মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে ইরানের ক্লাস্টার মিসাইল হামলা ও বাহরাইনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। হরমোজ প্রণালীতে আমেরিকা-ইরান মুখোমুখি সংঘর্ষ ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
মার্কিন পঞ্চম নৌবহরে ইরানের বিধ্বংসী ক্লাস্টার মিসাইল হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধের ছক ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ
ক্রনিকল পয়েন্ট স্পেশাল রিপোর্ট: মধ্যপ্রাচ্যের পারস্য উপসাগরে আমেরিকা ও ইরানের সামরিক শক্তি এখন এক নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক রূপ ধারণ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধংদেহী উন্মادনা তৈরি করেছিলেন, তা এবার সরাসরি হরমোজ প্রণালীতে এক ভয়াবহ সংঘাতের জন্ম দিয়েছে। মার্কিন আগ্রাসনের তীব্র জবাব দিতে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের প্রধান সদর দফতরে নজিরবিহীন ক্রুজ ও ক্লাস্টার মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের প্রধান দুর্গটি এক রাতের মধ্যেই প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। একই সাথে কুয়েত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতেও সফল হামলা চালিয়ে ইরান বিশ্বমঞ্চে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অহংকার ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। হরমোজ প্রণালীর কর্তৃত্ব, এরদোয়ানের কূটনৈতিক চাল এবং জায়নবাদী শক্তির অদৃশ্য ব্ল্যাকমেইলের অন্ধকার দুনিয়া নিয়ে ক্রনিকল পয়েন্টের এই দীর্ঘ ও বিশেষ গবেষণা প্রতিবেদন।
১. হরমোজ প্রণালীতে আমেরিকা-ইরান মুখোমুখি সংঘর্ষ ও উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
মধ্যপ্রাচ্যের বুক চিরে বয়ে যাওয়া বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমোজ প্রণালীতে এই মুহূর্তে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের নৌবাহিনী এখন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং মার্কিন বিশেষ নৌবাহিনীর মধ্যে এই সংঘর্ষ আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার আইন ও সার্বভৌমত্বকে এক গভীর সংকটে ফেলেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরান এই আন্তর্জাতিক জলসীমা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর বেআইনি অবরোধ ও কর আরোপ করতে চায়। অন্যদিকে তেহরানের স্পষ্ট দাবি, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ দীর্ঘ দশ হাজার মাইল দূর থেকে এসে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দখল করে অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত করছে। হরমোজ প্রণালীর উত্তপ্ত পরিস্থিতি এখন কেবল একটি আঞ্চলিক সংঘাত নয়, বরং এটি যেকোনো মুহূর্তে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন এবং সাঁজোয়া যুদ্ধজাহাজের তীব্র টহল এই নৌপথকে কার্যত একটি স্থায়ী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে।
২. মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নজিরবিহীন ক্লাস্টার মিসাইল হামলা: কেঁপে উঠল বাহরাইন
ইরানের সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান অস্ত্র হলো তাদের অত্যাধুনিক ক্লাস্টার মিসাইল ব্যবস্থা। সম্প্রতি মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে এই বিধ্বংসী ক্লাস্টার বোমা দিয়ে ইরান নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনী এর আগে কখনো ইরানের কাছ থেকে এই ধরনের ভয়াবহ আক্রমণের মুখোমুখি হয়নি। ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি এই ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আকাশে উৎকর্ষণের পর লক্ষ্যবস্তুর ওপর এসে শত শত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ওয়ারহেডে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যা একসঙ্গে বিশাল এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। বাহরাইনের মার্কিন সেনা ছাউনিতে এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বৃষ্টির মতো আছড়ে পড়ার পর পুরো অঞ্চল যেন এক নরককুণ্ডে পরিণত হয়। ইরান এর আগে কেবল ইসরাইলের মাটিতে এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল, তবে এবার আমেরিকার প্রধান ঘাঁটিতে এটি প্রয়োগ করে তেহরান প্রমাণ করেছে যে তারা মার্কিন শক্তির চূড়ান্ত জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমেরিকার দাম্ভিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই বহু-মুখী বোমাবর্ষণ ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।
