Honor 600 Review: প্রিমিয়াম ডিজাইন ও শক্তিশালী ব্যাটারির অনর ৬০০ কি বাজেট সেরা স্মার্টফোন?
Honor 600 Review: প্রিমিয়াম ডিজাইন ও শক্তিশালী ব্যাটারির অনর ৬০০ কি বাজেট সেরা স্মার্টফোন?
স্মার্টফোন বাজারের মধ্যম বাজেটের তালিকায় নতুন চমক নিয়ে হাজির হয়েছে অনর (Honor)। সম্প্রতি গ্লোবাল মার্কেটের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের বাজারেও বেশ সাড়া ফেলেছে তাদের নতুন ডিভাইস Honor 600। আকর্ষণীয় স্লিম ডিজাইন, ন্যারো বেজেল ডিসপ্লে, শক্তিশালী ব্যাটারি এবং এআই (AI) ফিচারের সমন্বয়ে ফোনটি তৈরি করা হয়েছে। প্রফেশনাল টেক রিভিউ ও ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ দুই সপ্তাহের অভিজ্ঞতার আলোকে এই স্মার্টফোনটির একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং সত্যনিষ্ঠ রিভিউ প্রকাশ করছে Chronicle Point। এই আর্টিকেলে ডিভাইসটির ভালো ও মন্দ সব দিক বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. নেটওয়ার্ক: টেকনোলজি
Honor 600 স্মার্টফোনটিতে সর্বাধুনিক নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ২জি (2G), ৩জি (3G), ৪জি (4G) এবং সম্পূর্ণ ৫জি (5G) নেটওয়ার্ক টেকনোলজি সাপোর্ট করে। গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট হওয়ায় এতে শক্তিশালী সিগন্যাল রিসেপশন ক্ষমতা রয়েছে। একই সাথে নিরবচ্ছিন্ন ডাটা কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করতে ডুয়াল স্ট্যান্ডবাই ৫জি এবং উন্নত ক্যারিয়ার এগ্রিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্রাউজিং এবং ডাউনলোড এক্সপেরিয়েন্স প্রদান করে।
২. লাঞ্চ ডেট: এনাউন্স স্ট্যাটাস
আন্তর্জাতিক বাজারে অফিশিয়ালি এনাউন্স হওয়ার পর ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশের বাজারে আনঅফিশিয়ালি ডিভাইসটি বিক্রয় শুরু হয়। বর্তমানে এটি দেশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় গ্যাজেট শপ, যেমন 'এসএমএস গ্যাজেট'-এ গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে আসার পর থেকেই এর চমৎকার বিল্ড কোয়ালিটি এবং প্রিমিয়াম লুকের জন্য এটি মিড-রেঞ্জ টেক প্রেমীদের মাঝে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
৩. বডি: ডাইমেনশন, ওয়েইট, বিল্ড, সিম
ডিভাইসটির ডিজাইন এবং ইন-হ্যান্ড ফিল অত্যন্ত চমৎকার। মাত্র ৭.