ভূ-রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ দ্বিমুখী সংকটে নড়বড়ে পরিস্থিতি: মাঠ গোছাচ্ছে জামায়াত, কঠিন চাপে নতুন সরকার

📅 আগষ্ট, ২০২৬

ভূ-রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ দ্বিমুখী সংকটে নড়বড়ে পরিস্থিতি: মাঠ গোছাচ্ছে জামায়াত, কঠিন চাপে নতুন সরকার

📅 ১৩ আগষ্ট, ২০২৬ | ✍️ বিশেষ প্রতিনিধি, Chronicle Point

একদিকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও পরাশক্তিগুলোর কৌশলগত অবস্থান, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও অর্থনীতিতে চরম অনিশ্চয়তা—এই দুইয়ের চাপে এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছে বাংলাদেশ। বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে যে বিপুল আশা ও প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছিল, তা আজ প্রশাসনিক স্থবিরতা, তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি এবং পুরোনো ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি ফিরে আসার কারণে ম্লান হতে বসেছে। ক্ষমতাযাত্রার সূচনাতেই নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে নতুন সরকার। একদিকে মাঠপর্যায়ে অসন্তোষ সামাল দিতে হিমশিম অবস্থা, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নীরবে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত করে কৌশলী রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করছে। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় এই বহুমুখী সংকট কীভাবে দেশের ভাবমূর্তি ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে—তারই এক নিখুঁত ও গভীর বিশ্লেষণ নিয়ে তৈরি এই বিশেষ প্রতিবেদন।

১. মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও এরদোয়ানের নতুন বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তাপ কেবল আঞ্চলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই; এটি বিশ্বরাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণে অন্যতম নিয়ামক হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি আঙ্কারার রাষ্ট্রপতি ভবনে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা কেবল আরব বিশ্বের বিষয় নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতি এবং বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের যৌথ দায়িত্ব। এরদোয়ানের এই কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দেয় যে, আল-আকসা মসজিদের স্থিতিবস্থা বিনষ্ট করার যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপ কিংবা গাজায় ইসরায়েলি হামলাকে বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। গাজার পুনর্নির্মাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে আঙ্কারা নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক নেতৃত্ব পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে, যা বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২. মার্কিন-ইরান কূটনৈতিক চাপ ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সমঝোতা স্মারকের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এবং বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আলোচনার ত্বরান্বিত করার জন্য মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে। তবে তেহরান সরকারের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন গুঞ্জন ও চাপকে ভিত্তিহীন বা ভুল তথ্য বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। পরমাণু চুক্তি পুনঃনবীকরণ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক বাজারেও অস্থিরতা তৈরি করছে। তেল ও জ্বালানি সংকটের যে বিশ্বব্যাপী ঢেউ উঠছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মতো বিকাশমান অর্থনীতির দেশগুলোর ওপর। আন্তর্জাতিক এই কূটনৈতিক সমীকরণ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সমাধান ব্যতিরেকে আঞ্চলিক বা অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক স্বস্তি সহজে আসবে না।

৩. জ্বালানি সংকট ও পল্লী বিদ্যুতের নিরাপত্তা গুঞ্জন

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সংকটগুলোর মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অচলাবস্থা। দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহের মধ্যে দৈনিক দীর্ঘমাত্রার লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গ্রামগঞ্জের চার কোটি গ্রাহক, যা মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ, সেবা পেয়ে থাকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় প্রান্তিক জনপদে বিদ্যুৎ সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে ক্ষুব্ধ জনতা দেশের বিভিন্ন স্থানে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ওপর হামলা চালাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রধান অফিস ও উপকেন্দ্রে পুলিশি নিরাপত্তার আবেদন জানিয়ে আইজিপির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিদ্যুৎ না পেয়ে বিল আসা ও লোডশেডিংয়ের জনরোষ প্রশাসনিক অবকাঠামোকে নতুন করে সংকটে ফেলেছে।

