ইরানের পাল্টা হামলায় কুয়েতে জরুরি অবস্থা: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের নতুন চক্রান্তের চুলচেরা বিশ্লেষণ

ইরানের পাল্টা হামলায় কুয়েতে জরুরি অবস্থা: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের নতুন চক্রান্তের চুলচেরা বিশ্লেষণ
📅 জুলাই, 2026

ইরানের পাল্টা হামলায় কুয়েতে জরুরি অবস্থা: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের নতুন চক্রান্তের চুলচেরা বিশ্লেষণ

📅 ১৭ জুলাই, ২০২৬ | ✍️ বিশেষ প্রতিনিধি, Chronicle Point

ঢাকা ও বৈরুত: বিশ্বরাজনীতির রঙ্গমঞ্চে একের পর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনাপ্রবাহ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের স্মরণকালের ভয়াবহ পাল্টা হামলায় তছনছ হয়ে গেছে কুয়েতের জ্বালানি ও পানি অবকাঠামো, যার ফলে দেশটিতে জারি করা হয়েছে নজিরবিহীন জরুরি অবস্থা। অন্যদিকে, বৈশ্বিক এই পরাশক্তি সংঘাতের সমান্তরালে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে চরম উত্তেজনা। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে ঐতিহ্যগত ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পুনরুত্থান এবং জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে ভারতের নীতিনির্ধারক ও গোয়েন্দা মহলে গভীর উদ্বেগ ও চক্রান্তের জাল উন্মোচিত হয়েছে। এই বহুমুখী আন্তর্জাতিক সংকট ও সামরিক সমীকরণের একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরি করেছে Chronicle Point

১. কুয়েতে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে গত রাতভর চালানো ইরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কুয়েত এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে। বিশ্বস্ত কূটনৈতিক ও সামরিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, ইরানের এই পাল্টা আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো। তবে এই হামলার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, মার্কিন ঘাঁটির পাশাপাশি কুয়েতের রাষ্ট্রীয় ও বেসামরিক কৌশলগত অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে কুয়েতের প্রধান পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প (Desalination Plant) এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি ধ্বংস বা আংশিক অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে সমগ্র কুয়েত জুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কুয়েত সরকার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হয়েছে।

২. মার্কিন ঘাঁটিতে কুয়েতি সেনাদের হতাহত হওয়ার রহস্য ও নেপথ্য কারণ

ইরানের এই নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট হামলায় কুয়েতে মোতায়েন থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো কেঁপে উঠলেও সেখানে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি এসেছে হতাহতদের পরিচয় নিয়ে। প্রাথমিক তথ্যে কোনো মার্কিন সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হওয়ার খবর না পাওয়া গেলেও, বহু সংখ্যক কুয়েতি সেনা এই হামলায় হতাহত হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, মার্কিন ঘাঁটিতে কুয়েতের নিজস্ব সেনারা কেন এবং কীভাবে অবস্থান করছিল? মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে কুয়েতি সেনাদের সম্মুখভাগে বা ঘাঁটির পেরিফেরি সুরক্ষায় মোতায়েন করে রেখেছিল। মূলত মার্কিন সেনাদের ঢাল হিসেবে স্থানীয় কুয়েতি বাহিনীদের ব্যবহার করার এই নোংরা কৌশল এখন প্রকাশ্য দিবালোকে চলে এসেছে, যা কুয়েতের সামরিক ও বেসামরিক মহলে চরম ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

৩. আরবদের ঢাল বানিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী কূটনীতি ও কার্টুন বিতর্ক

বর্তমান আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি চরম সমালোচনার মুখে পড়েছে। আরব বিশ্বের প্রখ্যাত কার্টুনিস্টদের আঁকা সাম্প্রতিক কিছু ব্যঙ্গচিত্রে দেখা গেছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প আরব ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে ইরানের দিকে কামান তাক করছেন এবং আরব দেশগুলোকে উসকানি দিচ্ছেন। কিন্তু যখনই ইরান থেকে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও কামানের গোলা ধেয়ে আসছে, তখন ট্রাম্প চতুরতার সাথে আরবদেরকেই নিজের সামনে মানবঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছেন। এই রূপক চিত্রটি বর্তমান বাস্তবতার সাথে হুবহু মিলে যাচ্ছে। আমেরিকা আরব দেশগুলোকে 'কলুর বলদ'-এর মতো খাটিয়ে নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফায়দা লুটছে, অথচ চরম বিপদের মুহূর্তে আরবদের জীবন ও সম্পদকে বিপন্ন করে তুলছে।