৩. বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহর বা 'Fifth Fleet' হলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। ইরানের আইআরজিসি বাহিনীর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিটি এবার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আঘাতের সম্মুখীন হয়েছে। ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার সমন্বয়ে পরিচালিত এক দীর্ঘ অভিযানে পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতর এবং সামরিক স্থাপনাগুলো আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, আধুনিক কমান্ড সেন্টার এবং রানওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন বৈশ্বিক স্যাটেলাইট চিত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যদিও পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পুরোপুরি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তবে এই হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার নিরাপত্তার দেওয়াল ভেঙে পড়েছে। ইরানের এই দুঃসাহসিক হামলার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং এটি বাহরাইনে মার্কিন সেনাদের মনস্তাত্ত্বিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে।
৪. ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী নীতি ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংসের উন্মাদনা
আমেরিকার হোয়াইট হাউজে পুনরায় ফিরে আসার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তার চিরচেনা আগ্রাসী নীতি নতুন করে চালু করেছেন। ট্রাম্পের স্পষ্ট লক্ষ্য হলো যেকোনো উপায়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তাদের দূরপাল্লার মিসাইল সক্ষমতাকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। ট্রাম্পের দাবি ছিল, তিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি এনেছেন এবং একটি বিশেষ ঐতিহাসিক চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে পেরেছেন। তবে মাত্র কিছুদিন যেতে না যেতেই ট্রাম্পের সুর পুরোপুরি বদলে গেছে। তিনি একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে ইরানের সাথে করা সমঝতা স্মারকটি ছিল কেবল একটি পরীক্ষা এবং ইরান সেই পরীক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, প্রধান বন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোর ওপর অবিরাম হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী উন্মাদনা পুরো অঞ্চলকে এক অন্তহীন রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে আমেরিকা নিজেই এখন আটকা পড়েছে।
৫. হরমোজ প্রণালীতে শুল্ক আরোপের রাজনীতি: ট্রাম্পের ফাঁদেই আটকা পড়ল আমেরিকা!
হরমোজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী সমস্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০ শতাংশ শুল্ক বা টোল আরোপ করার এক চরম বিতর্কিত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। ট্রাম্পের উদ্দেশ্য ছিল এই শুল্কের অর্থ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত উল্টো আমেরিকার জন্য এক বিশাল কৌশলগত ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ইরান হরমোজ প্রণালী পাহারা দেওয়ার এবং এখানে মেইনটেইনেন্স পরিচালনার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কর আদায়ের চেষ্টা করছিল, যাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমেরিকা বেআইনি বলে দাবি করে আসছিল। এখন ট্রাম্প নিজেই যখন এই প্রণালীতে শুল্ক বা টোল আদায়ের প্রস্তাব করেছেন, তখন তিনি কার্যত ইরানের দাবিকে বিশ্বমঞ্চে বৈধতা দিয়ে ফেলেছেন। মার্কিন প্রশাসনের এই অপরিণামদর্শী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এখন তেহরানের জন্য আন্তর্জাতিক নৌপথে টোল আদায়ের আইনগত যুক্তিকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে।