৪. ৫৪ বছরের অর্জনের বিপরীতে বর্তমানের তিমির

বাংলাদেশের বয়স দেখতে দেখতে ৫৪ বছরে পদার্পণ করেছে। গত পাঁচ দশকে দেশের অবকাঠামো, ডিজিটালাইজেশন কিংবা মাথাপিছু আয়ে কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন আসলেও শাসনতান্ত্রিক ও কাঠামোগত জায়গায় স্থায়ী কোনো পরিবর্তন আসেনি। সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে কেবল ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। শেখ মুজিবুর রহমানের আমল থেকে শুরু করে জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী শেখ হাসিনার শাসন পার হয়ে বর্তমান নতুন সরকারের জমানাতেও জনগণ কাঙ্ক্ষিত সুশাসন ও নাগরিক স্বস্তি পায়নি। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় যেসব রাজনৈতিক দল জনগণের মৌলিক অধিকার, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্যের পক্ষে সোচ্চার থাকে, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারাই আবার একই অপনীতির পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে—যা ৫৪ বছরের ইতিহাসকে এক ধরনের চক্রাকার হতাশায় রূপ দিয়েছে।

৫. নীতিগত অবস্থান বনাম ক্ষমতার রাজনীতি: দ্বিমুখী নীতি

বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো নীতিগত অবস্থানের অভাব। রাজপথে থাকাকালীন বিএনপি বা অন্যান্য দলগুলো সরকারের ব্যর্থতা, গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে যে ভাষায় কথা বলত, ক্ষমতায় বসার পর সেই সুর সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যায়। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বিদ্যুতের ব্যবহার না থাকা সত্ত্বেও ভূতুড়ে বিল প্রদান এবং মূল্য বৃদ্ধির উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সাথে এক ধরণের প্রশাসনিক জুলুমের সামিল। শেখ হাসিনা সরকারের আমলেও এই ধরণের ঘটনার কঠোর সমালোচনা করা হলেও, বর্তমানে নতুন সরকারের আমলে তার কোনো টেকসই সমাধান পরিলক্ষিত হচ্ছে না। ক্ষমতার চেয়ার বদলে গেলেও রাজনৈতিক সংস্কৃতির এই দ্বিমুখী আচরণ সাধারণ জনগণকে চরম রাজনৈতিকভাবে হতাশ ও উদাসীন করে তুলছে।

৬. অতীতের ব্যর্থ ব্যক্তিত্ব ও ভুল সিদ্ধান্ত পুনরাবৃত্তি

রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে যোগ্য ও সৎ দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া যেকোনো সরকারের প্রথম দায়িত্ব। কিন্তু ২০০৬ সালের আগে বা অতীতের বিভিন্ন সময়ে যেসব মন্ত্রী বা আমলা তাদের দায়িত্বে চরম ব্যর্থতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিতর্কিত হয়েছিলেন, তাদেরকেই পুনরায় একই সংবেদনশীল পদে বহাল করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। যেমন বিদ্যুৎ খাতের মতো সংকটপূর্ণ বিভাগে অতীতে ব্যর্থ হওয়া ব্যক্তিদের পুনরায় দায়িত্বে নিয়ে আসা প্রশাসনিক অদূরদর্শিতারই প্রমাণ। অতীতের একই ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে বর্তমানের অভূতপূর্ব প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সংকট সামাল দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। রাজনৈতিক অনুগতদের পুনর্বাসন করার এই নীতি নতুন সরকারকে জনসমক্ষে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

৭. দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজি ও রাজপথের অপসংস্কৃতি

জনগণ ভেবেছিল ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে কোনো ধরনের রাজনৈতিক গুণ্ডামি, সন্ত্রাস বা চাঁদাবাজি থাকবে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই রাজপথের দখলদারিত্বের দৃশ্যপট পুনরায় ফিরে এসেছে। রাজধানীর নিউ মার্কেটসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক এলাকায় ছাত্রদল, যুবদল ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চাঁদাবাজির বচসা এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর প্রতিদিন শিরোনাম হচ্ছে। সাধারণ দোকানদার থেকে শুরু করে হকারদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে তোলা হচ্ছে টাকা। যে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের জন্য পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারকে জনগণ বয়কট করেছিল, একই চর্চা নতুন সরকারের শাসনামলে অব্যাহত থাকায় জনগণ ক্ষুব্ধ। এই অপসংস্কৃতি সরকারের ভাবমূর্তিকে শুরুতেই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