৪. বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে ভারতীয় জেনারেল এম কে দাসের বিতর্কিত মন্তব্য ও দিল্লির উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই দক্ষিণ এশিয়ার পরাশক্তি ভারত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে নতুন অপপ্রচার শুরু করেছে। ভারতের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম কে দাস সম্প্রতি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন ব্যাটালিয়নগুলোতে প্রথাগত রণধ্বনি 'জয় বাংলা' পরিবর্তন করে 'আল্লাহু আকবার' করা হয়েছে। ভারতীয় জেনারেলের এই মন্তব্যের উদ্দেশ্য অত্যন্ত স্পষ্ট—তারা আন্তর্জাতিক মহলে দেখাতে চায় যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ক্রমশ পাকিস্তানপন্থী বা চরমপন্থী ধারায় রূপান্তর হচ্ছে। ভারতের এই মনগড়া উদ্বেগ আসলে বাংলাদেশের স্বাধীন সামরিক পুনর্গঠনকে বাধাগ্রস্ত করার এবং বিশ্বমঞ্চে ঢাকাকে কোণঠাসা করার একটি গভীর ভারতীয় প্রোপাগান্ডা বৈ কিছু নয়।

৫. চার খলিফার নামে নতুন কোম্পানি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাজার বছরের ঐতিহ্য

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্প্রতি তাদের নতুন সাংগঠনিক কাঠামোতে চারটি বিশেষ কোম্পানি গঠন করেছে, যেগুলোর নামকরণ করা হয়েছে ইসলামের চার খলিফা—হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.), Hazrat ওসমান (রা.), এবং হযরত আলী (রা.)-এর নামে। এই খবরটি প্রকাশ হওয়ার পর বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ সাধারণ জনগণ এবং সেনাবাহিনীর জোয়ানদের মধ্যে ব্যাপক আনন্দের জোয়ার বয়ে গেছে। তবে ভারতের তথাকথিত 'দাদাবাবু' বা নীতিনির্ধারকরা একে পাকিস্তানের প্রভাব বলে উসকানি দিচ্ছে। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, 'নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবার' স্লোগানটি কোনো পাকিস্তানি আমদানি নয়। এটি বাংলার সুলতানি আমল থেকে শুরু করে ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ, শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ, এবং ইসলাম খাঁর আমল পর্যন্ত বাংলার মুসলিম সৈন্যদের ঐতিহ্যবাহী যুদ্ধধ্বনি ছিল। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের সেনারা তাদের নিজস্ব ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ধারণ করবে, এটাই স্বাভাবিক এবং এতে দিল্লির আপত্তির কোনো আইনি বা নৈতিক ভিত্তি নেই।

৬. ৪৫ বছর পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম খুনির গ্রেপ্তার ও ভারতীয় সংযোগ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায় হচ্ছে ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী এবং জিয়াউর রহমানকে প্রথম গুলি করা ও পরবর্তীতে তার লাশ পাহাড়ে দাফনকারী মেজর (অব.) মুজাফফর আহমেদ ঢাকার ডিওএইচএস থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে সবচেয়ে বিস্ফোরক তথ্য হলো, বিগত সাড়ে চার দশক ধরে এই কুখ্যাত খুনি ভারতের মাটিতে নিরাপদ আশ্রয় উপভোগ করছিল। ভারত সরকার জিয়াউর রহমানের মতো একজন রাষ্ট্রপতির খুনিকে কেন আশ্রয় দিল, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সরাসরি নির্দেশে বা র-এর (RAW) পৃষ্ঠপোষকতায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল, যার প্রমাণ মেলে এই খুনিদের দীর্ঘদিন ভারতে লালন-পালন করার মধ্য দিয়ে।

৭. বাংলাদেশের অপরাধী ও স্বৈরাচারের দোসরদের অভয়ারণ্য যখন ভারত

শুধুমাত্র শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খুনিই নয়, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এদেশের যত বড় বড় ডাকাত, মানি লন্ডারার, খুনি এবং চোর-বাটপার রয়েছে, তাদের সবার শেষ আশ্রয়স্থল হয় ভারত। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের বিপ্লবী ছাত্রনেতা শহীদ উসমান হাদির খুনিরা ভারতের গোয়ার সমুদ্র সৈকতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর ছবি পাঠিয়েছে। এমনকি ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের গণহত্যাকারী ও স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা এবং আমলারা বর্তমানে ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। প্রশ্ন উঠেছে, ভারত কেন বাংলাদেশের জনগণের শত্রুদের এভাবে নিরাপদ ট্রানজিট ও নাগরিক সুবিধা দিচ্ছে? মুজাফফর আহমেদকে রিমান্ডে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করলে ভারতের এই নোংরা চক্রান্তের থলের বিড়াল সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসবে।