৮ মিলিমিটার (7.8mm) থিকনেসের কারণে এটি খুবই স্লিম ও কমপ্যাক্ট লাগে। এর ফ্রেম তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে মেটাল অ্যালুমিনিয়াম এবং এর ব্যাক পার্টটি গ্লাস ও পলিকার্বোনেটের একটি বিশেষ প্রিমিয়াম মিক্সড টেক্সচারে তৈরি। ফোনটির মোট ওজন মাত্র ১৯০ গ্রাম, যা হাতে নিলে বেশ হালকা এবং আরামদায়ক মনে হয়। এতে ডুয়াল ন্যানো সিম স্লট ব্যবহার করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো, এতে SGS-এর ৫-স্টার রেটিং সহ IP68 এবং IP69K ডাস্ট ও ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স রয়েছে, যা তীব্র বৃষ্টি, ধুলোবালি কিংবা ঘাম থেকে ফোনকে পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখে। এর বডিতে একটি ডেডিকেটেড ‘এআই (AI) শর্টকাট বাটন’ রয়েছে। এটি ব্ল্যাক, হোয়াইট এবং অরেঞ্জ (আইফোন সদৃশ লুক) এই তিনটি আকর্ষণীয় কালারে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
৪.ডিসপ্লে: টাইপ, সাইজ, রেজ্যুলিউশন,প্রোটেকশান
অনর ৬০০-তে দেওয়া হয়েছে একটি দুর্দান্ত ৬.৫৭ ইঞ্চির (6.57-inch) কালারফুল ও পাঞ্চি ডিসপ্লে। এটি একটি ১.৫কে (1.5K) রেজ্যুলিউশনের ডিসপ্লে, যার রিফ্রেশ রেট ১২২০ হার্জ (1220Hz)। ডিসপ্লেটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর আল্ট্রা-ন্যারো বেজেল, যা মাত্র ০.৯৮ মিলিমিটার। ফলে স্ক্রিন-টু-বডি রেশিও অনেক বেশি এবং কন্টেন্ট ওয়াচিংয়ে অসাধারণ ইমার্সিভ ফিল পাওয়া যায়। এর ব্রাইটনেস অত্যন্ত পাওয়ারফুল, যা পিক ব্রাইটনেস হিসেবে বেশ উচ্চ লেভেল দাবি করে; ফলে তীব্র রোদেও আউটডোরে ডিসপ্লে একদম ক্লিয়ার দেখা যায়। রাতের বেলা চোখের সুরক্ষার জন্য ডিসপ্লেটির ব্রাইটনেস সর্বনিম্ন ১ নিট (1 Nit) পর্যন্ত কমানো যায় এবং এতে রয়েছে ৩৮৪০ হার্জ (3840Hz) পিডব্লিউএম (PWM) ডিমিং প্রযুক্তি। কন্টেন্ট স্ট্রিমিংয়ের জন্য এতে এইচডিআর (HDR) সার্টিফিকেশন রয়েছে। তবে এর ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরটি স্ক্রিনের কিছুটা বেশি নিচে অবস্থিত, যা কিছুটা বিরক্তিকর। ফ্রন্ট প্রোটেকশনের জন্য অনরের নিজস্ব উন্নত গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে যা অত্যন্ত টেকশই।
৫. প্লাটফর্ম: ও.এস, চিপসেট,সিপিইউ,জিপিইউ
ডিভাইসটি সফটওয়্যার হিসেবে সর্বাধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ১৬ (Android 16)-এর উপর ভিত্তি করে তৈরি ম্যাজিক ওএস ১০ (Magic OS 10) দ্বারা চালিত। প্রসেসর হিসেবে এতে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪ (Snapdragon 7 Gen 4) চিপসেট। এটি একটি অত্যন্ত সুষম এবং অপটিমাইজড অক্টা-কোর সিপিইউ (CPU) এবং শক্তিশালী জিপিইউ (GPU)-এর সমন্বয়ে গঠিত মিড-রেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম। প্রতিদিনের মাল্টিটাস্কিং এবং সাধারণ অ্যাপস ব্যবহারে কোনো ল্যাগ বা স্টাটারিং দেখা যায় না। তবে এই দামের একটি ফোনে স্ন্যাপড্রাগন ৮এস সিরিজের কোনো চিপসেট আশা করা হয়েছিল, যা এখানে মিসিং। অনর তাদের এই ওএস-এ অন্তত ৩ বছরের বড় অ্যান্ড্রয়েড আপডেট প্রদান করতে পারে।
