সিরিয়ার গোপন পারমাণবিক প্রকল্প 'সাইট ৯৯' ও ইসরায়েলি হুমকি: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং বাংলাদেশের জ্বালানি-কূটনৈতিক সংকট

📅 আগষ্ট, ২০২৬

সিরিয়ার গোপন পারমাণবিক প্রকল্প 'সাইট ৯৯' ও ইসরায়েলি হুমকি: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং বাংলাদেশের জ্বালানি-কূটনৈতিক সংকট

📅 ১১ আগষ্ট, ২০২৬ | ✍️ বিশেষ প্রতিনিধি, Chronicle Point

বিশ্ব ভূ-রাজনীতি এবং আঞ্চলিক সুরক্ষায় বিশ্বজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে মারাত্মক অস্থিরতা। একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সিরিয়ার দেইর জোর মরুভূমির গভীরে অবস্থিত অত্যন্ত সংবেদনশীল গোপন পারমাণবিক কেন্দ্র 'সাইট ৯৯' ঘিরে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ), আমেরিকা এবং ইসরায়েলের বহুমুখী ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ চরমে পৌঁছেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চরম লোডশেডিং, জ্বালানি খাত বেসরকারি খাতে সমর্পণের বিতর্কিত পরিকল্পনা এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' (RAW) প্রধানের আকস্মিক ঢাকা সফর নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমসাময়িক এই বিশ্ব পরিস্থিতি, সিরিয়ার আদালত কর্তৃক বাশার আল আসাদের মৃত্যুদণ্ড, কলম্বিয়ার বিতর্কিত ঘোষণা ও পরবর্তী ভয়াবহ ভূমিকম্প, ইরানের সামরিক কাঠামোর বড় পরিবর্তন এবং বাংলাদেশের সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে Chronicle Point-এর এই বিস্তারিত ও বস্তুনিষ্ঠ বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদন।

১. দেইর জোর মরুভূমির গোপন পারমাণবিক কেন্দ্র 'সাইট ৯৯'-এর রহস্য ও ইতিহাস

সিরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় দেইর জোর প্রদেশের জনমানবহীন মরুভূমির গভীরে অবস্থিত 'সাইট ৯৯' আন্তর্জাতিক সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত রহস্যময় এবং সংবেদনশীল স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। এই গোপন প্রকল্পটির সূচনা হয়েছিল মূলত ২০০০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে, যখন তৎকালীন বাশার আল আসাদ সরকার স্বীয় অস্তিত্ব রক্ষা এবং আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্যে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় একটি পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। উত্তর কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীরা অত্যন্ত গোপনে সিরীয় সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে মরুভূমির নিচে সুড়ঙ্গ ও সুসংগঠিত বাঙ্কার কমপ্লেক্স তৈরি করেছিল। ২০০৭ সালে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ সিরীয় কর্মকর্তাদের ফোন কল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে প্রথম এই গোপন পরমাণু প্রকল্পের অস্তিত্ব টের পায়, যা পরবর্তীতে বৈশ্বিক রাজনীতিতে বিশাল তোলপাড় সৃষ্টি করে।

২. 'অপারেশন আউট অব দ্য বক্স' এবং ইসরায়েলি বিমান হামলার প্রেক্ষাপট

২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী সিরিয়ার এই গোপন পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য পরিচালনা করে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি গোপন সামরিক অভিযান, যার নাম দেওয়া হয়েছিল 'অপারেশন আউট অব দ্য বক্স' (Operation Out of the Box)। ইসরায়েলি এফ-১৫ এবং এফ-১৬ যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে দেইর জোরের মূল রিঅ্যাক্টর ভবনে সুনির্দিষ্ট বিমান হামলা চালায় এবং স্থাপনাটিকে গুঁড়িয়ে দেয়। অভিযানের পর বহু বছর ধরে সিরিয়া কিংবা ইসরায়েল—কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে এই হামলার কথা স্বীকার করেনি। তবে পরবর্তীতে ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং বিভিন্ন স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যায় যে, হামলার পরেও স্থানটিতে তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি ও কিছু ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো অক্ষত রয়ে গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত এসডিএফ (SDF) ও নতুন সিরীয় প্রশাসনের হাতবদলে আবারও সংবাদের শিরোনামে আসে।

৩. নতুন চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) পরিদর্শনের অনুমতি

