মধ্যপ্রাচ্যে দাবানল: ১১ দিনে ১১টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ১৭টি ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের, রাশিয়ার স্যাটেলাইট সহায়তা ও ট্রাম্পের রণকৌশলে চরম গোলকধাঁধা

📅 জুলাই, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে দাবানল: ১১ দিনে ১১টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ১৭টি ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের, রাশিয়ার স্যাটেলাইট সহায়তা ও ট্রাম্পের রণকৌশলে চরম গোলকধাঁধা

📅 ২৬ জুলাই, ২০২৬ | ✍️ বিশেষ প্রতিনিধি, Chronicle Point

বিশ্ব ভূরাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক সমীকরণে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন উত্তাপ। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সরাসরি সংঘাত এক নতুন এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড়ে গিয়ে পৌঁছেছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্য এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা খবরাখবর বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও বিমান বহরের ওপর ইরানের হামলার তীব্রতা আগের সমস্ত রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ৮ই জুলাই থেকে ২২শে জুলাই—এই ১১ দিনের মধ্যে মার্কিন বাহিনীর অন্তত ১১টি যুদ্ধবিমান, ১৭টি ড্রোন এবং আটটি প্রধান সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপকভাবে প্রিসাইজ বা নিখুঁত হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। অন্যদিকে, ক্যাস্পিয়ান সাগরে ইরানি বেসামরিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলা, মস্কোর পক্ষ থেকে ইরানকে রিয়েল-টাইম স্যাটেলাইট গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ সামরিক মতবিরোধ মিলিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন এক পারমাণবিক মহাযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। ক্রনিকল পয়েন্ট (Chronicle Point)-এর এই বিশেষ বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ঘটনার গভীর নেপথ্য ও সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক পরিণতি।

১. ১১ দিনে ১১টি মার্কিন বিমান ও ১৭টি ড্রোন ধ্বংসের আইআরজিসি দাবি

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসাইন মুহেব্বি এক চাঞ্চল্যকর বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, ৮ই জুলাই থেকে ২২শে জুলাই পর্যন্ত সময়কালে জর্ডান, কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে তীব্রতম আক্রমণ চালানো হয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, উক্ত ১১ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-ফাইভ (F-5) ফাইটার জেট, একটি পি-৮ (P-8 Poseidon) মেরিটাইম পেট্রোল বিমান, একটি সি-১৭ (C-17 Globemaster) হেভি ট্রানসপোট বিমান এবং আটটি মাঝআকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী রিফুয়েলিং ট্যাংকার বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। একইসাথে ১৭টি চালকবিহীন আকাশযান বা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়, যার মধ্যে ৮টি ছিল সর্বাধুনিক মডেলের। এই নজিরবিহীন সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ওয়াশিংটনের পেন্টাগনকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। ইস্তাম্বুল থেকে বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সরওয়ার আলমের বিশেষ প্রতিবেদন এবং ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রাথমিক সূত্রমতে, গত ৮ই জুলাই থেকে ২২শে জুলাই পর্যন্ত সময়কালে তেহরান ও ওয়াশিংটনের লড়াই চরম রূপ ধারণ করেছে। ইরানের বিপ্লবীদের পক্ষ থেকে মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসাইন মুহেব্বি যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছেন, তা প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদেরও হতবাক করে দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন যে, এই স্বল্প পরিসরে মার্কিন বিমান বাহিনীর অন্তত ১১টি অতি-গুরুত্বপূর্ণ বিমান ও হেলিকপ্টার ভূপাতিত বা ধ্বংস করা হয়েছে। ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমানের মধ্যে রয়েছে কৌশলগত F-5 ফাইটার জেট, সমুদ্রপথে নজরদারির জন্য নির্ধারিত P-8 মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফট, এবং বিশাল আকৃতির C-17 সামরিক পরিবহন বিমান। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মার্কিন বিমান বাহিনীর রিফুয়েলিং বা জ্বালানি ভরার ক্ষমতার ওপর, যেখানে অন্তত ৮টি ট্যাংকার বিমান একেবারে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ১৭টি উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন খসে পড়েছে, যার মধ্যে ৮টিই ছিল পেন্টাগনের সদ্য মোতায়েন করা গোপন মডেলের ড্রোন। এই আঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান টহলের সক্ষমতা অন্তত ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