৬. মেমোরি: কার্ড স্লোট, ইন্টারনাল
Honor 600 ডিভাইসটিতে পর্যাপ্ত স্টোরেজ এবং র্যামের ভ্যারিয়েন্ট দেওয়া হয়েছে। ডে টু ডে ব্যবহারের জন্য এটি অত্যন্ত ফাস্ট ও স্ন্যাপি রেসপন্স দেয়। ইন্টারনাল স্টোরেজ হিসেবে এতে ইউএফএস ৩.১ (UFS 3.1) হাই-স্পিড মেমোরি টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে বলে ধারণা করা যায়, যা ডাটা রিড ও রাইটের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে ফোনটিতে কোনো এক্সটার্নাল মাইক্রো এসডি কার্ড স্লট (Card Slot) বা মেমোরি কার্ড লাগানোর সুবিধা নেই, তাই ব্যবহারকারীদের ইন্টারনাল স্টোরেজের ওপরই ভরসা করতে হবে।
৭. মেইন ক্যামেরা:
ফোনটির ব্যাক প্যানেলে রয়েছে ডুয়াল ক্যামেরা সেটআপ। এর মূল বা প্রাইমারি ক্যামেরাটি একটি বিশাল ২০০ মেগাপিক্সেলের (200 MP) ফ্ল্যাগশিপ গ্রেড সেন্সর, যা অনরের প্রিমিয়াম ম্যাজিক ৮ প্রো এবং অনর ৬০০ প্রো-তেও ব্যবহার করা হয়েছে। দিনের আলোতে এই ক্যামেরা দিয়ে চমৎকার ডিটেইলস, নিখুঁত শার্পনেস এবং ওয়াইড ডাইনামিক রেঞ্জের ছবি তোলা যায়। এর ডিফল্ট 'ভিভিড মোড' সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য আকর্ষণীয় রঙিন ছবি দেয় এবং 'ন্যাচারাল মোড' বাস্তবসম্মত ছবি প্রদান করে। সেকেন্ডারি ক্যামেরা হিসেবে রয়েছে একটি ১২ মেগাপিক্সেলের (12 MP) আল্ট্রাওয়াইড লেন্স, যা ১১২-১১৩ ডিগ্রি ফিল্ড অফ ভিউ কভার করে এবং এটিতে অটোফোকাস থাকায় এটি দিয়ে ম্যাক্রো শটও নেওয়া সম্ভব। মেইন ক্যামেরা দিয়ে ৪কে ৩০ এফপিএস (4K @ 30fps) ভিডিও রেকর্ড করা যায়, যাতে উন্নত স্টেবিলাইজেশন রেটিং (CIPA 6.0 গ্রেড সমতুল্য) রয়েছে। তবে এই ফোনের মূল ক্যামেরা দুর্দান্ত হলেও এতে কোনো ডেডিকেটেড টেলিফোটো লেন্স দেওয়া হয়নি, যা একটি বড় নেতিবাচক দিক। ডিজিটাল জুমের জন্য এতে এআই সুপারজুম ২.০ ব্যবহার করা হয়েছে যা ৫এক্স থেকে ৭এক্স পর্যন্ত কার্যকর।
৮. সেলফি ক্যামেরা:
সামনের দিকে ডিসপ্লের পাঞ্চ-হোলের ভেতরে দেওয়া হয়েছে একটি ৫০ মেগাপিক্সেলের (50 MP) শক্তিশালী পোর্ট্রেট সেলফি ক্যামেরা। এই ক্যামেরাটি দিয়ে অত্যন্ত চমৎকার এবং উজ্জ্বল সেলফি ছবি তোলা সম্ভব। বিশেষ করে সেলফি পোর্ট্রেটের ক্ষেত্রে এর এআই এজ-ডিটেকশন এবং স্কিন টোন অপটিমাইজেশন বেশ নির্ভুল কাজ করে। ফ্রন্ট ক্যামেরাটির একটি বড় প্লাস পয়েন্ট হলো, এটি দিয়েও ৪কে ৩০ এফপিএস (4K @ 30fps) হাই-রেজ্যুলিউশনের ভিডিও রেকর্ড করা যায়, যা ভ্লগিং বা ভিডিও কলিংয়ের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
৯. সাউন্ড:
অডিও এক্সপেরিয়েন্সের জন্য Honor 600-তে দেওয়া হয়েছে ডুয়াল স্টেরিও স্পিকার (Dual Stereo Speakers)। ফোনের উপরে এবং নিচে দুটি আলাদা স্পিকার গ্রিল দেওয়া হয়েছে। স্পিকারগুলোর সাউন্ড আউটপুট বেশ লাউড, ক্লিয়ার এবং পাঞ্চি। গান শোনা, মুভি দেখা বা গেম খেলার সময় এটি চমৎকার স্টেরিও ইফেক্ট তৈরি করে। তবে প্রথাগত নিয়ম মেনেই এই প্রিমিয়াম স্লিম ডিভাইসটিতে কোনো ৩.৫ এমএম (3.5mm) অডিও জ্যাক রাখা হয়নি।
১০. কমিউনিকেশন: wlan, Bluetooth,positioning,nfc, radio, usb
কমিউনিকেশন বা যোগাযোগের সব আধুনিক ফিচার এতে বিদ্যমান। ওয়্যারলেস কানেক্টিভিটির জন্য এতে রয়েছে ডুয়াল-ব্যান্ড WLAN (Wi-Fi) এবং সর্বাধুনিক ব্লুটুথ (Bluetooth)। সঠিক লোকেশন ট্র্যাকিংয়ের জন্য জিপিএস সহ গ্লোবাল পজিশনিং (Positioning) সিস্টেম দেওয়া হয়েছে। কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্ট এবং দ্রুত ডাটা শেয়ারিংয়ের জন্য এতে রয়েছে এনএফসি (NFC) সাপোর্ট। এছাড়াও স্মার্ট হোম অ্যাপ্লায়েন্স নিয়ন্ত্রণের জন্য এতে রয়েছে ফুলফ্লেজড আইআর ব্লাস্টার (IR Blaster) বা ইনফ্রারেড পোর্ট। তবে এতে প্রথাগত এফএম রেডিও (Radio) সুবিধা নেই। চার্জিং এবং ডাটা ট্রান্সফারের জন্য এতে ইউএসবি টাইপ-সি (USB Type-C) পোর্ট ব্যবহার করা হয়েছে।
১১. ফিচার: সেন্সর
স্মার্টফোনটিতে প্রয়োজনীয় সকল সেন্সর যুক্ত করা হয়েছে। বায়োমেট্রিক সুরক্ষার জন্য রয়েছে একটি ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, যা বেশ ফাস্ট এবং নির্ভুলভাবে ফোন আনলক করতে পারে (যদিও এটি স্ক্রিনের বেশ নিচের দিকে অবস্থিত)। এছাড়াও এতে রয়েছে এক্সিলারোমিটার, জাইরোস্কোপ, প্রক্সিমিটি সেন্সর এবং কম্পাস। সফটওয়্যার লেভেলে অনরের ম্যাজিক ওএস-এ অত্যন্ত শক্তিশালী 'রিয়েল এআই' (AI) ফিচার যুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে এআই ফটো-টু-ভিডিও কনভার্টার, সিনেমেটিক টেমপ্লেট, এআই ফটো ইরেজার, এআই ম্যাজিক কালার গ্রেডিং এবং ভয়েস-কন্ট্রোলড এআই সেটিংস অ্যাসিস্ট্যান্ট অন্যতম। তবে এই প্রিমিয়াম এআই ফিচারগুলোর কিছু ক্ষেত্রে সীমিত সময়ের এক্সেস (যেমন ৬ মাস বা ১ বছর ফ্রি) রয়েছে, যার পর সাবস্ক্রিপশন ফি লাগতে পারে।
১২. ব্যাটারি:
ডিভাইসটির অন্যতম সেরা শক্তি হলো এর ব্যাটারি লাইফ। গ্লোবাল সংস্করণে এতে দেওয়া হয়েছে একটি বিশাল ৭০০০ এমএএইচ (7000 mAh) লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি। এত স্লিম বডি (৭.৮ মিমি) এবং ১৯০ গ্রাম ওজনের মধ্যে ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারি দেওয়া অনরের একটি অসাধারণ ইঞ্জিনিয়ারিং সাফল্য। এই ব্যাটারির কারণে ফোনটিতে দুর্দান্ত স্ক্রিন-অন-টাইম এবং ব্যাকআপ পাওয়া যায়; সাধারণ ও মাঝারি ব্যবহারে অনায়াসে দুই দিন পর্যন্ত ব্যাকআপ পাওয়া সম্ভব। দ্রুত চার্জ করার জন্য বক্সেই দেওয়া হয়েছে একটি ৮০ ওয়াটের (80W) সুপারফাস্ট চার্জার। এছাড়াও ওটিজি কেবলের মাধ্যমে অন্য ডিভাইস চার্জ করার জন্য এতে ২৭ ওয়াটের (27W) রিভার্স ওয়্যারড চার্জিং সাপোর্ট রয়েছে। তবে এই ফোনে কোনো ওয়্যারলেস চার্জিং সুবিধা দেওয়া হয়নি।