৮. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন বিদেশ সফর পরিকল্পনা ও ভারত সফর বর্জন

বাংলাদেশের বর্তমান উদ্ভূত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি তার পূর্বনির্ধারিত ভারত সফর সাময়িকভাবে স্থগিত বা বর্জন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভারত সরকার বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সাথে শুরু থেকেই বিমাতাসুলভ আচরণ করে আসছে। সীমান্তে নিরপরাধ বাংলাদেশিদের হত্যা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে পুশ-ইন করার মতো আগ্রাসী নীতির কারণে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে। এই অবস্থায় তারেক রহমান ভারতের পরিবর্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, তুরস্ক এবং সৌদি আরব সফরের পরিকল্পনা করছেন, যা বাংলাদেশের জন্য প্রকৃত অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ও ভূ-রাজনৈতিক শক্তি বয়ে আনবে।

৯. ঢাকা প্রেস ক্লাবে জুলাই বিপ্লববিরোধী মুখোশধারী চক্রান্ত ও দিল্লির অর্থায়ন

বাংলাদেশের মাটিতে সংঘটিত চব্বিশের জুলাই বিপ্লবকে নস্যাৎ করার জন্য একটি গভীর আন্ডারগ্রাউন্ড চক্রান্ত শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে একদল মুখোশধারী ব্যক্তি জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান ও মানববন্ধন করেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এই তথাকথিত আন্দোলনকারীদের নেপথ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান দিচ্ছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র (RAW)। বাংলাদেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করে পুনরায় ফ্যাসিবাদের ভূত ফিরিয়ে আনার এই অপচেষ্টা রুখে দিতে দেশের ছাত্র-জনতা ও বর্তমান প্রশাসন সম্পূর্ণ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

১০. ভারতের কলকাতায় ১৩৩ বছরের প্রাচীন মসজিদে নামাজ বন্ধ ও তীব্র মুসলিম নিপীড়ন

ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মুসলিম নিধনের এজেন্ডা এখন চরম আকার ধারণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার একটি ১৩৩ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মসজিদে নামাজ আদায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন। এর প্রতিবাদে কলকাতার প্রায় এক কোটি মুসলমান যখন ঐতিহাসিক গণজমায়েত ও নামাজ আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে, তখন শুভেন্দু সরকার সেখানে তড়িঘড়ি করে ১৪৪ ধারা জারি করে মুসলিম নেতাদের অবরুদ্ধ করে। শুধু তাই নয়, গত মাত্র দুই-তিন মাসে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ২৩টি ঐতিহাসিক মসজিদ ও মাদ্রাসা বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারতের এই চরম সাম্প্রদায়িক রূপ প্রমাণের পরও যারা বাংলাদেশে বসে দিল্লির দালালি করে, তাদের আসল চরিত্র দেশপ্রেমিক জনগণের কাছে উন্মোচিত হয়েছে।

১১. মালদা আদিনা মসজিদকে মন্দির বানানোর উগ্র সনাতনী চক্রান্ত ও নিখিল বঙ্গের উত্তেজনা

পশ্চিমবঙ্গের মালদায় অবস্থিত উপমহাদেশের এবং প্রাচীন বেঙ্গল সালতানাতের অন্যতম বৃহত্তম স্থাপত্য নিদর্শন 'আদিনা মসজিদ' নিয়ে এক ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক চক্রান্ত শুরু হয়েছে। ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো দাবি করছে যে এটি মূলত একটি আদিনা মন্দির ছিল এবং আগামী ২৭ জুলাই তারা এই ঐতিহাসিক মসজিদের ভেতরে জোরপূর্বক পূজা অর্চনার ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র নিখিল বঙ্গ বা দুই বাংলা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজ ও ওলামা সমাজ এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে এক বিশাল গণবিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে।