৮. বৈষম্যবিরোধী অঙ্গীকার ও রাজপথের সৈনিকদের অবমূল্যায়ন

জুলাই অভ্যুত্থানের মূল দর্শন ছিল 'বৈষম্যহীন সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা'। রাজপথে বুলেট সহ্য করে, রক্ত দিয়ে যারা ছাত্র-জনতার আন্দোলন সফল করেছিল, তারা আজ উপক্ষিত ও অবমূল্যায়িত। আন্দোলনকারীদের একটি বড় অংশ এখনো জীবনের নিরাপত্তা বা ন্যূনতম সামাজিক স্বীকৃতিটুকুও পায়নি। পক্ষান্তরে, যেসব রাজনৈতিক নেতাদের সন্তান বা ঘনিষ্ঠজনরা বিগত ১৭-১৮ বছর বিদেশে আরাম-আয়েশে কাটিয়েছেন, বিলাসিতা করেছেন কিংবা রাজপথের সংগ্রামের থেকে দূরে ছিলেন—তারা দেশে ফিরে বড় বড় টেন্ডারের কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন এবং রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণী পদে আসীন হচ্ছেন। রাজপথের প্রকৃত ত্যাগী কর্মীদের কেবল সামান্য চাঁদা তোলার সুযোগ দিয়ে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার পুরোনো এই প্রবণতা জুলাই আন্দোলনের ত্যাগের সাথে স্পষ্ট প্রতারণা।

৯. প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও ভেঙে পড়া পরিবহন ব্যবস্থাপনা

বর্তমান দেশের আইনশৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এক চরম পঙ্গুত্বের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি প্রধান নগরী ও রাজপথে ট্রাফিক শৃঙ্খলার করুণ দশা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের বাধার মুখে পড়ছে। প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে শাসকদলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ফুটপাত দখল করে অবৈধ বাজার বসিয়ে দিয়েছে, যা সৃষ্টি করছে দীর্ঘ যানজট ও নাগরিক ভোগান্তি। প্রশাসন থেকে 'কিছু করার নেই' কিংবা 'রাজনৈতিক চাপ রয়েছে' এমন অগোছালো অজুহাত প্রদান করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসন যখন দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়, তখন আইনশৃঙ্খলার এই অবনতি কেবল সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকেই দুর্বিষহ করে তোলে না, বরং সরকারের স্থায়িত্বকেও ঝুঁকিতে ফেলে।

১০. নজিরবিহীন মূল্যস্ফীতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে তুলনা

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার আজ সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার একেবারে বাইরে চলে গেছে। চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে প্রতিটি সবজির দাম প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদেও বাজারে কিছুটা অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল, তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা আগের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, সাধারণ আয়ের পরিবারগুলোর পক্ষে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারা এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যোগসাজশের কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক এই অসন্তোষ সাধারণ মানুষের মনে পুরোনো স্বৈরাচারী শাসনের সাথে বর্তমান সময়ের নেতিবাচক তুলনা টানতে বাধ্য করছে, যা রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত বিপজ্জনক।

১১. বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও ওয়ান-ইলেভেনের ভূত

বিএনপির বর্তমান অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে। দলের ভেতর লুকিয়ে থাকা একটি চক্রান্তকারী গোষ্ঠী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মাইনাস করার বা দলকে ব্যর্থ প্রমাণিত করার জন্য কলকাঠি নাড়ছে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ওয়ান-ইলেভেনের সময় যেসব কুশীলবরা বিএনপির ভিত্তি দুর্বল করতে চেয়েছিল, তাদের একটি বড় অংশ আজ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী পদে আসন জমিয়ে বসেছে। গণঅধিকার পরিষদের মতো ক্ষুদ্র দলগুলোর সাবেক বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা বানানোর মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত দলের অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতৃত্বকে হতাশ করছে। জনগণ বা অভিজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের তোষণ করার এই চর্চা বিএনপিকে এক বিশাল রাজনৈতিক চক্রব্যূহের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।