৬. ট্রাম্পকে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর তীক্ষ্ণ খোঁচা: শুল্কের বৈধতা নিয়ে নতুন বিতর্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হরমোজ প্রণালীতে শুল্ক আরোপের উচ্চাভিলাষী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তীব্র উপহাস করেছেন ইরানের বিজ্ঞ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি. তিনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন যে মিস্টার ট্রাম্প অত্যন্ত সঠিক এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে হরমোজ প্রণালীতে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ফি আদায়ের তেহরানের অবস্থানকে ওয়াশিংটন নিজেই বৈধতা দিয়ে ফেলেছে। তবে আরাকচি এক তীক্ষ্ণ খোঁচা দিয়ে বলেন, ট্রাম্প ২০ শতাংশ যে মাসুলের প্রস্তাব করেছেন তা একটু বেশি হয়ে যায়, কারণ ইরান এত চড়া শুল্ক নেবে না এবং সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর জুলুম করবে না। ইরান অত্যন্ত সহনীয় মাত্রায় কর আদায় করবে যাতে বিশ্ব বাণিজ্য সচল থাকে। এই রাজনৈতিক ও আইনি কূটনীতিতে ইরান মার্কিন পরাশক্তিকে এমন এক মারপ্যাঁচে ফেলেছে যেখানে ট্রাম্পের কোনো উত্তর দেওয়ার মুখ নেই।
৭. কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে টার্গেট করার নেপথ্য কারণ
ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আওতা কেবল বাহরাইনেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও আইআরজিসি রাতের অন্ধকারে একযোগে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এই তিনটি দেশকে ইরানের টার্গেট করার পেছনে গভীর কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক কারণ রয়েছে। বাহরাইন হলো মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের ঠিকানা, কুয়েতে রয়েছে বিশাল মার্কিন সেনাবহর ও লজিস্টিক সাপোর্ট সেন্টার এবং জর্ডান দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী ইসরাইলকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করে সাহায্য করে আসছে। জর্ডানের রাজতন্ত্র সরাসরি ফিলিস্তিনিদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে আমেরিকার দালালি করছে বলে ইরানের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। ইরান এক রাতের সফল ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে এই তিনটি অক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের মাটিতে আশ্রয় দিলে তাদের পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। এই হামলার ফলে ওই দেশগুলোর শাসকরাও এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
৮. ওয়াশিংটনের নিরবতা: মার্কিন ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন করার চিরন্তন কৌশল
আমেরিকা সাধারণত নিজেদের সামরিক দুর্বলতা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সৈন্যদের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ করতে তীব্র অনিহা দেখায়। বাহরাইন ও কুয়েতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পেন্টাগন এবং মার্কিন সেন্টাল কমান্ড (সেন্টকম) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে দাবি করেছে যে, তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা সেনা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে সত্য কখনো চাপা থাকে না। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাধীন স্যাটেলাইট এবং গোয়েন্দা সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, মার্কিন ঘাঁটিগুলোর একাধিক প্রধান ব্যারাক ও বিমান হ্যাঙ্গার পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গেছে। ক্লাস্টার বোমার নিখুঁত আঘাতে বহু মার্কিন সেনা গুরুতর আহত ও নিহত হয়েছে, যাদের গোপনে জার্মানি ও আমেরিকার বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই তথ্য গোপন করার মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন জনগণের ক্ষোভ থেকে নিজেদের রক্ষা করা এবং বৈশ্বিক মঞ্চে আমেরিকার পরাশক্তি ইমেজের পতন ঠেকানো।