১৩. Misc: কালার, মডেল, প্রাইস
বিবিধ বিষয়ের মধ্যে ফোনটি মূলত ৩টি কালার ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যাচ্ছে— ক্লাসিক ব্ল্যাক, চমৎকার সিল্কি হোয়াইট এবং আইফোন স্টাইলের গ্লসি অরেঞ্জ। এর অফিশিয়াল মডেল কোড অনর ৬০০ সিরিজের গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্টকে নির্দেশ করে। প্রাইসিংয়ের ক্ষেত্রে বর্তমানে বাংলাদেশের আনঅফিশিয়াল মার্কেটে এর দাম প্রায় ৪৯,০০০ টাকার কাছাকাছি চলছে। তবে টেক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফোনের স্পেসিফিকেশন ও চিপসেট অনুযায়ী এর আসল যৌক্তিক দাম হওয়া উচিত ছিল ৩৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকার মধ্যে।
১৪. টেস্ট: পারফোর্মেন্স, ডিসপ্লে,লাউডস্পিকার,ব্যাটারি,
বাস্তব পরীক্ষার (Testing) ভিত্তিতে বলা যায়—
ডিসপ্লে: ১.৫কে রেজ্যুলিউশন এবং ১২২০ হার্জ রিফ্রেশ রেটের কারণে ডিসপ্লেটি অত্যন্ত স্মুথ, কালারফুল এবং এর আল্ট্রা-ন্যারো বেজেল কন্টেন্ট দেখার অভিজ্ঞতাকে অসাধারণ করে তোলে। আউটডোর ব্রাইটনেস দারুণ।
পারফর্মেন্স: স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪ চিপসেটটি ডে-টু-ডে টাস্কে অত্যন্ত ফাস্ট ও স্ন্যাপি। পাবজি বা কল অফ ডিউটির মতো গেমগুলো হাই সেটিংসে ভালোভাবে খেলা যায়। তবে আল্ট্রা সেটিংসে দীর্ঘক্ষণ হেভি গেমিং করলে কিছুটা ফ্রেম ড্রপ হতে পারে, এটি ডেডিকেটেড গেমারদের জন্য নয়। থার্মাল ম্যানেজমেন্ট বা হিট কন্ট্রোল বেশ ভালো, ফোন সহজে গরম হয় না।
লাউডস্পিকার: ডুয়াল স্টেরিও স্পিকারের অডিও আউটপুট বেশ উচ্চ শব্দসম্পন্ন এবং ক্রিস্পি।
ব্যাটারি: ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারির পারফরম্যান্স এক কথায় দুর্দান্ত ও লং-লাস্টিং, যা ৮০ ওয়াট চার্জার দিয়ে খুব দ্রুত ফুল চার্জ হয়ে যায়।
Chronicle Point Analysis:
- ১. প্রিমিয়াম বিল্ড কোয়ালিটি: মেটাল অ্যালুমিনিয়াম ফ্রেম এবং মিক্সড গ্লাস ব্যাক টেক্সচারের কারণে অনর ৬০০ হাতে নিলে অত্যন্ত প্রিমিয়াম ও ফ্ল্যাগশিপ ফোনের মতো অনুভূতি দেয়।
- ২. অবিশ্বাস্য স্লিম ও হালকা বডি: মাত্র ৭.৮ মিলিমিটার থিকনেস এবং ১৯০ গ্রাম ওজনের বডিতে ৭০০০ এমএএইচ ব্যাটারি যুক্ত করা অনরের একটি দারুণ ডিজাইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং সাফল্য।
- ৩. আল্ট্রা-ন্যারো বেজেল ডিসপ্লে: ডিসপ্লের চারপাশের ব্ল্যাক বেজেল মাত্র ০.৯৮ মিলিমিটার, যা স্ক্রিনটিকে প্রায় বর্ডারলেস লুক দেয় এবং কন্টেন্ট দেখার ইমার্সিভ অভিজ্ঞতা বাড়ায়।