২. মধ্যপ্রাচ্যের ৮টি মার্কিন ঘাঁটিতে ধ্বংসযজ্ঞ ও অবকাঠামোগত বিপর্যয়

আইআরজিসির তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৮টি কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিতে সমন্বিত ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ৯টি কমান্ড সেন্টার, ৫টি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন হাব, ৬টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার, ৮টি নজরদারি রাডার, ৭টি এয়ার ডিফেন্স রাডার, ১৭টি মূল অস্ত্র ডিপো, ১২টি বৃহৎ জ্বালানি ট্যাংক, ৬টি মিসাইল হ্যাঙ্গার, ৪টি হিমার্স (HIMARS) রকেট লঞ্চার এবং ১টি ইন্টেলিজেন্স ডাটা সেন্টার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। এমনকি একটি ঘাঁটিতেই অন্তত ২০টি ভূগর্ভস্থ শেল্টার পুরোপুরি ধ্বংস করার তথ্য দিয়েছে ইরান। পেন্টাগনের গত চার মাসের সম্মিলিত ক্ষতির চেয়েও এই ১১ দিনের ক্ষতি বহু গুণে বেশি বলে দাবি করা হচ্ছে। তেহরানের সমরকৌশল এবার কেবল আকাশসীমার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তারা আরব উপদ্বীপ ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের ৮টি আমেরিকান সামরিক ঘাঁটিকে সরাসরি টার্গেট করেছে। আইআরজিসির তথ্যমতে, বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতের ঘাঁটিতে চালানো ড্রোন ও সুনির্দিষ্ট ক্ষপণাস্ত্রের আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ৯টি কেন্দ্রীয় কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করতে ৫টি স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন হাব ধ্বংস করা হয়। মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ৬টি প্যাট্রিয়ট রাডার, ৮টি উন্নত নজরদারি রাডার এবং ৭টি এয়ার ডিফেন্স রাডার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ফলে পেন্টাগন কার্যত অন্ধ হয়ে পড়েছে। এছাড়া ১৭টি অস্ত্র ডিপো, ১২টি বিশালাকার জ্বালানি মজুত ট্যাংক, ৬টি মিসাইল হ্যাঙ্গার, ৪টি হিমার্স লঞ্চার এবং ১টি ইন্টেলিজেন্স ডাটা সেন্টার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কোনো এক একক ঘাঁটিতেই ইরানের মিসাইল ২০টির বেশি বুলেটপ্রুফ শেল্টার ধ্বংস করে দিয়েছে, যা পেন্টাগনের ইতিহাসে বিরল।

৩. ২০০-র বেশি মার্কিন সৈন্য হতাহতের দাবি ও পেন্টাগনের তথ্যের ব্যবধান

ইরানের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, এই সাম্প্রতিক হামলায় ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন সামরিক সদস্য হতাহত হয়েছেন। যদিও পেন্টাগন ও মার্কিন প্রধান গণমাধ্যমগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে চার থেকে পাঁচজন সৈন্য নিহত এবং ১৮ জন আহত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে, তবে তেহরানের দাবি—হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে গোপন করছে। স্বাধীন সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে স্থানান্তরিত হওয়া আহত সেনাসদস্যদের হিসাব একত্র করলে নিহতের সংখ্যা না হলেও গুরুতর আহতের সংখ্যা দুই শতাধিক অতিক্রম করা অস্বাভাবিক নয়। হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশে মার্কিন পেন্টাগন বরাবরই অত্যন্ত সতর্ক ও সংবেদনশীল। ওয়াশিংটন দাবি করেছিল যে এই যুদ্ধে তাদের মাত্র ৪-৫ জন সেনা নিহত এবং ১৮ জন আহত হয়েছে। কিন্তু ইরানি মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি। তাদের হিসাবে ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনাসদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিহতের ঘটনা ঘটেছে বাহরাইন ও জর্ডানের কমান্ডার সেন্টারে আঘাত হানার পর। মধ্যপ্রাচ্যের হাসপাতালগুলোতে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন সৈনিকদের গোপন তালিকা এবং ফিল্ড হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ফ্লাইটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী স্বাধীন গবেষকরাও নিশ্চিত করছেন যে হতাহতের ঘটনা পেন্টাগনের দাবিকৃত সংখ্যার চেয়ে বহুগুণ বেশি। তেহরানের মতে, মার্কিন প্রশাসন নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং নির্বাচনের মুখে সৈন্যদের মনোবল বজায় রাখতে প্রকৃত মৃত্যুর সংবাদ চেপে যাচ্ছে।

৪. ব্রিটেন ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতি তেহরানের চরম হুঁশিয়ারি

