন: ইরানের ক্রাশিং রেসপন্স

তেহরানের সামরিক কমান্ড সেন্টারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অপারেশনের আওতায় কুয়েত, বাহরাইন এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মোট আটটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে একযোগে আক্রমণ চালানো হয়েছে। ইরান এই অপারেশনকে আমেরিকার বিরুদ্ধে তাদের "ক্রাশিং রেসপন্স" বা ভয়ঙ্কর প্রতিক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে কঠোরভাবে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে, আমেরিকা যদি এই হামলার পর আরও সামনে এগোতে চায় বা ইরানের ভূখণ্ডে নতুন কোনো আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করে, তবে এর চেয়েও শতগুণ ভয়ঙ্কর ও বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া জানাবে তেহরান। এই একযোগে আটটি ঘাঁটিতে হামলা চালানোর ঘটনাটি আমেরিকার সামরিক ইতিহাসে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে দিয়েছে।

৪. হরমুজ প্রণালীর সংঘাত ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিমান হামলার নেপথ্য কারণ

এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালীতে। আন্তর্জাতিক নিয়ম ও দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি বিদেশী জাহাজকে ইরানের নির্ধারিত সামুদ্রিক পথ ব্যবহার করতে হয় এবং প্রয়োজনীয় সার্ভিস চার্জ বা নিরাপত্তা কর প্রদান করতে হয়। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ইশারায় এবং প্ররোচনায় বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজ ইরানের দেখানো পথ অমান্য করে এবং কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ না দিয়ে জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার চেষ্টা করে। আমেরিকা মূলত অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে ইরানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঠকাতে এবং তাদের চুক্তিকে অকার্যকর করতে এই চাল চালছিল। কিন্তু ইরান তাদের এই আধিপত্যবাদী আচরণ মেনে নেয়নি। তারা পরপর দুইদিন ওই নিয়ম লঙ্ঘনকারী বিদেশী জাহাজগুলোর ওপর আক্রমণ চালায় এবং সেগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এর পাল্টা জবাব দিতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলার নির্দেশ দেন।

৫. ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি: 'মানচিত্র থেকে মুছে যাবে ইরান'

হরমুজ প্রণালীতে বিদেশী জাহাজে ইরানের আক্রমণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একটি দীর্ঘ ও আক্রমণাত্মক স্ট্যাটাস দিয়ে মার্কিন বিমান হামলার কথা স্বীকার করেন। ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বেআইনি কর্মকাণ্ডের শাস্তি হিসেবেই আমেরিকার ফাইটার জেটগুলো ইরানের অভ্যন্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দ্বীপে—কেশব দ্বীপ, সিরি দ্বীপ এবং বন্দর লেগেহ নামক সামরিক বন্দরে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে। সেখানে ইরানের রাডার সিস্টেম, ড্রোন কন্ট্রোল সেন্টার এবং ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোকে ধ্বংস করার দাবি করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। ট্রাম্প ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি আমেরিকার শর্ত ও কথা না শোনে, তবে সামরিক শক্তির মাধ্যমে তাদের কথা শোনাতে বাধ্য করা হবে। ট্রাম্পের বিবৃতির সবচেয়ে বিপজ্জনক অংশটি ছিল—"If that happens, Islamic Republic of Iran will no longer exist" অর্থাৎ এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের অস্তিত্বই মুছে দেওয়া হবে।

৬. বিশ্ব বাজারে মহাবিপর্যয়ের আশঙ্কা: হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এই সরাসরি সামরিক সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে চরম মন্দা ও মহাবিপর্যয়ের কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী হলো বিশ্বের মোট উৎপাদিত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশ পরিবহনের একমাত্র পথ। এই প্রণালীর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং কুয়েত-বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল হামলার খবরের সাথে সাথেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক লাফে রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই পাল্টাপাল্টি হামলা যদি দীর্ঘায়িত হয় এবং হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। এর ফলে মার্কিন অর্থনীতি থেকে শুরু করে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তিগুলোসহ সারা বিশ্বের ছোট-বড় প্রতিটি দেশ তীব্র মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হবে।