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মিডিয়া এবং অ্যাক্সিওস (Axios) নিউজ-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মধ্যস্থতায় সিরিয়ার বর্তমান প্রশাসন আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) সাথে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির আওতায় আইএইএ-এর পরিদর্শকদের 'সাইট ৯৯' এলাকাটি সরাসরি সরেজমিনে পরিদর্শন করার এবং সেখানে তেজস্ক্রিয় উপাদানের অবশিষ্ট মাত্রা পরিমাপ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমা শক্তিগুলো দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ করছিল যে ধ্বংসস্তূপের নিচে রিঅ্যাক্টরের মূল উপাদান বা প্রক্রিয়াজাত ইউরেনিয়াম এখনও গোপন রাখা হয়েছে। তবে ইরান পূর্বে আইএইএ-কে পরিদর্শনের সুযোগ দিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, সিরিয়াকেও এই পরিদর্শনের মাধ্যমে ইসরায়েল ও আমেরিকার গোয়েন্দা নজরদারির ফাঁদে পড়তে হতে পারে।

৪. তেজস্ক্রিয় পার্টিকেল অপসারণ, 'ডার্টি বোম্ব' আতঙ্ক ও ইসরায়েলি পুনরায় হামলার হুমকি

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে 'সাইট ৯৯' এলাকায় একাধিক সন্দেহজনক সামরিক ট্রাক ও ভারী যানবাহনের আনাগোনা প্রত্যক্ষ করা গেছে। ইসরায়েলের আশঙ্কা, সিরীয় নতুন প্রশাসন অথবা তাদের আঞ্চলিক মিত্র তুরস্ক ওই এলাকা থেকে অক্ষত বা অর্ধ-ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কণা ও ইউরেনিয়াম পার্টিকেল অন্য কোনো গোপন স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। যদিও সাইট ৯৯-এ অস্ত্র তৈরির উপযোগী উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (High-Enriched Uranium) ছিল না, তবুও সেখানে থাকা ইয়েলো কেক বা ইউরেনিয়াম বর্জ্য দিয়ে অতি সহজেই মারাত্মক ক্ষতিকারক 'ডার্টি বোম্ব' (Dirty Bomb) বা তেজস্ক্রিয় বোমা তৈরি করা সম্ভব। এই অজুহাতে তেল আবিব থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক পরিদর্শন সংস্থা কাজ শুরুর আগেই অথবা পরিদর্শনের পর কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়লে ইসরায়েল পুনারায় ওই স্থানে বিমান হামলা চালাবে।

৫. রাশিয়ার সাথে সামরিক চুক্তি ও সিরিয়ান আকাশে রুশ ফাইটার জেটের মহড়া

ইসরায়েলের ক্রমাগত আকাশসীমা লঙ্ঘন ও সম্ভাব্য বিমান হামলা ঠেকানোর জন্য সিরিয়ার নতুন প্রশাসন রাশিয়ার সাথে তাদের কৌশলগত প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন করে পুনর্বিন্যাস করেছে। পূর্বে নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার হাতে থাকা বিভিন্ন বিমানঘাঁটি তিন মাসের মধ্যে হস্তান্তরের কথা থাকলেও, সাম্প্রতিক সামরিক জরুরি পরিস্থিতিতে মাত্র তিন দিনের মধ্যে সিরীয় বাহিনী সেই ঘাঁটিগুলোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। একই সাথে সিরীয় পাইলটদের আধুনিক সুখোই ফাইটার জেট পরিচালনায় রাশিয়ান বিমান বাহিনী নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে। সম্প্রতি রাশিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান সিরিয়ার আকাশসীমায় সমন্বিত টহল ও সামরিক মহড়া সম্পাদন করে ইসরায়েলকে স্পষ্ট সংকেত দিয়েছে যে, অনুমোদনহীন যেকোনো আকাশসীমা অনুপ্রবেশের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

৬. বাশার আল আসাদ ও মাহির আল আসাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের ঐতিহাসিক রায়

সিরিয়ার বিচারব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব ও যুগান্তকারী ঘটনা ঘটেছে। দেশটির সর্বোচ্চ আদালত দীর্ঘদিনের স্বৈরাচারী শাসক বাশার আল আসাদ, তার ভাই এবং রিপাবলিকান গার্ডের সাবেক প্রধান মাহির আল আসাদসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে। দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর রাসায়নিক হামলা, নির্বিচার বোমাবর্ষণ, হাজার হাজার বন্দীকে গুম ও নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে এই রায় প্রদান করা হয়। আন্তর্জাতিক মহলে এই রায়কে সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক পথচলা এবং বিচার নিশ্চিতকরণের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আইনের শাসন কীভাবে বাস্তবায়িত হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

