৬০ দিনের চুক্তি শেষ: ইরানের আগ্রাসী রণকৌশল, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম বিতর্ক ও গাজা যুদ্ধবিরতির ত্রিপক্ষীয় কূটনীতি
৬০ দিনের চুক্তি শেষ: ইরানের আগ্রাসী রণকৌশল, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম বিতর্ক ও গাজা যুদ্ধবিরতির ত্রিপক্ষীয় কূটনীতি
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এখন এক অভূতপূর্ব ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহুল আলোচিত ৬০ দিনের সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং তথাকথিত অঘোষিত চুক্তির মেয়াদ সমাপ্ত হওয়ার পরপরই পুরো অঞ্চলে নতুন করে এক প্রলয়ঙ্করী মহাযুদ্ধের ঘনঘটা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ দুই মাসের আপেক্ষিক স্থবিরতার পর সামরিক নীতিতে কৌশলগত পরিবর্তন এনেছে ইরান—এখন আর কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান বা 'ডিফেন্স' নয়, বরং সরাসরি আক্রমণাত্মক 'অফেন্স' নীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে, ইরান তার আঞ্চলিক কৌশল পুনর্গঠন করে একটি গোপন মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নেমেছে। এর অধীনে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা সদস্য হত্যায় নগদ অর্থ পুরস্কার ঘোষণা থেকে শুরু করে উপসাগরীয় দেশগুলোর সমুদ্র তলদেশের গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট কেবল বিচ্ছিন্ন করা এবং সৌদি আরবের ভেতরে হুতিদের মাধ্যমে সরাসরি স্থল যুদ্ধ ছড়িয়ে দেওয়ার মতো মারাত্মক রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ উপদেষ্টা জারেড কুশনারের নেতৃত্বাধীন হাই-প্রোফাইল কূটনৈতিক মিশন মিশরের আলামিন শহরে হামাস ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধি দলের সাথে এক জটিল সংলাপে বসেছে। ঠিক একই সময়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) প্রকাশিত ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে গাজা ও পশ্চিম তীরকে সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলে পুরো অঞ্চলকে 'ইসরায়েল' হিসেবে প্রদর্শনের ঘটনায় তীব্র কূটনৈতিক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সর্বাত্মক যুদ্ধ ও ধোঁয়াশাপূর্ণ কূটনীতির এই দ্বিমুখী সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অজানার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
১. ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অবসান ও নতুন সামরিক সমীকরণ
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার ৬০ দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও অঘোষিত সমঝোতার মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার সাথে সাথে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের নিরপত্তা ব্যবস্থা এক নতুন ও বিপজ্জনক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। গত দুই মাস ধরে চলা এই মেয়াদের মধ্যে দুই দেশের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক আলোচনার কিছু পরোক্ষ আভাস পাওয়া গেলেও মাঠপর্যায়ে কোনো টেকসই সমাধান অর্জিত হয়নি। চুক্তির মেয়াদের শেষ প্রহরে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের একে অপরকে দেওয়া তীব্র সামরিক হুমকি প্রমাণ করে যে, এই দুই পরাশক্তি পুনরায় সরাসরি সংঘাতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক মহল এই মেয়াদকে উত্তেজনা কমানোর একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করলেও, তেহরানের মতে মার্কিন প্রশাসন কেবল নিজেদের সামরিক অবস্থান পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোকে সুসংহত করার জন্য এই সময় ক্ষয় করেছে। ফলে ৬০ দিন অতিক্রম করার সাথে সাথে দুই পক্ষই তাদের সর্বোচ্চ সামরিক সতর্কতাবস্থা বা 'হাই অ্যালার্ট' জারি করেছে, যা এই অঞ্চলে যেকোনো সময় ব্যাপকভিত্তিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
২. ইরানের নীতি পরিবর্তন: প্রতিরক্ষা থেকে আগ্রাসী 'অফেন্স' কৌশল
সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানের ক্ষেত্রে ইরান তাদের ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনেছে। দীর্ঘদিনের প্রথাগত প্রতিরক্ষামূলক বা 'ডিফেন্স' নীতি পরিহার করে তেহরান এখন সরাসরি 'অফেনসিভ' বা আগ্রাসী রণকৌশল গ্রহণের রূপরেখা তৈরি করেছে। এই নতুন সামরিক ডকট্রিনের মূল কথাই হলো—শত্রুপক্ষের আক্রমণের অপেক্ষা না করে তাদের মূল আক্রমণ কেন্দ্র এবং কৌশলগত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আগাম হামলা চালোনো। ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর যৌথ কমান্ডারদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি সামান্যতম উসকানিমূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে তেহরান আর কেবল প্রতিরোধমূলক জবাব দেবে না; বরং একযোগে একাধিক ফ্রন্টে পাল্টা ধ্বংসাত্মক আক্রমণ পরিচালনা করবে। এই নীতি পরিবর্তনের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ মডেল এবং তাদের মিত্রদেশগুলোর জন্য চরম ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা প্রথাগত আঞ্চলিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাঠামোকে মূল থেকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
৩. দখলদার সেনা নিধনে ৩০ হাজার ডলারের পুরস্কার ঘোষণা
ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে এক নজিরবিহীন ও চরম পদক্ষেপ গ্রহণের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে, যেখানে ঘোষণা করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত শত্রুপক্ষ বা দখলদার বাহিনীর কোনো সামরিক সদস্যকে হত্যা করতে পারলে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার প্রদান করা হবে। এই ঘোষণা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সদস্য ও কমান্ডারদের প্রত্যক্ষ টার্গেটে পরিণত করার এক মনস্তাত্ত্বিক ও গেরিলা কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে ইরান মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল অঞ্চলগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ঘাঁটি, লজিস্টিক কনভয় এবং ছোট ছোট সামরিক পোস্টের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রতিরোধ গোষ্ঠী এবং গোপন নেটওয়ার্কগুলোকে উৎসাহিত করতে চাইছে। অল্প খরচে শত্রু ধ্বংস করার এই ছক মার্কিন সেনা কমান্ডের জন্য এক বিরাট নিরাপত্তার হুমকি তৈরি করেছে, কারণ যেকোনো স্থান থেকেই তাদের সেনাদের ওপর আচমকা গেরিলা আক্রমণ বা টার্গেটেড কিলিং পরিচালনা সম্ভব হতে পারে।
৪. ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও ইরানের গোপন প্ল্যান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত দৈনিক সংবাদপত্র 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর প্রকাশিত এক বিশেষ চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইরানের এক অতি গোপনীয় মাস্টারপ্ল্যান উন্মোচিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন বা তার আঞ্চলিক সহযোগীরা যদি পুনরায় তেহরান বা তার পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার দুঃসাহস দেখায়, তবে ইরান এই যুদ্ধকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে একযোগে ছড়িয়ে দেবে। তেহরানের এই 'সিক্রেট এস্কেলেশন প্ল্যান' অনুযায়ী, যুদ্ধ কেবল পারস্য উপসাগর বা ইরান-ইসরায়েল সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ও নৌঘাঁটি সক্রিয় রয়েছে, তাদের প্রতিটিকে সরাসরি যুদ্ধের অগ্নিকুণ্ডে পরিণত করা হবে। এই গোয়েন্দা তথ্য মার্কিন পেন্টাগন এবং হোয়াইট হাউসে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি প্রমাণ করে যে ইরান এখন আর একক আঞ্চলিক যুদ্ধে আবদ্ধ না থেকে পুরো অঞ্চলের মার্কিন অবকাঠামো ধ্বংসের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
৫. বিস্তৃত ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র: প্রথাগত আকাশপথের বাইরে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা
বিগত দিনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের ১৩ দিনের সরাসরি সংঘাত কিংবা বিভিন্ন ছোট-বড় মহড়ায় দেখা গেছে ইরান মূলত দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন সমন্বয়ে আকাশপথে হামলা চালিয়েছে। তৎকালীন সংঘাতের মানচিত্রে দেখা যায় ইরান একযোগে সাইপ্রাসের ব্রিটিশ ঘাঁটি, ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান এবং সৌদি আরবের কৌশলগত পয়েন্টগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল। কিন্তু বর্তমানে প্রকাশিত নতুন কৌশল অনুসারে, ইরান কেবল আকাশপথের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার ওপর নির্ভর করবে না। তারা এবার একটি সুসংহত স্থল অভিযানের (গোটানো পদাতিক ও সাঁজোয়া আক্রমণ) পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তৈরি করেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে আকাশসীমার প্রতিরক্ষা কমানো বা অতিক্রম করা কঠিন হলে কীভাবে স্থলপথে সরাসরি শত্রুর লজিস্টিক সাপ্লাই লাইন কেটে দেওয়া যায়, সে উদ্দেশ্যেই এই বহুমুখী স্থল পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।
৬. প্রথম টার্গেট কুয়েত: সীমান্ত নৈকট্য ও অভ্যন্তরীণ শিয়া জনগোষ্ঠীর ভূমিকা
ইরানের নতুন স্থল আক্রমণের পরিকল্পনার প্রথম সারির টার্গেট হিসেবে উঠে এসেছে পারস্য উপসাগরীয় রাষ্ট্র কুয়েত। কারণ হিসেবে ভৌগোলিক নৈকট্য এবং পারস্য উপসাগরের উত্তর প্রান্তের সীমান্ত সামীপ্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তেহরানের সামরিক পরিকল্পনাকারীদের মতে, ইরান সীমান্ত থেকে কুয়েতে দ্রুত সাঁজোয়া বহর ও বিশেষ মেরিন কমান্ডো পাঠানো অত্যন্ত সহজ। তদুপরি, কুয়েতের অভ্যন্তরে বসবাসকারী বড় আকারের শিয়া জনগোষ্ঠীর সহানুভূতিশীল অংশকে মনস্তাত্ত্বিক ও গেরিলা সহায়ক হিসেবে কাজে লাগানোর ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে আইআরজিসি। কুয়েতের অভ্যন্তরে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন বিমান ঘাটি এবং রসদ কেন্দ্র অবস্থিত হওয়ায়, ইরান মনে করে দেশটি থেকে মার্কিন শক্তিকে উৎখাত করতে পারলে পারস্য উপসাগরে আমেরিকার পুরো সামরিক নেটওয়ার্ক ধসে পড়বে। এই খবর প্রকাশের পর কুয়েত সরকার তার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সীমান্ত পাহারা সর্বোচ্চ স্তরে জোরদার করেছে।
৭. বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামানোর ছক: সমুদ্র তলদেশের সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল ধ্বংস
সামরিক অভিযানের বাইরে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভয়াবহ বিপর্যয় সৃষ্টির একটি অভিনব ও কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইরান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগর এবং লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে চলে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট ও ডাটা ফাইবার অপটিক কেবলগুলোতে নাশকতামূলক হামলা পরিচালনা করে তা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল ব্যাঙ্কিং, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক যোগাযোগের এক বিশাল অংশ এই অঞ্চলের পানির নিচের কেবলগুলোর ওপর নির্ভরশীল। ইরান মনে করে, যদি এই ডেটা কেবলগুলো কেটে দেওয়া যায়, তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়ন ও ডিজিটাল অবকাঠামো স্থবির হয়ে পড়বে, যার প্রত্যক্ষ খেসারত দিতে হবে পশ্চিমা বিশ্বের আর্থিক বাজারকে। তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এটি একটি ভয়াবহ সাইবার-ফিজিক্যাল হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
৮. সৌদি আরবে প্রক্সি যুদ্ধ বৃদ্ধি: হুতিদের সরাসরি ইরানি প্ররোচনা ও প্রযুক্তি সহায়তা
সৌদি আরবের সাথে চীনের মধ্যস্থতায় তেহরানের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্বহাল হলেও, নতুন সামরিক নীতিতে রিয়াদকে পুরোপুরি সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখছে না ইরান। যদি রিয়াদ তার আকাশসীমা বা সামরিক ঘাঁটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করতে দেয়, তবে সৌদি আরবের ভেতরে সরাসরি যুদ্ধ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ইয়েমেনের হুতি (আনসারুল্লাহ) আন্দোলনকে পুরোদমে ব্যবহার করা হবে। সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে, রিয়াদ ও তার জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে হুতিদের সাম্প্রতিক উন্নতমানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন মোতায়েন ও হামলায় সরাসরি সহায়তা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিশেষ প্রযুক্তিবিদ ও কমান্ডাররা। হুতি লিডারদের কৌশলগত অবস্থান সুরক্ষিত রাখা থেকে শুরু করে আধুনিক গাইডেড প্রযুক্তির প্রয়োগ—সবকিছুতেই ইরানের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