৭. গাজায় নতুন করে ইসরাইলি আগ্রাসন: তাবু ও বেসামরিকদের ওপর বোমাবর্ষণ

যখন পারস্য উপসাগরে আমেরিকা ও ইরান সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত, ঠিক তখনই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মূল ভূখণ্ডে নিজেদের নৃশংসতা বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। গত কয়েকদিন ধরে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নজিরবিহীন বিমান হামলা ও স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরাইলি ডিফেন্স ফোর্সেস (IDF)। ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো গাজার অনাহারী, আশ্রয়হীন এবং অনাথ মানুষদের অস্থায়ী তাবুগুলোকে লক্ষ্য করে একের পর এক ভারী বোমাবর্ষণ করছে। গাজার আল-মাওয়াসি এবং রাফাহ অঞ্চলের শরণার্থী শিবিরগুলো এখন জ্বলন্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বোমার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া নারী ও শিশুদের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করতে বেসামরিক মানুষ ও উদ্ধারকর্মীরা দিগ্বিদিক ছুটে বেড়াচ্ছেন। পুরো গাজায় আবারো যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনগুলোর মতো এক ভয়ানক ও পৈশাচিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে।

৮. ইসমাইল হানিয়ার ভাতিজা নিহত: ফিলিস্তিনিদের একতরফা ধৈর্যের পরীক্ষা

সাম্প্রতিক এই ইসরাইলি বিমান হামলায় গাজায় হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিহতদের মধ্যে ফিলিস্তিনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং হামাসের প্রয়াত রাজনৈতিক প্রধান ইসমাইল হানিয়ার আপন ভাতিজাও রয়েছেন। ইসরাইল পরিকল্পিতভাবে ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব এবং তাদের পরিবারকে টার্গেট করে এই হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে। তবে এবারের যুদ্ধের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী ও কৌশলগত দিক হলো—ইসরাইল গাজায় একতরফাভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালালেও হামাস বা অন্য কোনো ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী কোনো ধরনের পাল্টা রকেট বা মিসাইল আক্রমণ করছে না। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনিরা খুব ভালো করেই বোঝে যে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই মুহূর্তে কেবল একটি উসিলা খুঁজছেন। হামাস যদি একটি রকেটও ফায়ার করে, তবে নেতানিয়াহু বিশ্ববাসীর সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে পুরো শক্তি নিয়ে গাজার বেঁচে থাকা অবশিষ্ট বেসামরিক মানুষদের মাটির সাথে মিশিয়ে দেবে। এই কৌশলগত কারণে ফিলিস্তিনিরা চরম ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছে।

৯. সিরিয়ার অভ্যন্তরে ইসরাইলি কমান্ডোদের অনুপ্রবেশ ও অবৈধ অপারেশন

আন্তর্জাতিক আইন ও কোনো দেশের স্বাধীনতার তোয়াক্কা না করে ইসরাইল এবার সিরিয়ার ভেতরেও সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছে। ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্র আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যে, তাদের বিশেষ কমান্ডো বাহিনী আন্তর্জাতিক সীমান্ত লঙ্ঘন করে সিরিয়ার ভূখণ্ডের বেশ গভীরে প্রবেশ করেছিল। সেখানে তারা একটি অত্যন্ত গোপন সামরিক অপারেশন পরিচালনা করে এবং বেশ কয়েকজন সিরীয় নাগরিককে নির্মমভাবে হত্যা করে। ইসরাইলের দাবি, নিহত ব্যক্তিরা ইসরাইলি সৈন্য এবং বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মারাত্মক নিরাপত্তা হুমকি বা "সন্ত্রাসী" ছিল। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ঢুকে এভাবে অন্য দেশের সামরিক বাহিনীর হত্যাকাণ্ড চালানোর ঘটনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক মারাত্মক অপরাধ। এই ঘটনার পর সিরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে এবং দামেস্ক এর বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