৭. গোলান মালভূমি নিয়ে কলম্বিয়ার বিতর্কিত অবস্থান ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়

লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে হঠাৎ এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সাথে সুর মিলিয়ে লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া সিরিয়ার দখলকৃত গোলান মালভূমিকে (Golan Heights) ইসরায়েলের বৈধ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। আমেরিকার পর কলম্বিয়াই বিশ্বের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিল। কলম্বিয়ার পূর্ববর্তী ফিলিস্তিনপন্থী ও বামপন্থী সরকারের পতনের পর মার্কিন মদদে ক্ষমতায় আসা নতুন প্রশাসন এই ইসরায়েলপন্থী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে কাকতালীয়ভাবে, এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার এক প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্প আঘাত হানে, যাতে ১৩২ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ৫০০-র বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের একাংশের মতে, প্রাকৃতিক এই বিপর্যয় দেশটির সাম্প্রতিক চরম কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে এক গভীর জাতীয় ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়েছে।

৮. ইরানে সামরিক নেতৃত্বে বড় রদবদল ও খামেনির শক্ত অবস্থান

ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক চাপের মুখে ইরানের শাসনব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতা মুস্তফা আলী খামেনি ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে ব্যাপক রদবদল ঘটানো হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে মেজর জেনারেল আলী আব্দুল্লাহিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদী, যাকে পদোন্নতি দিয়ে মেজর জেনারেল করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের নৌবাহিনীতেও নতুন যোগ্য নেতৃত্ব আনা হয়েছে। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারস্য উপসাগর ও কৌশলগত হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ও ইসরায়েলি নৌবহরের সম্ভাব্য উস্কানি প্রতিহত করতেই এই নতুন পেশাদার সামরিক কমান্ড গঠন করা হয়েছে।

৯. হরমুজ প্রণালী সংকট এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ইরানের ৪ শর্ত

বিশ্ব খনিজ তেলের অন্যতম প্রধান পরিবহন পথ 'হরমুজ প্রণালী' (Strait of Hormuz)-কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে অজ্ঞাত হামলায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প মিডিয়াকে প্রণেতা হিসেবে বলছেন হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রয়েছে, অথচ বাস্তবে বীমা ও সুরক্ষার অভাবে বিশ্ব অর্থনীতি অচল হওয়ার পথে। ইরান ট্রাম্প প্রশাসনকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নির্বিঘ্ন জাহাজ চলাচলের নিশ্চয়তা পেতে হলে ৪টি কঠোর শর্ত পূরণ করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের ওপর থেকে সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো।

১০. ইয়েমেনের মুখা বন্দরে হুথিদের নতুন আক্রমণ ও আঞ্চলিক প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের প্রক্সি যুদ্ধের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ইয়েমেনে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘাত তীব্র রূপ নিয়েছে। ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ হুথি বাহিনী লোহিত সাগরের কৌশলগত 'মুখা' (Mukha) বন্দরে সৌদি সমর্থিত কোয়ালিশন ও স্থানীয় সামরিক ঘাঁটিতে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গাজা ও সিরিয়ার পরিস্থিতির সাথে সংহতি জানিয়ে হুথিরা প্রমাণ করতে চাইছে যে, লোহিত সাগরের বাব-এল-মানদেব প্রণালী থেকে শুরু করে মুখা বন্দর পর্যন্ত পুরো সমুদ্রপথ তাদের সামরিক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই হামলার ফলে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

১১. বাংলাদেশে তীব্র তাপদাহের মাঝে নজিরবিহীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট

অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বর্তমানে এক অভূতপূর্ব ও কষ্টদায়ক বিদ্যুৎ সংকটের মুখোমুখি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহের সাথে পাল্লা দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে, যা জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুতের দেখা মিলছে। বিদ্যুতের এই তীব্র হাহাকার ও জ্বালানি আমদানির সংকট সমাধান করতে না পেরে সাধারণ মানুষের চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের সুনির্দিষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে সরকারের রাজনৈতিক কৌশলের অভাব ও অদূরদর্শী নীতি চরম সমালোচনার জন্ম দিচ্ছে।