১২. জামায়াতে ইসলামীর দূরদর্শী ও নীরব রাজনৈতিক কৌশল

বিএনপি যখন ক্ষমতার মোহে দ্রুত সিদ্ধান্তহীনতা ও মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে, ঠিক তখনই জামায়াতে ইসলামী অত্যন্ত দূরদর্শী ও সুচিন্তিত কৌশল অবলম্বন করে এগোচ্ছে। দলটি ক্ষমতার জন্য অহেতুক তাড়াহুড়ো না করে বরং মানুষের মধ্যকার বিএনপি-বিরোধী অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। জামায়াত সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্ব বোঝার চেষ্টা করছে—তারা দেখতে পাচ্ছে যে, বিএনপির বিশৃঙ্খলা ও ব্যর্থতা যত বাড়বে, জনগণের কাছে জামায়াত ততটাই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। বিগত দিনে বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে শেখ হাসিনার ভুলগুলোকে জনগণের সামনে তুলে ধরতে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দেখিয়েছিলেন, জামায়াত ঠিক সেই সুদূরপ্রসারী পথেই হাঁটছে এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের সংগঠন পুনর্গঠন করছে।

১৩. গণভোট ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্বিধাদ্বন্দ্ব

নির্বাচনের পূর্বে বিএনপি গণভোট পুনরুজ্জীবিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পক্ষে জনসমক্ষে জোরালো অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে স্পষ্ট ধীরগতি ও অনিচ্ছা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত নেওয়ার প্রক্রিয়া অর্থাৎ গণভোট চালুর বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়ে গেছে। ১৮ বছর ধরে যেসব গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবি তুলে বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রাম করেছিল, সেই দাবিগুলো সরকারি দপ্তরে গিয়ে ফাইলাবন্দী হয়ে পড়েছে। প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার এই প্রবণতা সুশীল সমাজ ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে নতুন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।

১৪. ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণে ব্যর্থতা ও তৃতীয় শক্তির ঝুঁকি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস প্রমাণ করে, কোনো রাজনৈতিক দল যখন জনগণের ক্ষোভ ও আক্ষেপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেবল নিজেদের ক্ষমতা প্রদর্শনে ব্যস্ত থাকে, তখন তাদের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে। শ্রীলঙ্কা, নেপাল কিংবা বিগত দিনে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকারের পরিণতি থেকে এই শিক্ষা স্পষ্ট যে—তোষামোদকারী ও চাটুকারদের বেষ্টিত হয়ে বাস্তব সত্য অস্বীকার করলে শেষরক্ষা হয় না। বিএনপি যদি জনগণের এই দুর্ভোগ না কমায় এবং নিজেদের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে না আনে, তবে দেশে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত অরাজনৈতিক 'তৃতীয় শক্তি'র উত্থানের পথ প্রশস্ত হবে। জনসমর্থন হারিয়ে ফেললে কোনো দলীয় সরকারই দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

১৫. সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জন আস্থা পুনর্গঠনের সম্ভাব্য উপায়

বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য নতুন সরকারকে অবিলম্বে জরুরি ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ও তোষণ নীতি বন্ধ করে দীর্ঘমেয়াদী টেকসই শক্তি উৎপাদনে জোর দিতে হবে এবং পল্লী বিদ্যুতের ন্যায্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক অভিযান চালিয়ে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথের চাঁদাবাজ, দখলদার ও অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ায় শাস্তি দিতে হবে। চতুর্থত, অভিজ্ঞ ও সততার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি সম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রশাসনিক উচ্চপদে নিয়োগ দিতে হবে এবং তোষামোদকারীদের ছাঁটাই করতে হবে। যদি সরকার দ্রুত এই সংস্কারগুলো করতে পারে, তবেই হারানো জন আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

Chronicle Point Analysis:

  • ১. তুর্কি-ফিলিস্তিন কূটনৈতিক অক্ষ: প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কের নব্য-ওসমানীয় কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্ত করেছে, যা মুসলিম বিশ্বে দেশটির নেতৃত্ব পুনর্প্রতিষ্ঠার বার্তা দেয়।
  • ২. মার্কিন-ইরান চাপ কৌশল: পারমাণবিক চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে আমেরিকার মনস্তাত্ত্বিক চাপ তেহরানকে নতুন অর্থনৈতিক ও সামরিক কৌশলে যেতে বাধ্য করছে।
  • ৩. বিদ্যুৎ খাতের স্থায়ী সংকট: ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পুলিশি সুরক্ষা চাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে যে, দেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামো চরম অব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি ঘাটতিতে ভুগছে।
  • ৪. ৫৪ বছরের রাজনৈতিক চক্র: গত ৫৪ বছরে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির বদল হলেও সুশাসন, প্রতিষ্ঠান গঠন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা অর্জনে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে।
  • ৫. ক্ষমতার রাজনৈতিক দ্বিমুখী নীতি: বিরোধী দলে থাকা অবস্থার নীতি এবং ক্ষমতায় বসার পর তা বাস্তবায়নের বৈপরীত্য দেশের প্রধান দলগুলোর সাধারণ গ্রহণযোগ্যতা কমাচ্ছে।
  • ৬. বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন: অতীতে ব্যর্থ ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনরায় বসানো সরকারের সংস্কার ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
  • ৭. রাজপথের দখলদারিত্বের প্রত্যাবর্তন: নিউ মার্কেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও অন্তর্দলীয় সহিংসতা প্রমাণ করে যে মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক নীতিতে কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি।
  • ৮. জুলাই বিপ্লবের মূল্যবোধের অবক্ষয়: রাজপথের আন্দোলনকারীদের বাদ দিয়ে সুবিধাবাদী গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও টেন্ডার বণ্টন জুলাই অভ্যুত্থানের দর্শনের বিপরীত।
  • ৯. প্রশাসনিক পঙ্গুত্ব ও যানজট: রাজনৈতিক আশ্রয়ে সড়ক ও ফুটপাত দখল এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা দেশের প্রশাসনিক কাঠামোর ভঙ্গুর চিত্র তুলে ধরে।
  • ১০. দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের চেয়েও বেশি মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
  • ১১. বিএনপির মাইনাস ফমুর্লা আশঙ্কা: দলের ভেতরের বিতর্কিত রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের সিদ্ধান্ত ও ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবদের উপস্থিতি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য রাজনৈতিক ফাঁদ তৈরি করছে।
  • ১২. জামায়াতের কৌশলী নীরবতা: জামায়াতে ইসলামী বিএনপি সরকারের ভুল ও জনরোষকে প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিজেদের তৃণমূল সমর্থন শক্তিশালী করার দীর্ঘমেয়াদী চাল খেলছে।
  • ১৩. গণভোট ও সংস্কারে অনীহা: রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীয়করণ প্রক্রিয়ার কারণে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রক্রিয়া ধীরগতির হয়ে পড়েছে।
  • ১৪. ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়া: শ্রীলঙ্কা বা বিগত হাসিনা সরকারের পতন থেকে শিক্ষা না নিলে চাটুকার পরিবেষ্টিত বর্তমান শাসনব্যবস্থা চরম রাজনৈতিক সংকটে পড়বে।
  • ১৫. দ্রুত সংস্কারের তাগিদ: সুশাসন প্রতিষ্ঠা, সিন্ডিকেট দমন এবং দলীয় ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই তৃতীয় কোনো শক্তি রাজনৈতিক দৃশ্যপটে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