১০. লেবাননের নতুন মানচিত্র প্রকাশ: নেতানিয়াহুর ভূখণ্ড গ্রাসের মাস্টারপ্ল্যান

মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার এক ভয়ানক ব্লুপ্রিন্ট জনসমক্ষে নিয়ে এসেছেন ইসরাইলের চরমপন্থী প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি সম্প্রতি গণমাধ্যমের সামনে লেবানন ও ইসরাইল সীমান্তের একটি নতুন সামরিক মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। এই মানচিত্রে দেখা গেছে, ইসরাইল ও লেবাননের যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত সীমানা বা ব্লু লাইন রয়েছে, তার চেয়েও প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে লেবাননের ভূখণ্ডকে ইসরাইল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। নেতানিয়াহু এই ১০ কিলোমিটার এলাকাকে ইসরাইলের কথিত "সিকিউরিটি জোন" বা নিরাপত্তা অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় ইসরাইলি বাহিনী ওই অঞ্চলের আদি বাসিন্দা হাজার হাজার লেবানিজ নাগরিককে জোরপূর্বক তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে এবং তাদের হাতে ভিক্ষার ঝুড়ি ধরিয়ে দিয়ে উত্তর দিকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এটি লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর এক চূড়ান্ত আঘাত।

১১. লিটানি নদী ও কথিত সিকিউরিটি জোন: নতুন সীমান্ত চৌকি

নেতানিয়াহুর প্রকাশিত মানচিত্রে দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক লিটানি নদীকে কেন্দ্র করে নতুন সামরিক কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। লিটানি নদীর দুই পাড়ে দুটি বিশাল সীমান্ত চৌকি ও ওয়াচ টাওয়ার বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরাইল। তবে এই চৌকিগুলোর দায়িত্ব ইসরাইল নিজেদের হাতে না রেখে লেবাননের সেনাবাহিনীর ওপর চাপিয়ে দিতে চাইছে। নেতানিয়াহু স্পষ্ট ভাষায় লেবানন সরকারকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই লিটানি নদীর অববাহিকা বা সিকিউরিটি জোন থেকে যদি ইসরাইলের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের হামলা হয়, তবে তারা হিজবুল্লাহকে দায়ী করবে না। এর সম্পূর্ণ দায় নিতে হবে লেবানন সেনাবাহিনী এবং লেবানন সরকারকে। মূলত হিজবুল্লাহর সাথে লেবানন সেনাবাহিনীর একটি অভ্যন্তরীণ গৃহযুদ্ধ বাধিয়ে দেওয়ার জন্যই ইসরাইল এই চাল চেলেছে।

১২. লেবানন সেনাবাহিনীর ওপর ইসরাইলি শর্ত ও নপুংসুক করার চেষ্টা

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শুধু মানচিত্র প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি এখন লেবাননের রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনীতে কারা চাকরি করবে এবং কারা করবে না—তাও নির্ধারণ করে দিতে চাইছেন। নেতানিয়াহু লেবানন সেনাবাহিনীকে একটি দন্তহীন, নখরহীন ও অকর্মণ্য ঠুটো জগন্নাথে পরিণত করার স্বপ্ন দেখছেন। তিনি দাবি করেছেন, লেবানন সেনাবাহিনীর ভেতরে এখনো কিছু "জিহাদী ও প্রতিরোধকামী" সদস্য রয়ে গেছে, যাদের অবিলম্বে চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে। আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে লেবানন সরকারের ওপর এমন একটি অপমানজনক চুক্তি চাপিয়ে দিয়েছে, যার শর্ত অনুযায়ী লেবানন সেনাবাহিনীকেই এখন নিজেদের দেশের বীর গেরিলা বাহিনী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে হবে। ইসরাইল টোপ দিয়েছে যে, লেবানন সেনাবাহিনী যদি হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে পারে, তবেই তারা দখলকৃত ১০ কিলোমিটার ভূমি থেকে আংশিক সরে যেতে পারে, যদিও এর কোনো আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি নেই।

১৩. ইরাকের গ্রীন জোনে ট্যাংকের মহড়া: আকস্মিক রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ও আতঙ্ক