১২. বসুন্ধরা গ্রুপকে ৪০ হাজার কোটি টাকার জ্বালানি ব্যবসা হস্তান্তরের বিতর্ক

বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি তেলের দীর্ঘ সারি ও ভোগান্তি কমানোর অজুহাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান 'বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন' (BPC)-এর প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৪৫,০০০ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির একক মনোপলি ক্ষমতা বেসরকারি খাতের 'বসুন্ধরা গ্রুপ'-এর হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। যেখানে বিপিসি বছরের পর বছর ধরে জ্বালানি আমদানি করে হাজার হাজার কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে, সেখানে একটি নির্দিষ্ট বিতর্কিত মেগা-কর্পোরেট গ্রুপের হাতে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত এমন সংবেদনশীল খাতের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

১৩. ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর অতীত ইতিহাস ও নীতিগত ব্যর্থতা

বর্তমান জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর রাজনৈতিক অতীত ও অতীত রেকর্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অতীতের বিভিন্ন সময় টুকু আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক লবিস্টদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্বে ২০০১-২০০৬ মেয়াদের সময় কানসাটে বিদ্যুৎ দাবিকারী ৯ জন আন্দোলনকারী কৃষককে গুলি করে হত্যার সময়ও তিনি জ্বালানি খাতের দায়িত্বে ছিলেন এবং তৎকালীন চরম লোডশেডিংয়ের দায় তার ওপরই এসেছিল। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিপিসি-কে নিষ্ক্রিয় করে বেসরকারি অলগার্কদের হাতে জ্বালানি খাতের দায়িত্ব তুলে দেওয়ায় দেশের মানুষ ন্যায্য মূল্যে তেল ও বিদ্যুৎ পাবে নাকি ক্রমান্বয়ে আরও জিম্মি হয়ে পড়বে—তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।

১৪. র' (RAW) প্রধানের গোপন ঢাকা সফর ও সরকারের রহস্যজনক ভূমিকা

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম আলোড়ন সৃষ্টি করেছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' (Research and Analysis Wing - RAW)-এর প্রধানের দুই দিনের ঝটিকা ও গোপন ঢাকা সফর। অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তাকে সেনা নিয়ন্ত্রিত পাঁচ তারকা হোটেল 'রেডিসন ব্লু'-তে ভিআইপি আতিথেয়তা দেওয়া হয়। সফরটি নিয়ে প্রথম দিকে সরকার ও প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব থাকলেও, খবরটি গণমাধ্যমে চাউর হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা ড. জাহেদ আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের কথা স্বীকার করেন। ডিজিএফআই (DGFI) প্রধানের আমন্ত্রণে এই সফর হলেও সফরে র' প্রধানের সাথে বিএনপির শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের সাপেক্ষে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

১৫. বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ

মুখে ভারত-বিরোধী অবস্থান গ্রহণ করলেও বাস্তবে বিএনপির বর্তমান সরকার নেপথ্যে নয়াদিল্লিকে সন্তুষ্ট করার নীতি অনুসরণ করছে বলে বিভিন্ন মহলে ধারণা জোরালো হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বসানোর পরিকল্পনা কিংবা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর শীর্ষ পদে নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব পালন করা সেনা কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে তার তাৎক্ষণিক দিল্লি সফর এই ইঙ্গিতই বহন করে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বা বেগম খালেদা জিয়ার নিজস্ব ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তে বর্তমান প্রশাসন ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে নিজেদের ক্ষমতা শক্ত করতে চাইছে কি না—তা নিয়ে দেশের সচেতন জনগণ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

Chronicle Point Analysis:

  • ১. সাইট ৯৯-এর কৌশলগত অবস্থান: দেইর জোরের এই গোপন কেন্দ্রটি মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য ও পারমাণবিক প্রতিযোগিতার এক অন্যতম অনুঘটক।
  • ২. ইসরায়েলের আগাম হামলা নীতি: 'অপারেশন আউট অব দ্য বক্স'-এর মতো কৌশল বজায় রেখে ইসরায়েল যেকোনো উদীয়মান পারমাণবিক হুমকি শুরুতেই ধ্বংস করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
  • ৩. আইএইএ-এর নিরপেক্ষতার সংকট: ইরানের অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায়, আইএইএ পরিদর্শনের ফলে তথ্যের গোপনীয়তা প্রকাশ পেয়ে পশ্চিমাদের সামরিক সুবিধার পথ প্রশস্ত হয়।
  • ৪. ডার্টি বোম্বের ভূ-রাজনৈতিক কার্ড: ইউরেনিয়াম বর্জ্য দিয়ে তৈরি বোমার ভয় দেখিয়ে ইসরায়েল সিরিয়ায় পুনরায় বিমান হামলার আইনি ও কূটনৈতিক অজুহাত তৈরি করছে।
  • ৫. রাশিয়ার উপস্থিতির স্থায়িত্ব: মাত্র তিন দিনে বিমানঘাঁটি সিরিয়ার হাতে ফেরত দেওয়া এবং যৌথ টহল প্রমাণ করে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব কোনোভাবেই হারাতে প্রস্তুত নয়।
  • ৬. আসাদ পরিবারের বিচারিক পরিণতি: বাশার আল আসাদের মৃত্যুদণ্ড রাজনৈতিক বার্তা দিলেও সিরিয়ার নতুন শাসনের প্রশাসনিক ভিত্তি এখনো নড়বড়ে।
  • ৭. কলম্বিয়ার কূটনৈতিক পরিবর্তন: আমেরিকার রাজনৈতিক চাপের কারণে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে ফিলিস্তিনবিরোধী কূটনৈতিক অবস্থানের পুনরুত্থান ঘটছে।
  • ৮. ইরানের সামরিক পুনর্গঠন: আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে পরিবর্তন নির্দেশ করে ইরান যেকোনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রস্তুতি নিশ্চিত করছে।
  • ৯. বিশ্ব অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও হরমুজ: হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।
  • ১০. হুথিদের কৌশলগত সাফল্য: মুখা বন্দরে হামলা চালিয়ে হুথিরা আবারও প্রমাণ করল যে তারা লোহিত সাগরের বাণিজ্যে প্রধান নিয়ন্ত্রক হিসেবে বহাল রয়েছে।
  • ১১. বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট ও জনভোগান্তি: অব্যাহত লোডশেডিং এবং তাপদাহ দেশের অর্থনীতির চাকা এবং জনজীবনকে থমকে দিচ্ছে।
  • ১২. জ্বালানি খাতে অলিগার্কিক নিয়ন্ত্রণ: বসুন্ধরা গ্রুপকে তেলের একক আমদানির সুযোগ দেওয়া রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সাধারণ গ্রাহকের স্বার্থের চরম বিরোধী।
  • ১৩. বিপিসি-র সক্ষমতা খর্ব: ৪৫ হাজার কোটি টাকার লাভজনক প্রতিষ্ঠান বিপিসিকে পাশ কাটিয়ে বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দেওয়া নীতিগত দুর্নীতির পরিচয়।
  • ১৪. 'র' প্রধানের সফরের কূটনৈতিক বার্তা: গোপন কূটনৈতিক আতিথেয়তা এবং শীর্ষ নেতাদের বৈঠক প্রমাণ করে সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতে স্বচ্ছতার চরম অভাব রয়েছে।
  • ১৫. পররাষ্ট্রনীতির দ্বিচারিতা: প্রকাশ্যে সার্বভৌমত্বের কথা বললেও দিল্লির সন্তুষ্টি অর্জনের কৌশল দেশের দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