৯. ক্লাস্টার বোমার সামরিক গুরুত্ব এবং মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা
আমেরিকা বিশ্বজুড়ে নিজেদের প্যাট্রিয়ট এবং থার্ড (THAAD) এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের কার্যকারিতা নিয়ে যে বাগারম্বর করে থাকে, ইরানের ক্লাস্টার বোমার আঘাতে তা ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। ক্লাস্টার মিসাইলের সবচেয়ে বড় সামরিক বৈশিষ্ট্য হলো এর বহুমুখী কার্যক্ষমতা। একটি একক ক্ষেপণাস্ত্র বায়ুমণ্ডলের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর যখন শত শত ক্ষুদ্র ওয়ারহেডে বিভক্ত হয়, তখন মার্কিন রাডার ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। কারণ একটি বা দুটি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শত শত ক্ষুদ্র বোমাকে আকাশে ধ্বংস করা গণিত ও প্রযুক্তির নিয়মে অসম্ভব। ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা দেওয়াল ভেদ করে বাহরাইনের ঘাটিতে নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। এই প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ প্রমাণ করে যে, সামরিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ইরান এখন মার্কিন প্রযুক্তির চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে, যা পেন্টাগনের প্রধানদের ঘুম কেড়ে রেখেছে।
১০. তুরস্কের এরদোয়ানের নতুন সমীকরণ: সিরিয়া ও লেবানন ছাড়ার চাপ
মধ্যপ্রাচ্যে যখন ইরানের সামরিক তাণ্ডব চলছে, ঠিক তখনই আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটোর এক বিশেষ বৈঠকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক বড়সড় ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা দিয়েছেন। এরদোয়ান ট্রাম্পের ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টি করেছেন যেন জায়নবাদী ইসরাইল দ্রুত সিরিয়া এবং লেবানন থেকে তাদের সমস্ত সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেয়। তুরস্কের এই অপ্রত্যাশিত অনড় অবস্থান ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর 'গ্রেটার ইসরাইল' এবং সিরিয়া দখলের নীল নকশাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। ট্রাম্প ন্যাটোর বৈঠক শেষেই নেতানিয়াহুকে জরুরি ফোন করে সিরিয়া ও লেবানন থেকে অবিলম্বে সেনা সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। তুরস্ক এবং ইরানের মধ্যে পর্দার আড়ালে তৈরি হওয়া এই কৌশলগত বোঝাপড়া প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম পরাশক্তিগুলো এখন মার্কিন ও ইসরাইলি আধিপত্যকে রুখে দিতে এক মঞ্চে হাত মেলাচ্ছে।
১১. রাশিয়া ও চীনের দ্বিমুখী স্বার্থ: ইরানকে সমর্থনের আসল সমীকরণ
অনেকেই মনে করেন যে ইরান, চীন এবং রাশিয়া বুঝি চিরন্তন এবং নিঃস্বার্থ বন্ধু। তবে ভূ-রাজনীতিতে কোনো স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু থাকে না, এখানে কেবল স্থায়ী থাকে স্বার্থ। রাশিয়া এবং চীন অবশ্যই ইরানকে সামরিক প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ব্যাপকভাবে সাহায্য করছে, তবে তা কেবল আমেরিকাকে দুর্বল ও ব্যস্ত রাখার জন্য। চীনের মূল লক্ষ্য হলো আমেরিকার নজর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আটকে রাখা, আর রাশিয়ার লক্ষ্য হলো ইউক্রেন যুদ্ধে নিজেদের পিঠ বাঁচানো। তবে যখন ইসরাইলের অস্তিত্বের প্রশ্ন আসে, তখন রাশিয়া বা চীন কেউই ইরানকে পূর্ণ সামরিক সহায়তা দেয় না। কারণ ইসরাইলে থাকা ইহুদি অলিগার্কদের সাথে মস্কো এবং বেইজিংয়ের গভীর অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ইরানকে তার এই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়েই মার্কিন ও ইসরাইলি জোটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যা তাদের আত্মনির্ভরশীল সামরিক শক্তির বিকাশ ঘটিয়েছে।
১২. জায়নবাদী ইসরাইলের অদৃশ্য শক্তি: বিশ্বনেতাদের নিয়ন্ত্রণে তাদের গোপন ব্ল্যাকমেইল ও হানি ট্র্যাপ