যুক্তরাজ্য যদি তাদের সাইপ্রাস বা মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটি থেকে বি-ওয়ান (B-1) কৌশলগত বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলায় অংশ নেয়, তবে ব্রিটেনকেও এই যুদ্ধের সরাসরি পক্ষ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে সতর্ক করেছে আইআরজিসি। একইভাবে কুয়েত, বাহরাইন কিংবা জর্ডানের মতো যেসব উপসাগরীয় দেশ মার্কিন বাহিনীকে ভূমি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও পৃথক সামারিক সিনারিও প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পেন্টাগনকে সহায়তা করা প্রতিটি আঞ্চলিক অনুঘটকই এখন ইরানি ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্রের বৈধ লক্ষ্যবস্তু। উপসাগরীয় যেসকল আরব রাষ্ট্র ওয়াশিংটনকে নিজেদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ওপর আক্রমণ করার সুবিধা দিচ্ছে, তাদের সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের মতো রাষ্ট্রগুলোকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তাদের ভূখণ্ড যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে ব্যবহৃত হয়, তবে সেগুলোকে 'শত্রুভাবাপন্ন অঞ্চল' হিসেবে গণ্য করে মিসাইল বর্ষণ করা হবে। পাশাপাশি ব্রিটেনের প্রতিও একই কড়া বার্তা পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাজ্য সাইপ্রাসের আক্রোতিরি ঘাঁটি বা অন্যান্য আঞ্চলিক বেস থেকে B-1 বোমারু বিমান উড়িয়ে যদি ইরানি ভূখণ্ডে হামলার পায়তারা করে, তবে মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রতিটি ঘাঁটি ও রণতরীকে ধ্বংসের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, যেকোনো দেশের জন্যই ভিন্ন ভিন্ন আক্রমণাত্মক 'সিনারিও' বা সামরিক রেসপন্স ফাইল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

৫. ক্যাস্পিয়ান সাগরে ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের হামলা ও কূটনৈতিক উত্তাপ

ক্যাস্পিয়ান সাগরে ভাসমান একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভের দাবি, এই জাহাজের মাধ্যমে ইরান থেকে রাশিয়ায় সামরিক সরঞ্জাম ও ড্রোন আদান-প্রদান করা হচ্ছিল। কিন্তু তেহরান এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে এটিকে আন্তর্জাতিক নৌ-আইন ও আন্তর্জাতিক জলসীমার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া কূটনৈতিক হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে এবং এই ধরনের উসকানিমূলক আচরণের পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে ইউক্রেনকে সতর্ক করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের রেশ এবার সরাসরি ছড়িয়ে পড়েছে পারস্য উপসাগর ও ক্যাস্পিয়ান সাগরে। ক্যাস্পিয়ান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভাসমান একটি ইরানি বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ইউক্রেনীয় কামিকাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কিয়েভের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেন যে, এই জাহাজের মাধ্যমে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সামরিক ড্রোন ও ক্ষপণাস্ত্র উপাদান আদান-প্রদান করা হচ্ছিল। কিন্তু ইরান এই আক্রমণকে নগ্ন জলদস্যুতা এবং আন্তর্জাতিক নৌ-আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরান জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ একটি বেসামরিক রসদবাহী জাহাজ ছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে তেহরানে দায়িত্বরত ইউক্রেনীয় কূটনীতিকদের জরুরি তলব করে কঠোর কূটনৈতিক হুঁশিয়ারি ও পরিণতি ভোগ করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

৬. রাশিয়ার রিয়েল-টাইম স্যাটেলাইট নজরদারি ও গোয়েন্দা সহযোগিতা

ইউক্রেনীয় ও পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মস্কো তার সামরিক স্যাটেলাইট বহর ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালাচ্ছে। জুলাইয়ের ১৯ ও ২০ তারিখে বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতের চারটি মার্কিন বিমান ঘাঁটির অত্যন্ত স্পষ্ট স্যাটেলাইট ছবি ও রিয়েল-টাইম লোকেশন ডাটা ইরানের কাছে হস্তান্তর করে রাশিয়া। এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ইরান তাদের শাহেদ ড্রোন ও হাইপারসনিক মিসাইল দিয়ে মার্কিন নিখুঁত রাডার ও বিমান হ্যাঙ্গারে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। ফলে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত গোয়েন্দা আদান-প্রদান এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ক্যাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনের হামলার নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে গড়ে ওঠা গভীর কৌশলগত ও গোয়েন্দা অক্ষ। ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাশিয়ার সামরিক স্যাটেলাইট বহর মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান বিমান ঘাঁটি এবং রণতরীগুলোর গতিবিধির ওপর ২৪ ঘণ্টা রিয়েল-টাইম নজরদারি চালাচ্ছে। বিশেষ করে গত ১৯ ও ২০শে জুলাই, রাশিয়ার স্যাটেলাইট বাহরাইনে ২টি, জর্ডানে ১টি এবং কুয়েতে ১টি মার্কিন ঘাঁটির নিখুঁত মানচিত্র ও স্থানিক ডাটা ইরানের কাছে পাঠায়। এই সুনির্দিষ্ট স্যাটেলাইট কোঅর্ডিনেট ব্যবহার করেই ইরান তাদের শাহেদ-১৩৬ ও ফাতাহ হাইপারসনিক মিসাইল ঠিক সেই মুহূর্তে নিখুঁতভাবে উৎক্ষেপণ করে, যখন বিমানগুলোতে জ্বালানি ভরা হচ্ছিল বা হ্যাঙ্গারে রাখা ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের এই বিনিময় মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষাকে পুরোপুরি পরাস্ত করেছে।

