তিনটি অভ্যুত্থান ও জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার: জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ধারাবাহিক বিশ্বাসভঙ্গের এক অকাট্য ঐতিহাসিক পর্যালোচনা।

📅 May 2026

তিনটি অভ্যুত্থান ও জিয়া পরিবারের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার: জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে ধারাবাহিক বিশ্বাসভঙ্গের এক অকাট্য ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

📅 ২৬ মে, ২০২৬ | ✍️ বিশেষ প্রতিনিধি, Chronicle Point

ঢাকা, ২৬ মে ২০২৬: বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনটি বড় অভ্যুত্থান আমাদের রাষ্ট্রজীবন ও রাজনৈতিক মানচিত্রকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে—১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান। এই তিনটি ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপট আলাদা ছিল, চরিত্র ছিল ভিন্ন, নেতৃত্ব এবং রাজপথে রক্তপাতের ধরনও ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। কিন্তু একটি জায়গায় এসে এই তিনটি ঘটনার মধ্যে এক আশ্চর্যজনক ও নির্মম মিল দেখা যায়। তিনবারই দেশের সাধারণ জনগণ বা রাষ্ট্রের ভেতরের বিদ্রোহী শক্তি পুরোনো স্বৈরাচারী ও শোষণের ক্ষমতার কাঠামো ভেঙেছে, তিনবারই একটি বৈপ্লবিক গণতান্ত্রিক উত্তরণের মহাসম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, এবং তিনবারই সেই জাতীয় সম্ভাবনার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সুবিধাভোগী হয়েছে 'জিয়া পরিবার'। প্রথমবার রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে এসেছেন জিয়াউর রহমান; দ্বিতীয়বার তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া; এবং তৃতীয়বার তাঁদের সন্তান তারেক রহমান। তবে গভীর রাজনৈতিক মূল্যায়নে দেখা যায়—তিনবারই বাংলাদেশের মানুষের রক্তে ভেজা গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। এই বিশেষ প্রতিবেদনটি কোনো দলীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রচারণার চোখ দিয়ে নয়, বরং জনগণের গণআকাঙ্ক্ষা এবং ক্ষমতার পালাবদলের নির্মম বাস্তবতার নিরিখে তৈরি করা হয়েছে।

১. ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট: বাকশাল থেকে মুক্তির সম্ভাবনা বনাম ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টকে নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দুটি বিপরীতমুখী প্রচলিত ন্যারেটিভ বা বয়ান চালু আছে। একদল এটিকে কেবল একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড হিসেবে দেখে, অন্যদল এটিকে বাকশালী একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করে। তবে এই প্রতিবেদনের মূল লক্ষ্য নৈতিক বিতর্ক নয়, বরং ১৫ আগস্টের পর যে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হলো, সেটি কি আসলেই কোনো সত্যিকারের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথ খুলেছিল? বাস্তব সত্য হলো, ১৫ আগস্টের সাথে সাথেই জিয়াউর রহমান সরাসরি ক্ষমতায় আসেননি। শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতি হন। কিন্তু ইতিহাসে সরাসরি রাষ্ট্রপ্রধান না হয়েও ঘটনার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হওয়া যায়, যার উৎকৃষ্ট উদাহরণ জিয়াউর রহমান। ১৫ আগস্ট-পরবর্তী ক্ষমতার করিডর থেকে তিনি সবচেয়ে কার্যকরভাবে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে উঠে আসেন।

২. বাকশালের অবসান ও জনগণের অপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা

তৎকালীন বাকশাল শাসনব্যবস্থা বাংলাদেশের রাজনৈতিক জীবনকে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছিল। একদলীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ এবং রাজনৈতিক বহুত্ববাদ দমনের ফলে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে গভীর গণক্ষোভের জন্ম হয়েছিল। ফলস্বরূপ, ১৫ আগস্টের পর সাধারণ মানুষ সাময়িকভাবে মনে করেছিল যে দেশ হয়তো একদলীয় শাসনের অন্ধকার থেকে মুক্ত হয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের আলো দেখবে। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। জনগণের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হয়নি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠিত করার পরিবর্তে রাষ্ট্রের ওপর সামরিক-রাজনৈতিক ক্ষমতার এক নতুন কাঠামো চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করে দেয়।

৩. অভ্যুত্থানকারীদের ব্যবহার ও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশের দায়মুক্তি

যারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নিজেদের জীবন বাজি রেখে ঝুঁকি নিয়েছিল এবং রাষ্ট্রের পুরোনো রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙেছিল, তারা ক্ষমতার দরজা খুলে দিলেও সেই দরজার প্রকৃত মালিক বনে যান জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান অভ্যুত্থানকারীদের বিচার যেমন করেননি, তেমনি তাদের প্রকৃত ক্ষমতার অংশীদারও করেননি। তিনি তাদের রাষ্ট্রদূতের চাকরি দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে নিরাপদ দূরত্বে রাখলেন এবং ক্ষমতার কেন্দ্র নিজের নিয়ন্ত্রণে নিলেন। ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জারি করা ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স (দায়মুক্তি অধ্যাদেশ) পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতিত্বকালে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়। এই দ্বৈত নীতি ও নিজের ক্ষমতা সুসংহত করার কৌশল ছিল মূলত এক ধরনের ক্ষমতা-সংরক্ষণমূলক ব্যবহার এবং প্রথম বিশ্বাসভঙ্গ।

৪. ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান: স্বৈরাচার পতন ও তিন জোটের ঐতিহাসিক রূপরেখা

১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ও বিশাল গণ-জাগরণ। এরশাদের সামরিক স্বৈরাশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবী এবং সাধারণ মানুষের রক্তাক্ত সংগ্রামের ফলেই স্বৈরাচারের পতন ঘটেছিল। এই আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল ১৯৯০ সালের ২০ নভেম্বর ঘোষিত তিন জোটের যৌথ রূপরেখা বা ঘোষণা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন আটদলীয় জোট, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সাতদলীয় জোট এবং বামপন্থী পাঁচদলীয় জোট সম্মিলিতভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, স্বৈরাচার-পরবর্তী বাংলাদেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, স্বাধীন বিচার বিভাগ, সার্বভৌম সংসদ এবং মৌলিক অধিকার রক্ষা করে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করা হবে। এরশাদের পতনের পর বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে নির্দলীয় অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

৫. ১৯৯১ সালের ক্ষমতা লাভ এবং খালেদা জিয়ার প্রাথমিক অনীহা

১৯৯১ সালের অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জয়লাভ করে জিয়াউর রহমানের স্ত্রী ও বিএনপির তৎকালীন প্রধান খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসেন। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের প্রধান রাজনৈতিক সুবিধাভোগী হিসেবে তাঁর সামনে সুযোগ ও দায়িত্ব ছিল তিন জোটের রূপরেখা পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করার। তবে ইতিহাসের গবেষণা ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসার ক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার তীব্র প্রাথমিক অনীহা ছিল। বিএনপির ঐতিহাসিক প্রবণতা সবসময়ই ছিল রাষ্ট্রপতি-শাসিত পদ্ধতির পক্ষে, যা ছিল জিয়াউর রহমানের সামরিক-প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব কেন্দ্রীকরণের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ১৪০টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় জামায়াতের ১৮ জন সংসদ সদস্যের সমর্থনে সরকার গঠন করতে বাধ্য হয়েছিল।

৬. দ্বাদশ সংশোধনী: মহৎ আত্মসমর্পণ নাকি রাজনৈতিক হিসাব?

সংসদীয় পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার জন্য তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের দাবি ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং জনমনে তা স্বৈরাচারী রাষ্ট্রপতির একচ্ছত্র ক্ষমতার বিরুদ্ধে একটি প্রতীকী সংস্কার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। বিএনপি বুঝতে পেরেছিল যে তারা যদি রাষ্ট্রপতি-শাসিত ব্যবস্থার পক্ষে জেদ ধরে রাখে, তবে জনমতের আদালতে তারা পরাজিত হবে। অবশেষে আওয়ামী লীগ, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দীন আহমদ এবং খোদ বিএনপির ভেতরের প্রগতিশীল অংশের চাপের মুখে খালেদা জিয়া সংসদীয় পদ্ধতির বিল পাস করতে সম্মত হন। ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর গণভোটে এটি অনুমোদিত হয়। সুতরাং, এটিকে খালেদা জিয়ার স্বতঃস্ফূর্ত গণতান্ত্রিক রূপান্তর বলার সুযোগ নেই; এটি ছিল মূলত তৎকালীন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার এক কৌশলগত হিসাব।