১২. ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজে নেতানিয়াহুকে পাত্তা না দেওয়া ও দুই নেতার ইগো সংঘাত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ফাটল দেখা দিয়েছে। ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী সোমবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে দেখা করার জন্য হোয়াইট হাউজের শিডিউল চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিগত দুই সপ্তাহ ধরে নেতানিয়াহুকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলছেন এবং কোনো সাক্ষাতের সময় দেননি। অতীতের মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেমন বারাক ওবামাকে হোয়াইট হাউজে বসে পায়ের ওপর পা তুলে অপমান করেছিলেন নেতানিয়াহু, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষেত্রে তা খাটছে না। ট্রাম্প তার শেষ মেয়াদে নিজের একক ক্ষমতা ও ইগো প্রদর্শন করছেন এবং নেতানিয়াহুকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে আমেরিকার ইচ্ছায় ইসরাইল চলবে, ইসরাইলের ইচ্ছায় আমেরিকা নয়।

১৩. তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ ফাইটার জেট বিক্রি এবং ইসরাইল-আমেরিকা ফাটল

আমেরিকা ও ইসরাইলের মধ্যে বর্তমান টানাপড়েনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো ন্যাটোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তুরস্কের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এফ-৩৫ (F-35) ফিফথ জেনারেশন ফাইটার জেট বিক্রির সিদ্ধান্ত। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে তুরস্ককে নিজেদের পক্ষে রাখা জরুরি। কিন্তু নেতানিয়াহু ও তার লিকুদ পার্টি এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছে। নেতানিয়াহুর অহংকারী নীতি হলো—বিশ্বের সব আধুনিক অস্ত্র কেবল ইসরাইল পাবে, মুসলিম বা আরব দেশগুলো কিছুই পাবে না। ট্রাম্প নেতানিয়াহুর এই অযৌক্তিক একগুঁয়েমি পছন্দ করছেন না এবং মার্কিন প্রশাসন গোপনে লিকুদ পার্টি থেকে নেতানিয়াহুকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ঘুঁটি চালছে বলে জানা গেছে।

১৪. হরমোজ প্রণালীতে তেলের ট্যাংকার চলাচল হ্রাস ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উৎপাদন বন্ধ

ইরানের আকাশসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে তেহরান হরমোজ প্রণালীতে তাদের নিয়ন্ত্রণ কঠোর করেছে। গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন মাত্র আটটি তেলের জাহাজ এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে চলাচল করেছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ না হলে হরমোজ প্রণালী দিয়ে কোনো দেশের তেলের ট্যাংকার নিরাপদ থাকবে না। এই হুমকির মুখে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিখ্যাত 'ডানা' তেল কোম্পানি তাদের সবগুলো ওয়েলফিল্ডে জ্বালানি তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

১৫. বাংলাদেশের বন্যা ও ফারাক্কার পানির আগ্রাসন: পাশে দাঁড়িয়েছে ভ্রাতৃপ্রতিম ইরান

বাংলাদেশ যখন প্রতি বছরের মতো এবারও ভারতের ফারাক্কা ও অন্যান্য বাঁধের হঠাৎ ছেড়ে দেওয়া পানিতে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে, তখন ভারতের তথাকথিত বন্ধুত্বের মুখোশ আবারও উন্মোচিত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে রেখে বাংলাদেশকে মরুভূমি বানানো এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিয়ে ডুবিয়ে মারার এই ভারতীয় আগ্রাসনের মুখে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র ইরান। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট ও সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য বিশাল ত্রাণ সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে, যা প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক সংকটে কে আমাদের প্রকৃত বন্ধু আর কে ছদ্মবেশী শত্রু।

Chronicle Point Analysis:

  • ১. কুয়েতে জরুরি অবস্থা: ইরানের সূক্ষ্ম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কুয়েতের জীবনরেখা তথা পানি ও বিদ্যুৎ খাতকে অচল করে দিয়ে প্রমাণ করেছে যে, মার্কিন ঘাঁটি পাহারা দিতে গিয়ে আরবদের চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে।
  • ২. মানবঢাল কৌশল: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সেনা বাঁচাতে কুয়েতি বা স্থানীয় আরব সৈন্যদের ফ্রন্টলাইনে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার যে নোংরা সামরিক কৌশল নিয়েছিল, তা এখন সম্পূর্ণ ফাঁস হয়ে গেছে।
  • ৩. ট্রাম্পের দ্বিচারিতা: ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধনীতি হলো যুদ্ধ হবে আরবদের মাটিতে, ধ্বংস হবে আরবদের অর্থনীতি, আর ফায়দা লুটবে ওয়াশিংটনের অস্ত্র ব্যবসায়ীরা।
  • ৪. ভারতীয় অপপ্রচার: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন ব্যাটালিয়ন নিয়ে ভারতীয় জেনারেল এম কে দাসের মিথ্যাচার আসলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা।
  • ৫. ঐতিহাসিক রণধ্বনি: 'আল্লাহু আকবার' বা 'নারায়ে তাকবীর' বাংলার মুসলিম সৈন্যদের নিজস্ব সত্ত্বা ও হাজার বছরের ঐতিহ্য, যা ভারতের উগ্রপন্থী নীতিনির্ধারকদের মনে তীব্র ভয়ের সঞ্চার করেছে।
  • ৬. জিয়া হত্যার নেপথ্য নায়ক: দীর্ঘ ৪৫ বছর পর মুজাফফর আহমেদের ভারত থেকে এসে ধরা পড়া প্রমাণ করে যে, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ডদের সুনিশ্চিত আশ্রয়দাতা ছিল নয়াদিল্লি।
  • ৭. অপরাধীদের স্বর্গরাজ্য: বাংলাদেশ বিরোধী সমস্ত খুনি, পাচারকারী এবং জুলাই গণহত্যার ঘাতকদের আশ্রয় দিয়ে ভারত ক্রমাগত একটি বৈরী প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করছে।
  • ৮. তারেক রহমানের কূটনৈতিক দূরদর্শিতা: ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পুশ-ইন এবং সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে তারেক রহমানের ভারত সফর বর্জন ও বিকল্প পরাশক্তিগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়া একটি সঠিক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
  • ৯. প্রেস ক্লাবের ষড়যন্ত্র: ঢাকার বুকে মুখোশধারী জুলাই বিপ্লববিরোধীদের অর্থায়ন সরাসরি র (RAW) থেকে আসছে, যার লক্ষ্য বাংলাদেশে একটি কৃত্রিম গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করা।
  • ১০. ভারতে মুসলিম নিধন: কলকাতায় শতবর্ষী মসজিদে নামাজ বন্ধ এবং দেশজুড়ে ২৩টি মসজিদ ভাঙার ঘটনা প্রমাণ করে যে, ভারত এখন একটি উগ্র হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছে।
  • ১১. আদিনা মসজিদ সংকট: মালদার আদিনা মসজিদকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি করা হচ্ছে, তা মূলত পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অধিকার পুরোপুরি খর্ব করার একটি সুদূরপ্রসারী নীলনকশা।
  • ১২. ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ফাটল: হোয়াইট হাউজে নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের পাত্তা না দেওয়া ইঙ্গিত করে যে, ওয়াশিংটন এখন ইসরাইলের একক স্বৈরাচারী ও একগুঁয়ে নীতি থেকে নিজেদের কিছুটা দূরে সরাতে চায়।
  • ১৩. তুরস্কের এফ-৩৫ সমীকরণ: ন্যাটোর স্বার্থে তুরস্ককে শক্তিশালী করা আমেরিকার জন্য বাধ্যবাধকতা হলেও ইসরাইল তা মেনে নিতে পারছে না, যা পশ্চিমা সামরিক জোটে এক বড় ফাটল সৃষ্টি করেছে।
  • ১৪. হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ: ইরান হরমোজ প্রণালীর অর্থনৈতিক করিডোর বন্ধ করে দিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব ও তাদের তাবেদার আরব আমিরাতের তেল অর্থনীতিকে এক মহাসংকটে ফেলে দিয়েছে।
  • ১৫. ইরানের ত্রাণ ও প্রকৃত বন্ধুত্ব: ফারাক্কার ভারতীয় পানির আগ্রাসনের বিপরীতে ইরানের ত্রাণ সহায়তা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ বৈশ্বিক মুসলিম উম্মাহর সাথে জোটবদ্ধ হলে যেকোনো আঞ্চলিক আগ্রাসন মোকাবেলা করতে সক্ষম।