৭. ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানি পারমাণবিক কেন্দ্রে ১,০০০ সেনা পাঠানোর গোপন নকশা

নিউইয়র্ক পোস্ট এবং রাশিয়ার তাস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এক রোমাঞ্চকর সামরিক পরিকল্পনার কথা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো, বিশেষ করে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে রক্ষিত উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখল বা ধ্বংস করার জন্য ১,০০০-এর বেশি মার্কিন পদাতিক সৈন্য ও স্পেশাল ফোর্সের সমন্বয়ে একটি বিশেষ অভিযানের খসড়া অনুমোদন করেছিলেন। ইতিহাস সৃষ্টিকারী এই কমান্ডো অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল ইউরেনিয়াম জব্দ করে আমেরিকায় নিয়ে আসা এবং ইরানের পারমাণবিক স্বপ্ন চিরতরে ধূলিসাৎ করে দেওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী মহলে ইরানের পারমাণবিক স্বপ্ন নস্যাৎ করার জন্য এক অভূতপূর্ব দুঃসাহসিক সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নিউইয়র্ক পোস্ট এবং রাশিয়ান তাস নিউজের প্রতিবেদনে জানা যায়, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ অন্যান্য ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় ১,০০০-এরও বেশি মার্কিন পদাতিক সৈন্য ও নেভি সিল স্পেশাল ফোর্সের কমবাইন টিমের মাধ্যমে এক কমান্ডো রেইড চালানোর খসড়া তৈরি করেছিল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পদাতিক সেনারা পারমাণবিক সাইটের চারপাশে একটি সুরক্ষিত নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করবে এবং স্পেশাল ফোর্স ভেতরে ঢুকে সঞ্চিত উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (Enriched Uranium) জব্দ করে মার্কিন বিমানে তুলে নিয়ে যাবে। সামরিক ইতিহাসে একে অন্যতম জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

৮. পেন্টাগনের মিসাইল ঘাটতি ও ট্রাম্পের পরিকল্পিত হামলা স্থগিতকরণ

ট্রাম্পের এই দুঃসাহসিক পারমাণবিক অভিযানের পরিকল্পনায় বিশাল বাধা হয়ে দাঁড়ান মার্কিন জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ বা সেনাপ্রধান। পেন্টাগনের শীর্ষ জেনারেলরা ট্রাম্পকে স্পষ্ট জানান যে, গত কয়েক মাসের যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র ভান্ডার মারাত্মকভাবে নিঃশেষ হয়ে গেছে। নতুন করে বৃহৎ পরিসরে ইরানে স্থল অভিযান চালাতে গেলে মার্কিন বাহিনী ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে। প্রয়োজনীয় মিসাইল ও রাডার ব্যাকআপ না থাকায় ট্রাম্প সাময়িকভাবে এই স্থল অভিযান ও পারমাণবিক হামলা স্থগিত করতে বাধ্য হন। তবে মার্কিন জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফ বা সেনাপ্রধান ট্রাম্পের এই আত্মঘাতী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্পষ্ট অসম্মতি প্রকাশ করেন। পেন্টাগনের শীর্ষ জেনারেলরা হোয়াইট হাউসের বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জানান যে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকান ঘাঁটিতে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় ব্যাপক পরিমাণ প্যাট্রিয়ট রাডার, ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এবং বোমারু বিমান ধ্বংস হয়ে গেছে। বিদ্যমান অস্ত্রাগার ও কমব্যাট সাপোর্ট দিয়ে ইরানি মূল ভূখণ্ডে ১,০০০ সৈন্য নামানো মানে তাদের সরাসরি মৃত্যুকূপে ঠেলে দেওয়া। পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষার ব্যাকআপ ছাড়া এই মিশন চালাতে গেলে হাজার হাজার মার্কিন সেনা প্রাণ হারাতে পারে। এই চরম সতর্কবাণীর মুখে ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে তার পারমাণবিক রেইডের সিদ্ধান্ত স্থগিত করতে বাধ্য হন।