৭. প্রধানমন্ত্রী-কেন্দ্রিক নতুন স্বৈরতন্ত্র এবং দ্বিতীয় বিশ্বাসভঙ্গ

তিন জোটের রূপরেখা কেবল সংসদীয় পদ্ধতিতে ফেরার নাম ছিল না; এটি ছিল স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের অঙ্গীকার। কিন্তু খালেদা জিয়ার সরকার ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ অক্ষুণ্ণ রেখেছিল। এর ফলে যা ঘটেছিল তা হলো—রাষ্ট্রপতি-কেন্দ্রিক একচ্ছত্র ক্ষমতার বদলে জন্ম নেয় প্রধানমন্ত্রী-কেন্দ্রিক সর্বময় ক্ষমতার। একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতার কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে কেবল কেন্দ্রটি বদলে দেওয়া হয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির বদলে দলীয় আনুগত্য ও দলীয় ক্ষমতা প্রাধান্য পায়। ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত প্রতিশ্রুতি দলীয় ক্ষমতার দরকষাকষিতে হারিয়ে যায়, যা ছিল দ্বিতীয় বিশ্বাসভঙ্গ।

৮. ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান: ফ্যাসিবাদ পতন ও গণআকাঙ্ক্ষার পুনরুত্থান

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের সমসাময়িক ইতিহাসের সবচেয়ে তাজা ও বেদনাদায়ক অধ্যায়। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা শেখ হাসিনার দমবন্ধ করা ফ্যাসিবাদী ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়ে এই অভ্যুত্থান সফল করেছিল। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এই আন্দোলনটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল ছাত্র, তরুণ, সাধারণ নাগরিক এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো জনগণের এক সম্মিলিত বিস্ফোরণ। কিন্তু এই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও তাৎক্ষণিক সুবিধাভোগী হিসেবে আবির্ভূত হলেন তারেক রহমান ও তাঁর দল বিএনপি। খালেদা জিয়া মুক্ত হলেন এবং বিএনপির জন্য রাষ্ট্রক্ষমতার বন্ধ দুয়ার খুলে গেল।

৯. জুলাই সনদ এবং তারেক রহমানের ১৮০ ডিগ্রি রাজনৈতিক মোড়

জুলাই সনদ ছিল ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী বাংলাদেশের রাষ্ট্র সংস্কারের এক ন্যূনতম ও জাতীয় রূপরেখা, যার পক্ষে দেশের সাধারণ মানুষ গণভোটে অবস্থান জানিয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনের প্রথম সারির বৃত্তে থাকা কুশীলবদের অভিজ্ঞতা এবং বাস্তব রাজনৈতিক চিত্র বলছে, নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার সুযোগ তৈরি হতেই তারেক রহমানের বিএনপি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে দাঁড়ায়। তারা সরকার গঠনের ম্যান্ডেট নিতে যতটা উন্মুখ ছিল, রাষ্ট্র সংস্কারের ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে ততটাই অনীহা প্রদর্শন করে। ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার সাথে সাথেই জুলাইয়ের সনদের মূল চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের রক্তের দাবিকে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পূর্ণ অস্বীকার করতে শুরু করে।

১০. দ্বিতীয় শপথ বর্জন: সংস্কার ম্যান্ডেটকে আনুষ্ঠানিক অস্বীকৃতি

বিএনপির এই ইউ-টার্ন বা ভোলবদলের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ হলো নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের 'দ্বিতীয় শপথ' না নেওয়া। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সাধারণ সংসদ সদস্য পদের শপথের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বিতীয় একটি বিশেষ শপথ নেওয়ার রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতি ছিল। সংসদ সচিবালয় দুই শপথের সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করলেও এবং জামায়াত ও এনসিপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলের সদস্যরা দুই শপথ নিলেও, বিএনপির নির্বাচিত সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানান। এটি কেবল কোনো আইনি বা প্রক্রিয়াগত আপত্তি ছিল না, এটি ছিল জনগণের সংস্কারের ম্যান্ডেটকে সরাসরি বুড়ো আঙুল দেখানোর প্রথম আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক মুহূর্ত।

১১. সালাহউদ্দিন আহমদের বিস্ফোরক বক্তব্য এবং কৌশলের রাজনীতি

বিএনপির এই রাজনৈতিক দ্বিচারিতা এবং গোপন এজেন্ডা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের এক বিস্ফোরক বক্তব্যে। জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী তিনি বলেছিলেন, "সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচনটা না হতে দেয়, সেজন্য আমরা সব কিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদেও স্বাক্ষর করেছি... নির্বাচনের স্বার্থে আমরা অনেক কথা বলি নাই।" এই বক্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য অত্যন্ত ভয়াবহ। এর পরিষ্কার অর্থ হলো, জুলাই সনদে বিএনপির স্বাক্ষর কোনো নীতিগত আদর্শিক অঙ্গীকার ছিল না; এটি ছিল কেবল নির্বাচনে পৌঁছানোর এবং তরুণ সমাজের ক্ষোভকে শান্ত রাখার একটি সাময়িক রাজনৈতিক কৌশল।