৯. জেনারেল হাতামীর নেতৃত্বে তেহরানের সামরিক বৈঠক ও নতুন ডিফেন্স পলিসি
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ও বিশিষ্ট সামরিক ব্যক্তিত্ব জেনারেল হাতামী সম্প্রতি তেহরানে দেশের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং সিনিয়র আইআরজিসি কর্মকর্তাদের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছেন। উক্ত বৈঠকে ইরানের আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক নীতিমালার নতুন একটি অনুচ্ছেদ অনুমোদন করা হয়। জেনারেল হাতামী স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন যে, 'ইরানের নিরাপত্তা সীমানা এখন আর দেশের ভৌগোলিক সীমান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক সমুদ্রে এবং আমাদের আঞ্চলিক বলয়ে মার্কিন বা ইসরায়েলি বাহিনীর যে কোনো চালচাতুরিকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করে দেওয়া হবে।' তেহরানের এই নতুন ডিফেন্স পলিসি মূলত দেশের বাইরে গিয়ে শত্রুকে পরাস্ত করার একটি আগাম আক্রমণধর্মী কৌশল (Preemptive Strike Doctrine), যা ইরানের সামরিক শক্তির এক আগ্রাসী রূপ প্রকাশ করে।
১০. মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস ও ভূগর্ভস্থ মিসাইল সিটির গোপন দৃশ্য
ইরানি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভাবনীয় সক্ষমতা প্রদর্শন করতে তেহরান সম্প্রতি তাদের ভূগর্ভস্থ মিসাইল বা 'টানেল সিটি'র ভেতর থেকে এক চমকপ্রদ ভিডিও চিত্র প্রকাশ্যে এনেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ও অত্যন্ত নিখুঁত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র 'টমাহক' (Tomahawk)-এর একটি ধ্বংসাবশেষ প্রদর্শিত হচ্ছে। ইরানি সামরিক বাহিনী জানায়, মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলার সময় তারা এই ভয়াবহ ক্রুজ মিসাইলটিকে তাদের দেশীয় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের সাহায্যে মাঝআকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। ভিডিওতে আইআরজিসির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের চেহারা নিরাপত্তা স্বার্থে ব্লার করে দেখা গেলেও, সেখানে প্রদর্শিত অত্যাধুনিক আমেরিকান ক্রুজ মিসাইলের খণ্ডবিখণ্ড অংশ এটি প্রমাণ করে যে, আমেরিকার উন্নত স্টেল্থ ও লোগাটিচিউডিনাল প্রযুক্তির মিসাইল প্রতিরোধে ইরানের এয়ার ডিফেন্স সফলভাবে কাজ করছে।
১১. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইতিহাসে সর্বোচ্চ মার্কিন এয়ারক্রাফট ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি
একটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সাথে ১৩ দিনের সরাসরি সংঘর্ষ এবং চলমান ছায়াযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ উচ্চপ্রযুক্তির যুদ্ধবিমান, নজরদারি ড্রোন ও এয়ারক্রাফট হারিয়েছে, তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক ভিয়েতনাম যুদ্ধ কিংবা কোরীয় যুদ্ধেও ঘটেনি। ইরান তাদের নিজস্ব তৈরি 'খোররামশাহর', 'ফাতাহ' এবং 'খোর্দাদ-১৫' প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে আমেরিকার বিলিয়ন ডলার মূল্যের রিপার ড্রোন (MQ-9 Reaper) সহ একাধিক অত্যাধুনিক সামরিক আকাশযান ভূপাতিত করেছে। মার্কিন পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্ষয়ক্ষতির সব তথ্য স্বীকার না করলেও, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে মার্কিন বিমান বাহিনীর এই অভূতপূর্ব ক্ষয়ক্ষতি তাদের আকাশপথে আধিপত্য বিস্তারের সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বড় ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