৯. জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থায় ভোটাভুটি ও মার্কিন-রুশ বিরল মেরুকরণ

জাতিসংঘের বিশ্ব মানবাধিকার ও শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক-এর পুনন্নিয়োগ সংক্রান্ত ভোটাভুটিতে এক অভূতপূর্ব কূটনৈতিক দৃশ্যপট তৈরি হয়। জাতিসংঘের ১৯৩টি দেশের মধ্যে মাত্র ১০টি দেশ এই পুনন্নিয়োগের বিপক্ষে ভোট দেয়। আশ্চর্যজনকভাবে এই ১০টি দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পাশে অবস্থান নেয় রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, আর্জেন্টিনা, বুর্কিনা ফাসো, মালি, নিকারাগুয়া, নাইজার এবং ট্রিনিডাদ ও টোবাগো। মানবাধিকার ও শরণার্থী ইস্যুতে চিরশত্রু উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার সাথে আমেরিকার একই ব্লকে ভোট প্রদান বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হাস্যাস্পদ ও বিতর্কিত পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR)-এর প্রধান ভলকার তুর্ক-এর পুনন্নিয়োগকে কেন্দ্র করে এক অদ্ভুত কূটনৈতিক নাটক সংঘটিত হয়। জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ভোটে কেবল ১০টি দেশ ভলকার তুর্কের পুনন্নিয়োগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই বিরোধিতা করা ১০টি দেশের মধ্যে একই কাতারে দেখা যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, আর্জেন্টিনা, বুর্কিনা ফাসো, মালি, নিকারাগুয়া, নাইজার এবং ট্রিনিডাদ ও টোবাগোকে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া ও মানবতাবাদী সংকটের জন্য কুখ্যাত উত্তর কোরিয়ার সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক টেবিলে ভোট দেওয়া বিশ্বজুড়ে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির চরম অসঙ্গতি ও দ্বিচারিতাকে আবারও উন্মোচিত করেছে।

১০. ফ্রান্সের কড়া সমালোচনা ও পশ্চিমা ঐক্যে ফাটল

জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তাদেরই অন্যতম মিত্র দেশ ফ্রান্স। জাতিসংঘে ফরাসি স্থায়ী মিশনের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানবিক মূল্যবোধ ও শরণার্থী অধিকারের প্রশ্নে আমেরিকা নিজেকে উত্তর কোরিয়া বা স্বৈরাচারী শাসকদের কাতারে নামিয়ে এনেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে গভীর মতবিরোধ ও ফাটল দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘে আমেরিকার এই বিতর্কিত ভোটাভুটির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তাদেরই দীর্ঘদিনের পশ্চিমা মিত্র দেশ ফ্রান্স। জাতিসংঘে নিযুক্ত ফরাসি স্থায়ী মিশন তাদের অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) প্রোফাইলে এক কড়া বিবৃতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র সমালোচনা করে। ফরাসি কূটনীতিকরা উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবিক নীতিমালার বিরোধিতা করতে গিয়ে ওয়াশিংটন আজ ইতিহাসজুড়ে নিজেদের চিহ্নিত শত্রুদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বজুড়ে শরণার্থী সংকট সমাধানে আমেরিকার এই নেতিবাচক ভূমিকা পশ্চিমা ব্লকের ভেতরে বিদ্যমান গভীর ফাটল এবং ইউরোপ-আমেরিকার নীতিগত বৈপরীত্যকে সবার সামনে নিয়ে এসেছে।

১১. আইসিসি প্রসিকিউটর অপসারণ বিতর্ক ও নেতানিয়াহুর উল্লাস

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) যে প্রধান প্রসিকিউটর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সামরিক শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন, তাকে হঠাৎ করেই যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে পদচ্যুত করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এই অপসারণের পর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে উল্লাস প্রকাশ করেন, যা আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার (ICC) নিরপেক্ষতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের যে প্রধান প্রসিকিউটর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেফাতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন, তাকে হঠাৎ করেই যৌন কেলেঙ্কারির চাঞ্চল্যকর অভিযোগে পদচ্যুত করা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ওয়াশিংটন আইসিসির ওপর চরম অর্থনৈতিক ও ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়ে আসছিল। প্রসিকিউটরকে অপসারণের পরপরই নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করে বিবৃতি দেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের ওপর পেন্টাগন ও তেল আবিবের নির্মম রাজনৈতিক আঘাত বলে আখ্যা দিয়েছে।

১২. ইসরাইলি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীরের বাসভবনে ড্রোন হামলা