১২. জুলাইয়ের শক্তির ওপর দমন-পীড়ন এবং 'হাসিনা মডেল' এর পুনরাবৃত্তি

ক্ষমতা নিশ্চিত হওয়ার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি ও নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই নিজেদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করেছে। ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের ডিম, ইট-পাটকেল ও হকিস্টিক নিয়ে বর্বরোচিত হামলার ঘটনা সংবাদমাধ্যমে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এটি প্রমাণ করে যে, মাঠপর্যায়ে পুরোনো রাজনৈতিক ক্যাডারভিত্তিক পেশীশক্তি ও চাঁদাবাজির সংস্কৃতি আবারও স্বরূপে ফিরে এসেছে, যা জুলাইয়ের চেতনার সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

১৩. তারেক রেজার গ্রেপ্তার এবং স্মৃতির অবমাননা

জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীকী এবং নৈতিক চরিত্র তারেক রেজাকে ছাত্রদলের দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তারেক রেজা ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে তীব্র পুলিশি ও সাউন্ড গ্রেনেডের হামলার মুখে নিহত শহীদদের মাগফেরাত কামনায় গায়েবানা জানাজায় ইমামতি করেছিলেন। যিনি জুলাইয়ের রক্তের স্মৃতি ও নৈতিক সাহসের প্রতীক, ক্ষমতার পালাবদলের পর আজ তাঁকেই রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে বন্দি হতে হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে, বিএনপি অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পুরোনো 'হাসিনা মডেল' বা ফ্যাসিবাদী দমন নীতি অনুসরণ করছে, যেখানে আগে প্রতিপক্ষকে দমনের মাঠ তৈরি করা হয় এবং পরে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে মামলা দেওয়া হয়।

১৪. মির্জা ফখরুলের "নির্মূল" তত্ত্ব এবং ফ্যাসিবাদী মানসিকতা

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্য দলটির ভেতরকার মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তরকে আরও নগ্নভাবে উন্মোচিত করেছে। তিনি জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক পক্ষকে "রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি নির্মূল" করার আহ্বান জানিয়েছেন, যা একাধিক শীর্ষ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে নির্বাচনে পরাজিত বা প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানানো স্বাভাবিক, কিন্তু কোনো পক্ষকে "নির্মূল" করার ভাষা কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক বা বহুত্ববাদী হতে পারে না। এটি একটি বিশুদ্ধ ফ্যাসিবাদী শব্দ, যা মাঠপর্যায়ের ক্যাডারদের সহিংসতা ছড়ানোর এবং ভিন্নমতকে স্তব্ধ করার নৈতিক অনুমতি দেয়।

১৫. তিন প্রজন্ম ও একই পারিবারিক-দলীয় মনস্তত্ত্বের উপসংহার

১৯৭৫, ১৯৯০ এবং ২০২৪—এই তিনটি ভিন্ন সময়ের অভ্যুত্থান এবং জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের ভূমিকা বিশ্লেষণ করলে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক প্যাটার্ন বা ছক সামনে আসে। ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমান বাকশালের ক্ষোভকে ব্যবহার করে নিজের সামরিক-রাজনৈতিক ভিত্তি গড়েন; ১৯৯০ সালে খালেদা জিয়া গণআন্দোলনের রূপরেখাকে কাটছাঁট করে প্রধানমন্ত্রী-কেন্দ্রিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখেন; এবং ২০২৪ সালে এসে তারেক রহমান জুলাইয়ের তরুণদের রক্তকে সিঁড়ি বানিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জুলাই সনদকে ছুঁড়ে ফেলে দেন। তিনবারই দেশের সাধারণ মানুষ স্বৈরাচারের লৌহকপাট ভেঙে ক্ষমতার দরজা খুলে দিয়েছে, আর তিনবারই জিয়া পরিবার সেই অন্দরমহলে প্রবেশ করে জনগণের মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। এই ধারাবাহিকতা কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, এটি ক্ষমতার প্রতি এক ক্ষতিকর পারিবারিক-দলীয় মনস্তত্ত্ব, যা বর্তমান সময়ে তারেক রহমানের কর্মকাণ্ডে এক প্রত্যক্ষ ও চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতায় রূপ নিয়েছে।