১২. মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার 'জর্জ ওয়াশিংটন' মোতায়েন
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ এবং তাদের আগ্রাসী নীতি মোকাবেলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন দ্রুত পদক্ষেপ হিসেবে নতুন একটি পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েনরত শক্তিশালী রণতরী 'ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন' (USS George Washington)-কে জরুরি ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। মূলত পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় দীর্ঘ ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে টানা দায়িত্ব পালন করে ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন' (USS Abraham Lincoln)-এর নাবিক ও সামরিক বাহিনীকে রিপ্লেস বা তাদের স্থলাভিষিক্ত করতেই এই নতুন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠানো হচ্ছে। এই বিপুল সামরিক উপস্থিতি প্রমাণ করে যে ওয়াশিংটন সংঘাত এড়ানোর চেয়ে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তেহরানকে চাপে রাখার প্রথাগত পদ্ধতিতেই আস্থা রাখছে।
১৩. জারেড কুশনারের জর্ডান-মিশর কূটনীতি: আল-আমিন শহরের গোপন বৈঠক
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও দীর্ঘস্থায়ী মানবিক সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা এবং প্রধান মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপদেষ্টা জারেড কুশনার এক হাই-প্রোফাইল মিশনে মিশরে আগমন করেন। মিশরের আলামিন শহরে আয়োজিত এই গোপন বৈঠকে কায়রো ও অন্যান্য আরব দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের হামাস প্রতিনিধিদলের উচ্চপর্যায়ের কূটনীতবিদরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগেই হামাস নেতা খলিল আল-হাইয়া মিশরের গোয়েন্দা প্রধান রাশেদ হাসানের সাথে কায়রোতে প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক আলোচনা সমাপ্ত করেন। এই ত্রিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকে হামাস ও মুসলিম বিশ্বের প্রতিনিধিরা কুশনারের ওপর তীব্র মনস্তাত্ত্বিক ও কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেন, যাতে ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে অনতিবিলম্বে ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তাবলীতে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য করে।
১৪. নেতানিয়াহুর অটল অবস্থান বনাম হামাসের ধাপে ধাপে অস্ত্র হস্তান্তরের শর্ত
মিশরের সফল বৈঠকের পর জারেড কুশনার সোমবারই তেল আবিবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সাথে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হতে যান। তবে আলোচনার টেবিলে দুই পক্ষের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী অবস্থান কূটনৈতিক অচলাবস্থাকে আরও ঘনীভূত করেছে। তেল আবিবের পক্ষে নেতানিয়াহুর স্পষ্ট দাবি—যেকোনো আলোচনার পূর্বে হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণ (Complete Disarmament) করতে হবে এবং সকল অস্ত্র জমা দিতে হবে। বিপরীতে, হামাস ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর সাফ বক্তব্য হলো, ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতিতে বিন্দুমাত্র আস্থা রাখা যায় না। হামাস প্রস্তাব করেছে যে, গাজায় একটি গ্রহণযোগ্য অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠিত হলে সেই সরকারের কাছে ধাপে ধাপে (প্রথমে ছোট অস্ত্র, পরে মাঝারি এবং সর্বশেষে ভারী অস্ত্র) অস্ত্র হস্তান্তর করা হবে, তবে তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ইসরায়েলি বাহিনীকেও নির্দিষ্ট সময়সীমার (Time-table) মধ্যে ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
১৫. মার্কিন CENTCOM-এর নতুন বিতর্কিত মানচিত্র: গাজা ও পশ্চিম তীর নিখোঁজ