আমেরিকা-ইরান সংঘাতের রেশ ধরে হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি। গতকাল রাতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের অত্যন্ত সুরক্ষিত কূটনৈতিক অঞ্চল বা "গ্রীন জোন"—যেখানে মার্কিন দূতাবাস ও সরকারি সদর দপ্তর অবস্থিত—সেখানে আকস্মিক ভারী ট্যাংকের মহড়া এবং সামরিক সাজোয়া যানের উপস্থিতি দেখা যায়। পুরো গ্রীন জোনকে সামরিক বাহিনী চারপাশ থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এই আকস্মিক সামরিক তৎপরতার নেপথ্যে ছিল ইরাকের বর্তমান সরকারের একটি গোপন রাজনৈতিক অভ্যুত্থান ও ক্র্যাকডাউন। পুরো বাগদাদ জুড়ে এক চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা যেকোনো সময় গৃহযুদ্ধের রূপ নিতে পারে।

১৪. সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিয়া আল-সুদানির আমলের মন্ত্রীদের গণগ্রেপ্তার

ইরাকের এই নতুন সরকারি ক্র্যাকডাউনের আওতায় বিগত শিয়া আল-সুদানি সরকারের অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও মন্ত্রীদের ওপর নজিরবিহীন দমন-পীড়ন ও ধরপাকড় শুরু হয়েছে। বর্তমান প্রশাসন ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিয়া আল-সুদানির আমলের সংসদের স্পিকার, পরিকল্পনা মন্ত্রী (Planning Minister), জ্বালানি মন্ত্রী (Energy Minister), এবং ইরাকের প্রধান সমুদ্র বন্দরের চেয়ারম্যানসহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় পলিটিক্যাল ফিগারকে গতকাল রাতে একযোগে গ্রেপ্তার করেছে। একই সাথে ইরাকের সুন্নি রাজনৈতিক দল এবং কুর্দিশ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের ওপরও ব্যাপক দমন-পীড়ন শুরু করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরাককে সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার পুতুল রাষ্ট্রে পরিণত করার অংশ হিসেবেই এই বিশাল রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযান বা পার্জিং চালানো হচ্ছে, যা ইরাকের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ধ্বংস করে দেবে।

১৫. আব্বাস রাখছির জরুরি বাগদাদ সফর ও বৈশ্বিক কূটনীতির ভবিষ্যৎ

এই চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যাচ্ছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস রাখছি। ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক ইরাকের বর্তমান সরকারের সাথে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জরুরি নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে। একদিকে কুয়েত-বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হামলা, অন্যদিকে ইরাকের অভ্যন্তরে ইরানপন্থী ও স্বাধীনতাকামী রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর দমন-পীড়ন—এই দুই সংকটময় মুহূর্তে আব্বাস রাখছির এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল গভীর উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই বহুমুখী সংকট যদি অবিলম্বে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা না হয়, তবে পারস্য উপসাগর থেকে শুরু করে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত পুরো অঞ্চল এক মহাযুদ্ধের গ্রাসে হারিয়ে যাবে।

Chronicle Point Analysis:

  • ১. মিসাইল হামলার প্রভাব: কুয়েত ও বাহরাইনে ইরানের সরাসরি ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা প্রমাণ করে যে তেহরান এখন মার্কিন সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ করতে দ্বিধাবোধ করছে না।
  • ২. মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের দুর্বলতা: বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে আঘাত হেনে ইরান আমেরিকার অভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বা প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্সের সীমাবদ্ধতা বিশ্বের সামনে উন্মোচন করেছে।
  • ৩. হরমুজ প্রণালীর সার্বভৌমত্ব: ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক চুক্তির নিয়ম অমান্য করে কোনো জাহাজ কর না দিয়ে যাতায়াত করলে তারা কঠোর সামরিক পদক্ষেপ বজায় রাখবে।
  • ৪. ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্তিত্ব সংকটের হুমকি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের "ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না" এমন উক্তি আন্তর্জাতিক ডিপ্লোমেসিতে চরম ঔদ্ধত্যের বহিঃপ্রকাশ এবং এটি যুদ্ধকে উস্কে দেয়।
  • ৫. ইসরাইলের বহুমুখী ফ্রন্ট খোলার নীতি: একই সাথে গাজা, সিরিয়া এবং লেবাননে হামলা চালিয়ে ইসরাইল মূলত মার্কিন সামরিক শক্তিকে নিজেদের পক্ষে পুরোপুরি যুদ্ধে টানার কৌশল অবলম্বন করছে।
  • ৬. বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা: পারস্য উপসাগরে সংঘাতের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধি বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলকে ধ্বংস করবে, যার ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো তীব্র মুদ্রাস্ফীতির মুখে পড়বে।
  • ৭. গাজায় হামাসের নিরবতার কৌশল: হামাসের পক্ষ থেকে কোনো পাল্টা রকেট হামলা না করা অত্যন্ত পরিপক্ক সামরিক কৌশল, যা ইসরাইলকে গাজা পুরোপুরি ধ্বংস করার উসিলা থেকে বঞ্চিত করছে।
  • ৮. সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন: সিরিয়ার অভ্যন্তরে ইসরাইলি কমান্ডোদের অনুপ্রবেশ প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় এবং জাতিসংঘ একটি অকার্যকর সংস্থায় পরিণত হয়েছে।
  • ৯. লেবাননে ভূখণ্ড গ্রাসের নতুন নীলনকশা: ১০ কিলোমিটার জায়গা দখল করে নেতানিয়াহুর নতুন মানচিত্র প্রকাশ মূলত লেবাননের ভূমি চিরতরে গ্রাস করার একটি ইসরাইলি সাম্রাজ্যবাদী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।
  • ১০. লেবানন সেনাবাহিনীকে বিভক্ত করার চাল: হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লেবানন সেনাবাহিনীকে লেলিয়ে দেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়ে ইসরাইল ও আমেরিকা লেবাননে একটি ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ বাধানোর চেষ্টা করছে।
  • ১১. ইরাকে রাজনৈতিক ক্র্যাকডাউনের উদ্দেশ্য: সাবেক প্রধানমন্ত্রী আল-সুদানির আমলের মন্ত্রীদের গ্রেপ্তার করার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরাক থেকে ইরানপন্থী ও স্বাধীনতাকামী প্রভাব সম্পূর্ণ নির্মূল করা।
  • ১২. বাগদাদে গ্রীন জোনের ট্যাংকের মহড়া: ইরাকে পুনরায় একটি মার্কিনপন্থী একনায়কতন্ত্র বা পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এই সামরিক অভ্যুত্থান সদৃশ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
  • ১৩. আব্বাস রাখছির সফরের গুরুত্ব: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক বাগদাদ সফর ইঙ্গিত দেয় যে ইরান ইরাকের এই রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযানকে সহজে ছেড়ে দেবে না এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
  • ১৪. এয়ার ডিফেন্সের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন: কুয়েতের আকাশসীমায় মার্কিন প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স ইরানের শতভাগ মিসাইল প্রতিহত করতে না পারা পশ্চিমা সামরিক প্রযুক্তির জন্য একটি বড় বড় ব্যর্থতা।
  • ১৫. তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনি: আমেরিকা, ইসরাইল, ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক প্রক্সিগুলোর এই বহুমুখী সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক যুদ্ধের (World War 3) দিকে ধাবিত করছে।