Chronicle Point Analysis:

  • ১. ধারাবাহিক সুবিধাভোগী: জিয়া পরিবার গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের তিনটি প্রধানতম গণঅভ্যুত্থানের প্রধানতম রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধাভোগী হয়েছে।
  • ২. ১৯৭৫-এর দ্বৈততা: জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্টের সুবিধা পুরোপুরি নিলেও ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে আইনের শাসনকে চিরতরে খণ্ডিত করেছিলেন।
  • ৩. ১৯৯০-এর রূপরেখা লঙ্ঘন: তিন জোটের যৌথ ঘোষণাকে খালেদা জিয়া পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্র সংস্কারের ভিত্তি না বানিয়ে কেবল সংসদীয় ব্যবস্থার মোড়কে ক্ষমতার কেন্দ্র পরিবর্তন করেন।
  • ৪. প্রেসিডেন্সিয়াল অনীহা: ১৯৯১ সালে বিএনপি সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরতে চায়নি, কেবল আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা এবং তৎকালীন অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপতির চাপে বাধ্য হয়েছিল।
  • ৫. ২০২৪-এর দ্রুত ভোলবদল: ফ্যাসিবাদ পতনের পর তারেক রহমানের বিএনপি জুলাইয়ের বিপ্লবী ম্যান্ডেট থেকে সরে গিয়ে কেবল নির্বাচনের দিকেই সমস্ত মনোযোগ দেয়।
  • ৬. দ্বিতীয় শপথ বর্জনের অর্থ: সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে বিএনপি প্রকারান্তরে রাষ্ট্র মেরামতের গণআকাঙ্ক্ষাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
  • ৭. কৌশলী আপস: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্য প্রমাণ করে যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর ছিল কেবল ক্ষমতা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত চাল।
  • ৮. নতুন শক্তির ওপর দমন: নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলা ও তারেক রেজার গ্রেপ্তার প্রমাণ করে বিএনপি জুলাইয়ের মূল শক্তিকে এখন প্রতিপক্ষ ভাবছে।
  • ৯. হাসিনা মডেলের ছায়া: মামলা, গ্রেপ্তার এবং মাঠপর্যায়ের দলীয় ক্যাডারদের ক্যাঙ্গারু সংস্কৃতির মাধ্যমে বিএনপি দ্রুত পুরোনো ফ্যাসিবাদী পথেই হাঁটছে।
  • ১০. নির্মূলের রাজনীতি: মির্জা ফখরুলের "নির্মূল" শব্দটির ব্যবহার প্রমাণ করে দলটির নীতি ও আদর্শে বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের কোনো স্থান নেই।
  • ১১. অসম্পূর্ণ থেকে সরাসরি বিশ্বাসঘাতকতা: জিয়া ও খালেদা জিয়ার সময়ে যা ছিল অসম্পূর্ণতা বা ব্যর্থতা, তারেক রহমানের ক্ষেত্রে তা সরাসরি নীতিগত বিশ্বাসঘাতকতা।
  • ১২. প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির অভাব: তিন প্রজন্মের কাউকেই আন্দোলনের সময় জনগণের ভাষা ব্যবহার করলেও ক্ষমতার আসনে বসে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে দেখা যায়নি।
  • ১৩. ক্ষমতা সীমিতকরণের অনীহা: যে দল নিজের ক্ষমতা সংস্কারের মাধ্যমে সীমিত করতে রাজি নয়, তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও মূলত স্বৈরাচারের বীজ বহন করে।
  • ১৪. ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা: যারা রাজপথে রক্ত দিয়ে দরজা ভাঙে, তারা ফুটনোট হয়ে যায়; আর সুযোগ সন্ধানীরা রাষ্ট্রের মূল মালিকানা দখল করে।
  • ১৫. নতুন প্রজন্মের সতর্কতা: ২০২৪-এর তরুণদের আবেগ সরিয়ে রেখে রাজনৈতিক সতর্কতার সাথে এই ধারাবাহিক প্রতারণার ইতিহাসকে মূল্যায়ন করতে হবে।