পাঠকদের জিজ্ঞাসিত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

১. তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোয়ান ফিলিস্তিন ইস্যুতে কী অবস্থান প্রকাশ করেছেন? এরদোয়ান স্পষ্ট করেছেন যে ফিলিস্তিনকে সমর্থন করা কেবল একটি আঞ্চলিক বিষয় নয়, বরং সমগ্র মানবজাতি এবং মুসলিম বিশ্বের জন্য এটি একটি যৌথ দায়িত্ব। ২. মার্কিন-ইরান আলোচনার বিষয়ে ইরানের মূল প্রতিক্রিয়া কী? ইরান আমেরিকা ও মধ্যস্থতাকারীদের চাপ ও ত্বরান্বিত আলোচনার খবরকে ভুল তথ্য এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ৩. কেন দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কাছে চিঠি দিয়েছে? তীব্র লোডশেডিং এবং গ্রাহকদের ভূতুড়ে বিল আসার কারণে জনরোষ তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন অফিসে হামলার আশঙ্কায় পুলিশি নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে। ৪. পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো কত শতাংশ গ্রাহককে সেবা প্রদান করে? পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দেশের প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে সেবা দেয়, যা মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ। ৫. বাংলাদেশের স্বাধীনতা ৫৪ বছরে প্রধান রাজনৈতিক সংকট কী দেখা যাচ্ছে? প্রধান সংকট হলো সুশাসনের অভাব, সরকার বদল হলেও দুর্নীতির ধারাবাহিকতা এবং বিরোধী দল থেকে সরকারি দলে গেলে নীতির পরিবর্তন হওয়া। ৬. বিদ্যুৎ খাতের সংকট সমাধানে সরকারের প্রধান দুর্বলতা কোথায়? অতীতে ব্যর্থ এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের পুনরায় বিদ্যুৎ খাতের মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে বসানো এবং টেকসই পরিকল্পনার অভাব। ৭. নিউ মার্কেটের মতো জায়গায় ছাত্রদল বা যুবদলের সংঘর্ষের কারণ কী? এলাকার ফুটপাত দখল, অবৈধ চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার বলয় গড়ে তোলার অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এসব সংঘর্ষ ঘটছে। ৮. জুলাই অভ্যুত্থানের ত্যাগের সাথে বর্তমান বাস্তবতার অমিল কোথায়? জুলাই অভ্যুত্থানের রাজপথের যোদ্ধারা অবমূল্যায়িত হলেও বিদেশে থাকা বা আরাম-আয়েশে দিন কাটানো সুবিধাভোগীরা বড় বড় পদ ও টেন্ডার পাচ্ছে। ৯. দেশের ট্রাফিক ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় কী ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে? রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ফুটপাত দখল, অবৈধ বাজার বসানো এবং পুলিশের প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে তীব্র যানজট তৈরি হচ্ছে। ১০. বর্তমান সরকারের আমল ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলের মূল্যস্ফীতির তফাত কী? বর্তমান সময়ে বাজার সিন্ডিকেট বেপরোয়া হওয়ায় নিত্যপণ্যের দাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদের চেয়েও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১১. বিএনপির ভেতরের 'ওয়ান-ইলেভেন' ঘরানার চক্রান্ত বলতে কী বোঝানো হয়েছে? দলের অভ্যন্তরীণ চাটুকার ও বিতর্কিত উপদেষ্টারা দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ভুল পরামর্শ দিয়ে বিএনপিকে ব্যর্থ প্রমাণিত করার ছক কষছে বলে মনে করা হচ্ছে। ১২. বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামীর কৌশল কী? জামায়াত হুটহাট ক্ষমতায় যাওয়ার তাড়াহুড়ো না করে বিএনপির ভুল ও জনরোষের জন্য অপেক্ষা করছে, যাতে নিজেদের সুসংগঠিত বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলা যায়। ১৩. বিএনপি গণভোট বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণে কী ধরনের পদক্ষেপে পিছিয়ে আছে? ক্ষমতায় আসার পর গণভোট আইন কার্যকর করা এবং রাজপথে থাকা অবস্থায় উত্থাপিত বৈষম্যবিরোধী সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। ১৪. বাংলাদেশ রাজনীতিতে 'তৃতীয় শক্তি'র উত্থান কখন ঘটে? যখন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অর্থনৈতিক সংকট, সুশাসন ও জনগণের ভোগান্তি সামলাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়, তখন অরাজনৈতিক তৃতীয় শক্তির সম্ভাবনা বাড়ে। ১৫. নতুন সরকার কীভাবে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে? অবিলম্বে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ করা, বাজার সিন্ডিকেট ভাঙা, যোগ্য ব্যক্তিদের পদে বসানো এবং বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া।

লেখাটি কি আপনার উপকারে এলো? প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দিন

Website Total View