ইসরাইলের চরমপন্থী ও উগ্র অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীরের ব্যক্তিগত বাসভবন লক্ষ্য করে এক রহস্যময় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যদিও তেল আবিব দাবি করেছে যে বেন-গভীর বা তার পরিবারের কোনো সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হননি এবং কেবল আশপাশের স্থাপনা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে এই হামলা প্রমাণ করে যে ইসরাইলের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরেও প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ড্রোন সহজে পৌঁছে যেতে সক্ষম। ইসরাইলের কট্টর উগ্র জাতীয়তাবাদী ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীরের ব্যক্তিগত বাসভবন লক্ষ্য করে এক বিধ্বংসী ড্রোন হামলা চালিয়েছে প্রতিরোধ যোদ্ধারা। তেল আবিবের সেনা সূত্রের দাবি, ড্রোনটি বেন-গভীরের বাসভবনের চত্বরে আঘাত হানলেও তিনি বা তার পরিবারের সদস্যরা অক্ষত ছিলেন, তবে আশপাশের বেশ কয়েকটি সামরিক নিরাপত্তা চৌকি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ইসরাইলি মিডিয়া সংবাদের সত্যতা গোপনের চেষ্টা করলেও এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, বেন-গভীরের মতো সুরক্ষিত কট্টরপন্থী নেতাদের বাসভবনও এখন আর আইরন ডোমের সুরক্ষায় নিরাপদ নয়। এটি ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের জন্য এক বড় পরাজয়।

১৩. ইউরোপ জুড়ে দাবানল ও জার্মানির বার্লিনে সংঘাতময় হামলা

একদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, অন্যদিকে ইউরোপ মহাদেশে প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। ফ্রান্সে এবং স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে। অন্যদিকে জার্মানির রাজধানী বার্লিনে এক বিতর্কিত র্যালিতে ভিড়ের ওপর দ্রুতগামী গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এই অভ্যন্তরীণ সংকট ইউরোপকে আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে মনোযোগ দিতে বাধাগ্রস্ত করছে। মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের উত্তাপ চরম সীমানায়, ঠিক তখনই ইউরোপ মহাদেশ প্রাকৃতিক ও সামাজিক সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফ্রান্স ও স্পেনের বিস্তৃত জঙ্গলজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দাবানল লোকালয়ে প্রবেশ করায় আড়াই লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অগ্নিনির্বাপক দল বাতাসের তীব্রতার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে। অন্যদিকে জার্মানির বার্লিনে এক বিতর্কিত এলজিবিটি র্যালির ভেতর দ্রুতগামী গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ফলে রক্তাক্ত সংঘাত ঘটে এবং এতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হয়। অভ্যন্তরীণ এই অস্থিরতা ইউরোপীয় পরাশক্তিগুলোকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে আমেরিকার সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়া থেকে বিরত রাখছে।

১৪. চীন-ইরান কৌশলগত অর্থনৈতিক দূরত্ব ও বেইজিংয়ের ধীরচল নীতি

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা যখন কোণঠাসা, তখন চীন কেন ইরানকে প্রকাশ্যে ঢালাও সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না—এই প্রশ্নে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে বেইজিং 'ধীরচল' বা দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সুরক্ষার নীতিতে বিশ্বাসী। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চীনের বিশ্ববাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। তাই বেইজিং সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে পর্দার আ অন্তরালে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল অবলম্বন করছে। আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়লেও বিশ্বমঞ্চে চীন অত্যন্ত সুচিন্তিত এবং 'ধীরচল' নীতি বজায় রাখছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা চীনের এই কৌশলকে গভীর ভূরাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখছেন। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ মানে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া, যা চীনা অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তবে একই সাথে এই যুদ্ধ ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তি ও অস্ত্রাগার নিঃশেষ করে দিচ্ছে, যা তাইওয়ান প্রণালীতে চীনা সামরিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী ও সুবিধাজনক করে তুলছে। বেইজিং তাই সরাসরি যুদ্ধে না নেমে রাশিয়া ও ইরানের সাথে অর্থনৈতিক লেনদেন সচল রেখে আমেরিকাকে কৌশলগত ক্লান্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