পাঠকদের জিজ্ঞাসিত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

১. এই প্রতিবেদনে কোন তিনটি অভ্যুত্থানকে মূল্যায়নের ভিত্তি ধরা হয়েছে? ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান, এবং ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানকে এই প্রতিবেদনের ভিত্তি ধরা হয়েছে। ২. এই তিনটি অভ্যুত্থানের মধ্যে সাধারণ মিল বা কমন প্যাটার্নটি কী? তিনবারই সাধারণ জনগণ বা বিদ্রোহী শক্তি স্বৈরাচারী কাঠামো ভেঙেছে এবং তিনবারই ক্ষমতার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হয়েছে জিয়া পরিবার। ৩. ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর জিয়াউর রহমানের ভূমিকা কী ছিল? জিয়াউর রহমান সরাসরি অভ্যুত্থান না করলেও এর ফল ব্যবহার করে ক্ষমতা সুসংহত করেন এবং ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে বৈধতা দেন। ৪. ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল রাজনৈতিক ভিত্তি বা অঙ্গীকার কী ছিল? ১৯৯০ সালের আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল 'তিন জোটের রূপরেখা' বা যৌথ ঘোষণা, যা একটি পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ৫. ১৯৯১ সালে ক্ষমতা গ্রহণের পর খালেদা জিয়ার বড় ব্যর্থতা কী ছিল? তিনি তিন জোটের রূপরেখাকে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না করে ক্ষমতাকে প্রধানমন্ত্রী-কেন্দ্রিক করার মাধ্যমে ক্ষমতার একক ব্যক্তিকেন্দ্রিক চরিত্র বজায় রাখেন। ৬. ১৯৯১ সালে সংসদীয় পদ্ধতিতে ফেরার ক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান কেমন ছিল? বিএনপির ঐতিহাসিক ঝোঁক ছিল রাষ্ট্রপতি-শাসিত ব্যবস্থার দিকে। তারা জনমত ও বিরোধী দলের প্রবল চাপের মুখে কৌশলগত কারণে সংসদীয় পদ্ধতিতে ফিরতে বাধ্য হয়েছিল। ৭. ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা কী ছিল? জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল কেবল সরকার বদল নয়, বরং 'জুলাই সনদ' এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামোর আমূল সংস্কার করা। ৮. ২০২৪ এর পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ কী? ক্ষমতার সুযোগ তৈরি হতেই বিএনপি জুলাই সনদ থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ম্যান্ডেটকে অস্বীকার করে কেবল নির্বাচনের দিকে ঝুঁকছে। ৯. বিএনপির 'দ্বিতীয় শপথ' না নেওয়ার রাজনৈতিক অর্থ কী? এর অর্থ হলো তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নিজেদের ক্ষমতা সীমিত করার প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও গণভোটের ম্যান্ডেটকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ১০. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জুলাই সনদ নিয়ে কী বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন? তিনি বলেছিলেন যে, নির্বাচনের স্বার্থে এবং আন্দোলনের সময়ে তারা সবকিছুতে আপস করে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন। ১১. এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর হামলার ঘটনাটি কোথায় ঘটেছিল? ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ ওঠে। ১২. তারেক রেজা কে এবং তাঁকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়েছে? তারেক রেজা হলেন জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাবির ভিসি চত্বরে শহীদদের গায়েবানা জানাজার ইমাম। ক্ষমতার পালাবদলের পর ছাত্রদলের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৩. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কোন বক্তব্যটি ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতীক? অন্য একটি রাজনৈতিক দলকে "রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি নির্মূল" করার যে আহ্বান তিনি জানিয়েছেন, তা গণতান্ত্রিক বহুত্ববাদের পরিপন্থী ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতার প্রতীক। ১৪. প্রতিবেদনে জিয়া পরিবারের তিন প্রজন্মের চরিত্রকে কীভাবে ভাগ করা হয়েছে? প্রথম অধ্যায়: জিয়া (সামরিক ক্ষমতা), দ্বিতীয় অধ্যায়: খালেদা (অসম্পূর্ণ সাংবিধানিক ফর্ম), এবং তৃতীয় অধ্যায়: তারেক (জুলাই সনদের প্রত্যক্ষ অস্বীকার ও বিশ্বাসভঙ্গ)। ১৫. নতুন প্রজন্মের জন্য এই তিন অভ্যুত্থানের প্রধান ঐতিহাসিক শিক্ষা কী? শিক্ষা হলো—শুধু স্বৈরাচারের পতন ঘটানোই যথেষ্ট নয়, বরং যারা ক্ষমতার ঘরে ঢুকছে তাদের ক্ষমতা সীমিত ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।

SHARE THIS ARTICLE

Website Total View