সমগ্র বিশ্বে মাত্র দুই কোটির কাছাকাছি ইহুদি জনসংখ্যা থাকলেও তারা কীভাবে বিশ্বের ৫০টিরও বেশি মুসলিম দেশ এবং বড় বড় পরাশক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করছে, তা এক বড় রহস্য। এর পেছনের আসল সত্যটি অত্যন্ত অন্ধকার ও ভয়াবহ। জায়নবাদী ইসরাইল এবং তাদের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ বিশ্বের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য 'হানি ট্র্যাপ' এবং অনৈতিক গোপন নথির এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। জেফরি এপস্টাইনের মতো লবিস্টদের ব্যবহার করে তারা বিশ্বনেতাদের এমন সব অনৈতিক ফাঁদে ফেলে, যেখান থেকে বের হওয়া তাদের পক্ষে আর সম্ভব হয় না। পরবর্তীতে মোসাদ এই গোপন ল্যাংটা ভিডিও ও নথির ভয় দেখিয়ে মার্কিন সিনেট থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইসরাইলের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। এই ব্ল্যাকমেইলের কারণেই বিশ্বনেতারা লাখ লাখ ফিলিস্তিনি হত্যার পরও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সাহস পান না।
১৩. মুসলিম বিশ্বের অনৈক্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম ভূ-রাজনৈতিক সংকট
বিশ্বে আড়াইশ কোটিরও বেশি মুসলমান থাকা সত্ত্বেও মুষ্টিমেয় কিছু ইহুদি পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে জ্বালিয়ে ছারখার করে দিচ্ছে, যার মূল কারণ হলো মুসলিম দেশগুলোর চরম অনৈক্য এবং অভ্যন্তরীণ ফতোয়াবাজি। আজ আরবের ধনী দেশগুলো যেমন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ফিলিস্তিনি ও লেবানিজ ভাইদের পাশে না দাঁড়িয়ে নিজেদের ক্ষমতার মসনদ রক্ষায় ব্যস্ত। অন্যদিকে আলেম সমাজ ও ইসলামী দলগুলো নিজেদের মধ্যে ফতোয়া ও কাফের উপাধি দেওয়ায় মগ্ন। এক দল অন্য দলকে কাফের বলে গালি দিচ্ছে, যা मुसलमानों রাজনৈতিক শক্তিকে ভেতর থেকে অকেজো করে দিচ্ছে। ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট দলের অন্ধ চামচামি করতে শেখায়নি, বরং সামগ্রিকভাবে ইসলামের বিজয় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়েছে। মুসলিম বিশ্বের এই অনৈক্য দূর না হলে এবং তারা যদি ইরানের মতো বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের পথ না ধরে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরাধীনতা কখনো ঘুচবে না।
১৪. মিশরের ঐতিহাসিক মোড় পরিবর্তন: তুরস্কের সাথে যৌথ সামরিক মহড়া ও নতুন অক্ষ
গত কয়েক দশক ধরে মিশর মার্কিন অর্থায়ন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সহযোগিতার জালে আটকা পড়ে এক নীরব দালের ভূমিকা পালন করে আসছিল। তবে সম্প্রতি ইসরাইল যখন মিশরের সীমান্ত ঘেঁষে সুদান ও ইথিওপিয়ার সাথে হাত মিলিয়ে নীল নদের পানি আটকে দেওয়ার পরিকল্পনা শুরু করেছে, তখন কায়রোর চোখ খুলেছে। মিশর বুঝতে পেরেছে যে ইসরাইলের দালালি করে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ফলস্বরূপ, মিশর এখন তুরস্কের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। কায়রো এবং আঙ্কারা যৌথভাবে সমুদ্র ও আকাশে বড় ধরনের সামরিক মহড়া পরিচালনা করছে। ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার লক্ষ্যে মিশর ও তুরস্কের এই এক টেবিলে বসা এবং নতুন সামরিক অক্ষ তৈরি করা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। এই জোটে যদি ইরানও যোগ দেয়, তবে জায়নবাদী ইসরাইলের পরাজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।
১৫. পারমাণবিক হামলার হুমকি ও ইরানের অবিচল প্রতিরোধ: ট্রাম্পের চূড়ান্ত পরাজয়
আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ওপর স্বল্পমাত্রার পারমাণবিক হামলা চালিয়েছে বলে সম্প্রতি কিছু অসমর্থিত সামরিক দাবি সামনে এসেছে। তবে পারমাণবিক অস্ত্রের এই ভয়াবহ হুমকিও ইরানের বিপ্লবী মনস্তাত্ত্বিক প্রতিরোধকে এক তিল পরিমাণ দমাতে করেনি। ইরানের জনগণ ও তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তারা নিজেদের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনে পুরো জাতি মৃত্যুবরণ করতে রাজি আছে, কিন্তু মার্কিন দাসত্ব মেনে নেবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো চরম দাম্ভিক নেতাও এখন ইরানের এই অনড় ও অবিচল প্রতিরোধ দেখে ভয় পাচ্ছেন। ট্রাম্প যতবারই ইরানের ওপর আক্রমণ করছেন বা নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন, ইরান ততবারই আরও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও নতুন প্রযুক্তির ড্রোন নিয়ে প্রত্যাঘাত করছে। এই অসম যুদ্ধে তেহরানের অবিচল প্রতিরোধের কাছে ট্রাম্পের যুদ্ধবাজ কৌশলের চূড়ান্ত পরাজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