১৫. তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনি ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ সমীকরণ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার এই অপ্রত্যক্ষ ও প্রত্যক্ষ সামরিক লড়াই এখন বিশ্বযুদ্ধের রূপ ধারণ করতে চলেছে। রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়ার সাথে ইরান-ইয়েমেন-লেবানন অক্ষের সমন্বয় এবং বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও যুক্তরাজ্যের বলয় বিশ্বকে এক ধ্বংসাত্মক পরমাণু সংঘর্ষের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূমি থেকে মার্কিন ঘাঁটি সম্পূর্ণ গুটিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত ইরান এই আক্রমণ থামাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও ভয়াবহ সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে একক মার্কিন আধিপত্যের অবসান ঘটছে এবং এক পরাশক্তিনির্ভর বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার (Multipolar World Order) জন্ম হচ্ছে। রাশিয়া, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে গড়ে ওঠা এই অপ্রকাশিত সামরিক অক্ষ আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ইসরাইলকে প্রতিটি রণক্ষেত্রে কোণঠাসা করে ফেলেছে। পারমাণবিক যুদ্ধের এই ঝুঁকিপূর্ণ খেলায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি ইঞ্চি এখন বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। যদি দ্রুত কোনো কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তবে এই যুদ্ধ বিশ্বকে এক নজিরবিহীন ও প্রলয়ঙ্কারী ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।

Chronicle Point Analysis:

  • ১. মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষার সীমাবদ্ধতা প্রকাশ: আইআরজিসির হামলায় ৬টি প্যাট্রিয়ট রাডার ধ্বংস হওয়া প্রমাণ করে যে মার্কিন প্যাট্রিয়ট সিস্টেম ইরানের হাইপারসনিক ও ড্রোন ঝাঁকের বিরুদ্ধে শতভাগ কার্যকর নয়।
  • ২. রিফুয়েলিং ট্যাংকার ধ্বংসের কৌশলগত প্রভাব: ৮টি আকাশেই জ্বালানি ভরার বিমান ধ্বংসের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দূরপাল্লার মার্কিন ফাইটার জেটের তাৎক্ষণিক উড্ডয়ন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে।
  • ৩. গোয়েন্দা সহযোগিতার নতুন অক্ষ: রাশিয়ার স্যাটেলাইট ইমেজারি ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত টার্গেটিং মার্কিন পেন্টাগনের জন্য এক নতুন ও অভূতপূর্ব সামরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
  • ৪. কৌশলগত পশ্চাদপসরণে ট্রাম্প প্রশাসন: অস্ত্র ও রাডার ঘাটতির কারণে ইরানি পারমাণবিক কেন্দ্রে পরিকল্পিত স্থল অভিযান স্থগিত করা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূরাজনৈতিক দুর্বলতা প্রকাশ করে।
  • ৫. উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর চরম নিরাপত্তা ঝুঁকি: কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা প্রমাণ করে যে ওয়াশিংটনকে জায়গা দেওয়া আঞ্চলিক দেশগুলো এখন ইরানি মিসাইলের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু।
  • ৬. ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যপ্রাচ্যে সম্প্রসারণ: ক্যাস্পিয়ান সাগরে ইরানি জাহাজে ইউক্রেনীয় হামলা প্রমাণ করে যে পূর্ব ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ক্ষেত্র এখন একে অপরের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে যুক্ত।
  • ৭. পশ্চিমাদের অভ্যন্তরীণ ফ্রন্টে বিভাজন: জাতিসংঘে মানবিক ইস্যুতে আমেরিকার ভোটাভুটি ও ফ্রান্সের প্রকাশ্যে পেন্টাগনের সমালোচনা পশ্চিমা ঐক্যে ফাটলের বড় প্রমাণ।
  • ৮. আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব: আইসিসি প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনি সংস্থাগুলোর ওপর ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের অবৈধ প্রভাবকে উন্মোচিত করেছে।
  • ৯. ইউরোপের ভঙ্গুর অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি: দাবানল ও রাজনৈতিক সহিংসতায় ইউরোপ জর্জরিত থাকায় তারা মধ্যপ্রাচ্য সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের একক অনুগত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হচ্ছে।
  • ১০. মার্কিন সামরিক লজিস্টিকসের সংকট: একই সাথে ইউক্রেন, তাইওয়ান ও মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সরবরাহ বজায় রাখতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগার খালি হয়ে পড়েছে।
  • ১১. ইসরাইলের নিরাপত্তার চরম অবক্ষয়: বেন-গভীরের বাসভবনের কাছে ড্রোন পৌঁছানো প্রমাণ করে আয়রন ডোম ও অ্যারো-৩ ব্যবস্থার ভেতরের ফাটল দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
  • ১২. যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি: বি-ওয়ান বোমারু বিমান ব্যবহারের সুবিধা দিতে গিয়ে ব্রিটেনের মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় চলে এসেছে।
  • ১৩. বেইজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদী লাভ-ক্ষতি হিসাব: চীন সরাসরি সামরিক জোটে না গিয়ে মার্কিন শক্তি ক্ষয় হওয়া প্রত্যক্ষ করছে, যা তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের হাত শক্ত করছে।
  • ১৪. জ্বালানি বাজারের অস্থিতিশীলতা: ক্যাস্পিয়ান ও পারস্য উপসাগরে অস্থিরতা বৈশ্বিক তেলের বাজারকে অনিয়ন্ত্রিত করে তুলছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে।
  • ১৫. নতুন বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার উত্থান: একক মার্কিন আধিপত্যের যুগ শেষ হয়ে রাশিয়া-চীন-ইরান নিয়ন্ত্রিত এক বহুমুখী ভূরাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পাঠকদের জিজ্ঞাসিত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