পাঠকদের জিজ্ঞাসিত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

১. ইরান কেন কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে? ইরানের ভূখণ্ডে আমেরিকার বিমান হামলার সরাসরি এবং তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ হিসেবে ইরান এই পাল্টা মিসাইল হামলা চালিয়েছে। ২. বাহরাইনের মার্কিন পঞ্চম নৌবহর বা Fifth Fleet কেন এত গুরুত্বপূর্ণ? এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্য, পারস্য উপসাগর এবং লোহিত সাগরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সমস্ত অপারেশন এবং আধিপত্য নিয়ন্ত্রণের মূল সদর দপ্তর। ৩. হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকা ও ইরানের মূল বিরোধের কারণ কী? ইরানের দাবি অনুযায়ী বিদেশী জাহাজগুলোকে কর ও নিয়ম মেনে চলতে হবে, অন্যদিকে আমেরিকা কর না দিয়ে জোরপূর্বক জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করায় এই বিরোধের সূত্রপাত। ৪. মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন? ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে ইরান যদি আমেরিকার শর্ত না মানে, তবে বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের অস্তিত্ব চিরতরে মুছে দেওয়া হবে। ৫. আমেরিকার বিমান হামলায় ইরানের কোন কোন অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? আমেরিকার ফাইটার জেটগুলো ইরানের হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী কেশব দ্বীপ, সিরি দ্বীপ এবং বন্দর লেগেহ সামরিক বন্দরে হামলা চালিয়েছে। ৬. এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দামের কী পরিবর্তন হয়েছে? সংঘাতের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ৭. গাজায় ইসরাইল নতুন করে কী ধরনের আগ্রাসন চালাচ্ছে? ইসরাইল গাজার আল-মাওয়াসি ও রাফাহ অঞ্চলের শরণার্থী শিবির ও অস্থায়ী তাবু লক্ষ্য করে ভারী বোমাবর্ষণ করছে, যাতে ব্যাপক বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছে। ৮. ইসরাইলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনের কোন বিশিষ্ট নেতার পরিবার আক্রান্ত হয়েছে? হামাসের প্রয়াত প্রধান ও ফিলিস্তিনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল হানিয়ার আপন ভাতিজা এই হামলায় নিহত হয়েছেন। ৯. গাজায় ইসরাইলি হামলার জবাবে হামাস কেন রকেট ফায়ার করছে না? হামাস পাল্টা হামলা এড়াচ্ছে কারণ তারা জানে ইসরাইল গাজাকে সম্পূর্ণ মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য একটি উসিল বা বাহানা খুঁজছে। ১০. ইসরাইল সিরিয়ার ভেতরে ঢুকে কী সামরিক অপারেশন চালিয়েছে? ইসরাইলি বিশেষ কমান্ডো দল সিরিয়ার আন্তর্জাতিক সীমান্ত লঙ্ঘন করে ভেতরে প্রবেশ করে বেশ কয়েকজন সিরীয় নাগরিককে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে। ১১. বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের কোন নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছেন? নেতানিয়াহু লেবানন সীমান্তের ১০ কিলোমিটার অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি নতুন "সিকিউরিটি জোন" সম্বলিত সামরিক মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। ১২. লিটানি নদীকে কেন্দ্র করে ইসরাইল লেবানন সেনাবাহিনীর ওপর কী শর্ত দিয়েছে? ইসরাইল শর্ত দিয়েছে যে লিটানি নদীর সীমান্ত চৌকির দায়িত্ব লেবানন সেনাবাহিনীকে নিতে হবে এবং সেখান থেকে কোনো হামলা হলে দায় সেনাবাহিনীর ওপর বর্তাবে। ১৩. ইরাকের বাগদাদে গ্রীন জোনে ট্যাংকের মহড়া কেন হচ্ছিল? ইরাকের বর্তমান সরকার কর্তৃক বিগত প্রশাসনের শীর্ষ মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের গণগ্রেপ্তার এবং ক্র্যাকডাউন নিশ্চিত করতে গ্রীন জোনে ট্যাংকের মহড়া দেওয়া হয়। ১৪. ইরাকের সাবেক কোন সরকারের কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে? ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিয়া আল-সুদানির আমলের সংসদের স্পিকার, পরিকল্পনা মন্ত্রী, জ্বালানি মন্ত্রী এবং বন্দর প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৫. ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস রাখছি কেন হঠাৎ ইরাক সফরে যাচ্ছেন? ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকট, গণগ্রেপ্তার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে ইরাক সরকারের সাথে জরুরি আলোচনার জন্য তিনি বাগদাদ সফরে যাচ্ছেন।

SHARE THIS ARTICLE

Website Total View