পাঠকদের জিজ্ঞাসিত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

১. সিরিয়ার 'সাইট ৯৯' আসলে কী ধরনের কেন্দ্র ছিল? এটি সিরিয়ার দেইর জোরের মরুভূমিতে অবস্থিত উত্তর কোরিয়ার সাহায্যে তৈরি একটি অতীব গোপন পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর কেন্দ্র ছিল, যা ২০০৭ সালে ইসরায়েলি হামলায় আংশিক ধ্বংস হয়। ২. ইসরায়েল কেন সাইট ৯৯-এ আবারও হামলার হুমকি দিচ্ছে? ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি, স্থানটি থেকে তেজস্ক্রিয় পারমাণবিক কণা বা ইউরেনিয়াম বর্জ্য অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে যা ডার্টি বোম্ব তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে। ৩. সাইট ৯৯ পরিদর্শনে আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) ভূমিকা কী? মার্কিন মধ্যস্থতায় সিরীয় প্রশাসন চুক্তি করেছে যাতে আইএইএ পরিদর্শকরা সেখানে তেজস্ক্রিয় পদার্থের সঠিক স্থিতি পর্যালোচনা করতে পারেন। ৪. বাশার আল আসাদ ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতের রায় কী এসেছে? সিরিয়ার বিশেষ আদালত বাশার আল আসাদ, তার ভাই মাহির আল আসাদ এবং শীর্ষ সামরিক কর্তাদের মৃত্যুদণ্ডের ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছে। ৫. কলম্বিয়া কেন গোলান মালভূমিকে ইসরায়েলের অংশ হিসেবে ঘোষণা দিল? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রভাবে কলম্বিয়ার নতুন সরকার তাদের পূর্ববর্তী পররাষ্ট্রনীতি পরিবর্তন করে আমেরিকা ও ইসরায়েলের পক্ষে এই ঘোষণা দিয়েছে। ৬. সিরিয়ার আকাশে রাশিয়ান যুদ্ধবিমানের মহড়ার কারণ কী? ইসরায়েলকে স্পষ্ট সামরিক বার্তা দিতে এবং সিরীয় পাইলটদের যৌথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিতে রাশিয়া আকাশসীমায় যৌথ টহল পরিচালনা শুরু করেছে। ৭. ইরানে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ পদে হঠাৎ পরিবর্তনের কারণ কী? ইসরায়েল ও আমেরিকার সম্ভাব্য সামরিক উস্কানি প্রতিহত করতে খামেনি আইআরজিসি ও সেনাবাহিনীর প্রধান পদে বিশ্বস্ত সামরিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। ৮. হরমুজ প্রণালী চালু করতে ইরানের মূল শর্তগুলো কী? ইরানের মূল শর্ত হলো মার্কিন সমস্ত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারস্য উপসাগর থেকে শত্রুভাবাপন্ন সামরিক উপস্থিতি হ্রাস করা সহ ৪টি দাবি পূরণ করা। ৯. ইয়েমেনের মুখা বন্দরে হুথি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার তাৎপর্য কী? এর মাধ্যমে হুথিরা লোহিত সাগর ও সংলগ্ন কৌশলগত সমুদ্রপথে নিজেদের অপ্রতিরোধ্য সামরিক ক্ষমতার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। ১০. বাংলাদেশে বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ কী? গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঠিক জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি দূরদর্শিতার অভাবে এই সংকট দেখা দিয়েছে। ১১. বসুন্ধরা গ্রুপকে জ্বালানি তেল আমদানির অনুমতি দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন কেন? কারণ রাষ্ট্রীয় বিপিসি লাভজনকভাবে এই কাজ পরিচালনা করে আসছিল, বেসরকারি মেগা-গ্রুপের হাতে এটি দিলে বাজারে মনোপলি তৈরি হতে পারে। ১২. জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর অতীত বিতর্ক কী? তিনি ২০০১-২০০৬ মেয়াদেও কানসাটে বিদ্যুৎ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ এবং ব্যাপক লোডশেডিংয়ের সময় জ্বালানি খাতের দায়িত্বে ছিলেন। ১৩. ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' (RAW) প্রধানের বাংলাদেশ সফরের কারণ কী ছিল? অফিসিয়ালি ডিজিএফআই প্রধানের আমন্ত্রণে আসামীদের ফেরানো সংক্রান্ত আলোচনার কথা বলা হলেও নেপথ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক স্বার্থ জড়িত বলে ধারণা করা হয়। ১৪. 'র' প্রধানের সফর নিয়ে সরকারের প্রাথমিক লুকোচুরির কারণ কী? জনগণের সম্ভাব্য ভারত-বিরোধী অসন্তোষ এবং স্পর্শকাতর কূটনৈতিক বৈঠকের গোপনীয়তা রক্ষার্থেই সরকার শুরুতে খবরটি প্রকাশ করেনি। ১৫. বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বর্তমানে কী দিকে মোড় নিচ্ছে? প্রকাশ্যে যাই বলা হোক না কেন, নেপথ্যে প্রতিবেশী ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত ও প্রশাসনিক সমঝোতা বজায় রাখার প্রবণতা স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

লেখাটি কি আপনার উপকারে এলো? প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দিন

Website Total View