কূটনৈতিক অঙ্গনে আগুনের ওপর ঘি ঢেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সামরিক কমান্ড বা সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)। সেন্টকমের কমান্ডার টানা ১০ দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সফর শেষে যে অফিসিয়াল ভৌগোলিক মানচিত্র প্রকাশ করেছেন, সেখান থেকে ফিলিস্তিনের ঐতিহাসিক অঞ্চল 'গাজা উপত্যকা' এবং 'পশ্চিম তীর'-এর মানচিত্রকে সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা হয়েছে। প্রকাশ করা মানচিত্রে এই সম্পূর্ণ অঞ্চল দুটিকে 'ইসরায়েল'-এর ভূখণ্ড হিসেবে রঙ চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বিতর্কিত প্রকাশনাটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে মার্কিন সামরিক মহলের নীতি ও মানসিকতায় ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব নেই। হামাস এবং পুরো মুসলিম বিশ্বের নেতৃবৃন্দ মার্কিন সেন্টকমের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরপেক্ষতা এখন পুরোপুরি প্রশ্নবিদ্ধ ও দেউলিয়া হয়ে পড়েছে।
Chronicle Point Analysis:
- ১. চুক্তির অবসান: ৬০ দিনের সাময়িক স্থিতাবস্থা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনতে ব্যর্থ হয়েছে এবং উভয় পক্ষই এখন চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
- ২. ইরানি রণকৌশল: 'প্রতিরক্ষা' থেকে 'আগ্রাসী আক্রমণ'-এ পরিবর্তন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।
- ৩. গেরিলা পুরস্কার: মার্কিন সেনাদের ওপর ৩০ হাজার ডলারের পুরস্কার ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত আমেরিকানদের জন্য মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে।
- ৪. ওয়াল স্ট্রিট তথ্য: ইরানের গোপন ছক প্রকাশ পাওয়া প্রমাণ করে যে তেহরানের সামরিক গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক বহুমাত্রিক যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
- ৫. স্থল অভিযানের ঝুঁকি: প্রথাগত আকাশপথ ছেড়ে স্থলপথের আক্রমণ যুক্ত হলে পারস্য উপসাগরীয় মিত্রদেশগুলোর সার্বভৌমত্ব সরাসরি হুমকির মুখে পড়বে।
- ৬. কুয়েত সংকট: কুয়েতকে প্রথম টার্গেট করার পরিকল্পনা পারস্য উপসাগরের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নৌপথ ও শিপিং লাইনগুলোকে সম্পূর্ণরূপে অচল করে দিতে পারে।
- ৭. ইন্টারনেট সাবোটাজ: সমুদ্র তলদেশের ডেটা কেবল বিচ্ছিন্ন করার ছক আধুনিক ডিজিটাল অর্থনীতিকে এক নজিরবিহীন বৈশ্বিক সংকটে ফেলবে।
- ৮. রিয়াদ-তেহরান সমীকরণ: হুতিদের মাধ্যমে সৌদি আরবে আক্রমণ বৃদ্ধি তেহরান-রিয়াদ সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পুনর্মিলনকে আবারো ধুলিস্যাৎ করতে পারে।
- ৯. জেনারেল হাতামীর ডকট্রিন: দেশের বাইরে আগাম আক্রমণ বা প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক নীতি প্রয়োগ মধ্যপ্রাচ্যকে সার্বিক আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
- ১০. টমাহক ধ্বংসের বার্তা: আমেরিকার সর্বাধুনিক ক্রুজ মিসাইল ভূপাতিত করার ভিডিও প্রকাশ করে ইরান তাদের উন্নত এয়ার ডিফেন্সের শক্তিমত্তা বিশ্ব দরবারে জানান দিল।
- ১১. আমেরিকার বিমান ক্ষয়ক্ষতি: ভিয়েতনাম যুদ্ধের চেয়ে বেশি ড্রোন ও এয়ারক্রাফট হারানো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর একচ্ছত্র আধিপত্যকে সংকুচিত করেছে।
- ১২. ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন: রণতরী পরিবর্তনের মাধ্যমে পেন্টাগন তাদের উপস্থিতি বজায় রাখলেও তা চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে নিষ্ফল।
- ১৩. কুশনারের ভূমিকা: ট্রাম্পের জামাতার এই সফর মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের চেয়ে বরং মার্কিন স্বার্থ ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা বলয় সুরক্ষিত করার চতুর কূটনৈতিক চাল।
- ১৪. অস্ত্র বনাম সেনা প্রত্যাহার: নেতানিয়াহুর 'আগে নিরস্ত্রীকরণ' শর্ত এবং হামাসের 'ধাপভিত্তিক সেনা প্রত্যাহার' দাবির দ্বন্দ্ব গাজার যুদ্ধবিরতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
- ১৫. সেন্টকমের বিতর্কিত মানচিত্র: গাজা ও পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের অংশে পরিণত করা প্রমাণ করে যে ওয়াশিংটনের তথাকথিত 'দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান' কৌশল কেবল একটি প্রহসন।