পাঠকদের জিজ্ঞাসিত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

১. ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় কুয়েতের কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে? ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় কুয়েতের প্রধান পানি বিশুদ্ধকরণ প্রকল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ২. মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পরও মার্কিন সেনারা অক্ষত রইল কীভাবে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘাঁটির প্রথম সারির নিরাপত্তা ও পেরিফেরি সুরক্ষায় স্থানীয় কুয়েতি সেনাদের মোদায়েন করে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় কুয়েতি সেনারা হতাহত হয়েছে এবং মার্কিন সেনারা রক্ষা পেয়েছে। ৩. ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে কার্টুনিস্টরা কী এঁকেছেন? কার্টুনিস্টরা দেখিয়েছেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্প আরব ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের দিকে কামান দাগছেন, কিন্তু ইরানের পাল্টা হামলার সময় তিনি আরবদেরকেই ঢাল হিসেবে সামনে এগিয়ে দিচ্ছেন। ৪. বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে ভারতের জেনারেল এম কে দাস কী দাবি করেছেন? তিনি দাবি করেছেন যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন ব্যাটালিয়নগুলোতে রণধ্বনি 'জয় বাংলা' পরিবর্তন করে 'আল্লাহু আকবার' করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ-পাকিস্তানের গভীর সম্পর্কের লক্ষণ। ৫. বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন চারটি কোম্পানির নাম কী রাখা হয়েছে? ইসলামের চার খলিফা—হযরত আবু বকর (রা.), হযরত ওমর (রা.), হযরত ওসমান (রা.) এবং হযরত আলী (রা.)-এর পবিত্র নামে নতুন চারটি কোম্পানির নামকরণ করা হয়েছে। ৬. 'আল্লাহু আকবার' রণধ্বনি কি পাকিস্তান থেকে এসেছে? না, এই রণধ্বনি পবিত্র মক্কা-মদিনা এবং বদর-ওহুদের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে এসেছে। বাংলার ইতিহাসেও ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ ও সুলতানদের আমলে এটিই ছিল প্রধান যুদ্ধ স্লোগান। ৭. শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কোন খুনি দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার হয়েছে? জিয়াউর রহমানকে প্রথম গুলি করা এবং তার লাশ চট্টগ্রামে দাফনকারী কুখ্যাত মেজর (অব.) মুজাফফর আহমেদ দীর্ঘ ৪৫ বছর পর ঢাকার ডিওএইচএস থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে। ৮. মুজাফফর আহমেদ এতদিন কোথায় লুকিয়ে ছিল? গ্রেপ্তার হওয়ার আগে মুজাফফর আহমেদ দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ভারতের মাটিতে রাষ্ট্রীয় বা বিশেষ আশ্রয়ে নিরাপদ জীবন যাপন করছিল। ৯. বাংলাদেশের অপরাধীদের জন্য ভারত কেন নিরাপদ আশ্রয়স্থল? ভারত রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে এবং বাংলাদেশকে চাপে রাখতে এদেশের জিয়াউর রহমানের খুনি, জুলাই গণহত্যার আসামী ও মানি লন্ডারারদের দীর্ঘকাল ধরে নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে আসছে। ১০. প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কেন ভারত সফর বর্জন করছেন? সীমান্তে অন্যায়ভাবে নিরপরাধ বাংলাদেশিদের হত্যা, পুশ-ইন এবং বাংলাদেশের প্রতি দিল্লির ক্রমাগত বিমাতাসুলভ ও আগ্রাসী আচরণের প্রতিবাদে তিনি ভারত সফর বর্জন করছেন। ১১. ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে মুখোশধারীদের আন্দোলনের পেছনে কারা রয়েছে? গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের চেতনা নস্যাৎ করতে ঢাকার বুকে মুখোশ পরে আন্দোলন করা এই ব্যক্তিদের নেপথ্যে অর্থায়ন করছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র (RAW)। ১২. কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন মুসলমানদের ওপর কী নিপীড়ন চালিয়েছে? কলকাতার একটি ১৩৩ বছরের প্রাচীন ঐতিহাসিক মসজিদে নামাজ আদায় সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে এবং এর প্রতিবাদে এক কোটি মুসলিমের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে। ১৩. মালদার আদিনা মসজিদ নিয়ে কী চক্রান্ত চলছে? উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো আগামী ২৭ জুলাই বেঙ্গল সালতানাতের ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদের ভেতর জোরপূর্বক আদিনা মন্দির দাবি করে পূজা অর্চনার চক্রান্ত করছে। ১৪. ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে দেখা করার সময় দিচ্ছেন না? নেতানিয়াহু মার্কিন স্বার্থের তোয়াক্কা না করে তুরস্কের কাছে এফ- can ৩৫ ফাইটার জেট বিক্রির বিরোধিতা ও ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করায় ট্রাম্প তার ইগো থেকে নেতানিয়াহুকে পাত্তা দিচ্ছেন না। ১৫. বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বন্যায় কোন মুসলিম দেশ পাশে দাঁড়িয়েছে? ভারতের ফারাক্কা বাঁধের ছেড়ে দেওয়া পানিতে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় বাংলাদেশের বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে ভ্রাতৃপ্রতিম রাষ্ট্র ইরান।

লেখাটি কি আপনার উপকারে এলো? প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দিন

Website Total View