Chronicle Point Analysis:
- ১. হরমোজ প্রণালী বন্ধ হলে হরমোজ প্রণালী বন্ধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মন্দা নেমে আসবে।
- ২. ইরানের ক্লাস্টার বোমার নিখুঁত ইরানের ক্লাস্টার বোমার নিখুঁত আঘাত প্রমাণ করেছে যে প্যাট্রিয়ট বা অ্যারো-৩ এর মতো পশ্চিমা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র নয়।
- ৩. বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের প্রধান বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্য ও সামুদ্রিক শ্রেষ্ঠত্বের অহংকার ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
- ৪. ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তি লঙ্ঘন ডোনাল্ড ট্রাম্পের চুক্তি লঙ্ঘন করার এই অভ্যাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে চিরতরে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছে।
- ৫. হরমোজ প্রণালীতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত হরমোজ প্রণালীতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কর নীতি আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের দৃষ্টিতে ইরানের দীর্ঘদিনের ট্যাক্স আদায়ের দাবিকে সরাসরি বৈধতা দান করেছে।
- ৬. ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক কূটনীতি বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার একমুখী অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নীতির কার্যকারিতা নষ্ট করেছে।
- ৭. জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনের জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে একযোগে টার্গেট করার মাধ্যমে ইরান তাদের প্রতিবেশীদের সতর্ক করেছে যে মার্কিন পক্ষ নিলে ধ্বংস অনিবার্য।
- ৮. পেন্টাগনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি লুকানোর পেন্টাগনের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি লুকানোর চিরাচরিত নীতি মূলত মার্কিন প্রতিরক্ষা শেয়ার বাজারের ধস ঠেকানোর একটি গোপন বাণিজ্যিক কৌশল মাত্র।
- ৯. ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির সফল ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির সফল ব্যবহারের ফলে ইরান এখন মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো প্রান্তে মার্কিন রণতরী ও আকাশসীমা ভেদ করতে সক্ষম।
- ১০. তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সিরিয়া তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সিরিয়া ও লেবানন থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের চাপ মূলত মার্কিন-তুর্কি সম্পর্কের গভীর ফাটলকেই নির্দেশ করে।
- ১১. রাশিয়া ও চীনের দ্বিমুখী রাশিয়া ও চীনের দ্বিমুখী অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ইরানকে নিজের সামরিক সামর্থ্যের ওপরই চূড়ান্ত ভরসা রাখতে হবে।
- ১২. বিশ্বজুড়ে জায়নবাদী ইহুদি লবিস্ট বিশ্বজুড়ে জায়নবাদী ইহুদি লবিস্ট ও মোসাদের হানি ট্র্যাপ ব্ল্যাকমেইলের কারণেই পশ্চিমা দেশগুলো অন্ধভাবে ইসরাইলের সমস্ত যুদ্ধাপরাধকে সমর্থন দেয়।
- ১৩. মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ মাজহাবি মুসলিম দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ মাজহাবি ও রাজনৈতিক উগ্রতা এবং ফতোয়াবাজি ইসরাইলি আগ্রাসনকে আরও সহজ ও দীর্ঘস্থায়ী করার প্রধান নিয়ামক।
- ১৪. কায়রো ও আঙ্কারার যৌথ কায়রো ও আঙ্কারার যৌথ সামরিক অক্ষ গঠন মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি সীমানা সম্প্রসারণ নীতির বিরুদ্ধে একটি অভেদ্য প্রতিরোধ প্রাচীর গড়ে তুলেছে।
- ১৫. ইরানের বিপ্লবী চেতনা ও ইরানের বিপ্লবী চেতনা ও শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা এমন এক মানসিক শক্তি, যার সামনে আমেরিকার আধুনিক মারণাস্ত্র ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব সম্পূর্ণ অকার্যকর।