১. ইরান ১১ দিনে ঠিক কতগুলো মার্কিন বিমান ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে? ইরান মোট ১১টি মার্কিন বিমান/হেলিকপ্টার (১টি F-5, ১টি P-8, ১টি C-17 এবং ৮টি রিফুয়েলিং ট্যাংকার) এবং ১৭টি ড্রোন ধ্বংসের দাবি করেছে। ২. মধ্যপ্রাচ্যের কোন কোন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে বেশি হামলা হয়েছে? প্রধানত জর্ডান, কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে তীব্র হামলা চালানো হয়েছে। ৩. এই হামলায় কতজন মার্কিন সৈন্য হতাহত হয়েছে বলে ইরান দাবি করেছে? ইরানের তথ্যমতে ২০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনাসদস্য নিহত ও আহত হয়েছে, যদিও মার্কিন মিডিয়া কম সংখ্যা প্রকাশ করেছে। ৪. ক্যাস্পিয়ান সাগরে ইরানি জাহাজে কে হামলা চালিয়েছে এবং কেন? ইউক্রেন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, এই জাহাজে করে রাশিয়াকে ড্রোন ও সামরিক অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছিল। ৫. রাশিয়া কীভাবে ইরানকে সাহায্য করছে? রাশিয়া তাদের সামরিক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোর রিয়েল-টাইম ছবি ও লোকেশন ডাটা ইরানকে সরবরাহ করছে। ৬. ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কী ধরণের অভিযানের পরিকল্পনা করেছিলেন? ট্রাম্প ১,০০০ পদাতিক সৈন্য ও স্পেশাল ফোর্স পাঠিয়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে ইউরেনিয়াম জব্দ বা ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেছিলেন। ৭. কেন ট্রাম্পের পরিকল্পিত পারমাণবিক হামলা স্থগিত করা হয়েছে? মার্কিন সেনাপ্রধান পেন্টাগনে পর্যাপ্ত রাডার ও মিসাইল ঘাটতির কথা জানিয়ে এই মুহূর্তে বড় অভিযানের ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় এটি স্থগিত হয়। ৮. জাতিসংঘে বিশ্ব শরণার্থী বিষয়ক ভোটাভুটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কার সাথে ভোট দিয়েছে? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া, আর্জেন্টিনা, নিকারাগুয়া, নাইজার ও মালি-র সাথে একই পক্ষে ভোট দিয়েছে। ৯. জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার ওপর ফ্রান্স কী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে? ফ্রান্স চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র মানবাধিকার ইস্যুতে উত্তর কোরিয়ার স্তরে নেমে এসেছে। ১০. আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটরকে কেন সরানো হয়েছে? নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করায় মার্কিন ও ইসরাইলি চাপে তাকে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১১. যুক্তরাজ্যকে ইরান কেন সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছে? যুক্তরাজ্য যদি তাদের B-1 বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় অংশ নেয়, তবে ব্রিটিশ ঘাঁটিতে আঘাত হানবে ইরান। ১২. ইসরাইলের কোন উগ্র মন্ত্রীর বাসভবনে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে? ইসরাইলের উগ্র অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভীরের বাসভবন লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে প্রতিরোধ যোদ্ধারা। ১৩. চীন কেন প্রকাশ্যে ইরানকে সামরিক সাহায্য করছে না? চীন দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় বিশ্বাসী এবং কৌশলগত ধীরচল নীতি অনুসরণের মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ১৪. এই সংঘাত বিশ্ব তেলের বাজারে কী প্রভাব ফেলছে? পারস্য উপসাগর ও ক্যাস্পিয়ান সাগরে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে এবং দাম অস্বাভাবিক বাড়ছে। ১৫. মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে? আমেরিকা, রাশিয়া, ইসরাইল ও ইরানের মতো পরাশক্তিগুলোর প্রত্যক্ষ জড়িয়ে পড়া বিশ্বকে চরম আন্তর্জাতিক সামরিক সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

লেখাটি কি আপনার উপকারে এলো? প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দিন

Website Total View