- ৪. আউটডোর ও ইনডোর ব্রাইটনেস ব্যালেন্স: উচ্চ পিক ব্রাইটনেসের কারণে কড়া রোদে ডিসপ্লে যেমন পরিষ্কার দেখা যায়, তেমনি রাতে অন্ধকারের জন্য ১-নিট মিনিমাম ব্রাইটনেস চোখের ক্লান্তি কমায়।
- ৫. সর্বোচ্চ সুরক্ষায় IP68/IP69K রেটিং: পানি এবং ধুলোবালি থেকে সুরক্ষার জন্য এতে IP68 এর পাশাপাশি IP69K রেটিং রয়েছে, যা আকস্মিক পানির চাপ বা বৃষ্টি অনায়াসে সহ্য করতে পারে।
- ৬. ৭০০০ এমএএইচ দানবীয় ব্যাটারি ব্যাকআপ: গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্টের লিথিয়াম ব্যাটারিটি ব্যবহারকারীকে দীর্ঘসময় চার্জের চিন্তা থেকে মুক্তি দেয় এবং এক চার্জে দুই দিন পর্যন্ত ব্যাকআপ নিশ্চিত করে।
- ৭. ৮০ ওয়াট সুপার ফাস্ট চার্জিং: বিশাল ব্যাটারি হওয়া সত্ত্বেও বক্সের ৮০ ওয়াটের ফাস্ট চার্জার দিয়ে ফোনটি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জ হয়ে যায়।
- ৮. ২০০ মেগাপিক্সেল মূল ক্যামেরা: অনরের এই ফ্ল্যাগশিপ গ্রেড প্রাইমারি ক্যামেরাটি দিনের আলোতে এবং পোর্টেট শটে দুর্দান্ত ডিটেইলস ও সোশ্যাল মিডিয়া রেডি চমৎকার কালার টোন উপহার দেয়।
- ৯. ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা: ফোনের মেইন ক্যামেরা, আল্ট্রাওয়াইড লেন্স এবং ৫০ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা— তিনটিতেই ৪কে ৩০ এফপিএস ভিডিও করার সুবিধা রয়েছে।
- ১০. শক্তিশালী সিআইপিএ ৬.০ স্টেবিলাইজেশন: ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সময় হাত কাঁপলেও এর উন্নত স্টেবিলাইজেশন সিস্টেম ভিডিওকে স্মুথ এবং ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের কাছাকাছি স্থির রাখে।
- ১১. কার্যকরী এআই (AI) ফিচারসমূহ: ফটো-টু-ভিডিও কনভার্ট, সিনেমেটিক টেমপ্লেট এবং এআই অবজেক্ট ইরেজারের মতো রিয়েল লাইফ এআই ফিচারগুলো ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে সহজ করে।
- ১২. ডেডিকেটেড এআই ও ক্যামেরা বাটন: বডিতে থাকা অতিরিক্ত ফিজিক্যাল বাটনটি এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ডাবল প্রেসের মাধ্যমে দ্রুত ক্যামেরা অন করতে সাহায্য করে।
- ১৩. ফুলফ্লেজড আইআর ব্লাস্টার ও এনএফসি: রিমোট হিসেবে টিভি-এসি নিয়ন্ত্রণের জন্য আইআর ব্লাস্টার এবং কন্ট্যাক্টলেস পেমেন্টের জন্য এনএফসি সেন্সরের উপস্থিতি অত্যন্ত কাজের।
- ১৪. চিপসেট বনাম প্রাইস রেশিও (সীমাবদ্ধতা): ৪৯,০০০ টাকা বাজেটে স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৪ চিপসেটটি কিছুটা কম শক্তিশালী মনে হয়; এই দামে স্ন্যাপড্রাগন ৮এস সিরিজের প্রসেসর থাকা উচিত ছিল।
- ১৫. টেলিফোটো লেন্সের অনুপস্থিতি (বড় রেড ফ্ল্যাগ): অনরের পূর্ববর্তী জনপ্রিয় ধারার মতো এই মডেলে কোনো ডেডিকেটেড টেলিফোটো পোর্ট্রেট লেন্স দেওয়া হয়নি, যা এই বাজেটের ক্রেতাদের হতাশ করবে।