ইরানের দুঃসাহসিক ১১ দফা স্থল অভিযান ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণ: কুয়েতের পাকিস্তানমুখী নিরাপত্তা কৌশল এবং রণক্ষেত্রের নেপথ্য বিশ্লেষণ
ইরানের দুঃসাহসিক ১১ দফা স্থল অভিযান ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন মেরুকরণ: কুয়েতের পাকিস্তানমুখী নিরাপত্তা কৌশল এবং রণক্ষেত্রের নেপথ্য বিশ্লেষণ
ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০২৬ (ক্রনিকল পয়েন্ট ডেস্ক): মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এক অভূতপূর্ব এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। ইরান একযোগে একাধিক ফ্রন্টে তার সামরিক শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে, যা সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলার উপক্রম করেছে। একদিকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়া ও এরবিলে মার্কিন মদদপুষ্ট গেরিলা ঘাঁটিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং স্পেশাল ফোর্সের স্মরণকালের সবচেয়ে দুঃসাহসিক ও নজিরবিহীন স্থল অভিযান, অন্যদিকে হরমুজ ও বাবেলমান্দেব প্রণালীর কৌশলগত জলসীমায় বাণিজ্যিক ট্যাংকারে একের পর এক বিধ্বংসী আক্রমণ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক মহাসংকটের মুখোমুখি। এর সমান্তরালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইসরাইলে ডজন ডজন এফ-১৬ ফাইটার জেট এবং রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট প্রেরণের খবর বিশ্বাবাসীকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক বাস্তব দোরগোড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই তীব্র উত্তেজনার মাঝে কুয়েত সরকার নিজের অস্তিত্ব রক্ষার্থে এবং ওয়াশিংটনের উপর একচেটিয়া নির্ভরতা কমিয়ে ইসলামাবাদের পারমাণবিক শক্তির ছত্রছায়ায় আশ্রয় নেওয়ার যে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তা দক্ষিণ এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও অর্থনৈতিক মেরুকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিতে যাচ্ছে। ক্রনিকল পয়েন্টের এই বিশেষ ও দীর্ঘ বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্টে আমরা উন্মোচন করব এই নজিরবিহীন সামরিক সংঘাতের গভীর নেপথ্য কারণ, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর গোপন চাল এবং আগামী দিনগুলোর সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ।
১. ইরাকের কুর্দিস্তানে ইরানের নজিরবিহীন স্থল ও বিমান হামলা
ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়া এবং এরবিল প্রদেশে ইরান যে প্রলয়ঙ্কারী সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসের সব সূচককে ছাড়িয়ে গেছে। আইআরজিসি-র ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন বহর সুলাইমানিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদপুষ্ট কুর্দিশ গেরিলাদের প্রধান অস্ত্রাগার এবং সামরিক ব্যারাকে সরাসরি আঘাত হেনেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের ফুটেজ অনুযায়ী, কুর্দিশ গেরিলাদের গোলাবারুদের বিশাল স্তূপের ওপর নিখুঁত হামলার ফলে সেখানে একের পর এক ভয়ংকর সেকেন্ডারি বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে, যার ফলে সমগ্র সুলাইমানিয়া প্রদেশের আকাশ গভীর রাতেও রক্তাভ লাল বর্ণ ধারণ করে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তাদের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো প্রক্সি তৎপরতা তারা উৎসেই ধ্বংস করবে। এই অভিযানটি শুধুমাত্র একটি আকাশভিত্তিক আক্রমণ ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সংঘাতের সূচনা, যা আমেরিকার আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্কের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে।
২. নোহেদ এয়ারবর্ন স্পেশাল ব্রিগেডের দুঃসাহসিক ১১ দফা কমান্ডো অপারেশন
এই সংঘাতের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর এবং রণকৌশলগত দিকটি হলো ইরাকের ভূখণ্ডের ভেতরে প্রবেশ করে ইরানের নিয়মিত সামরিক বাহিনীর নজিরবিহীন গোপন স্থল অভিযান। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অত্যন্ত দক্ষ ও এলিট ইউনিট হিসেবে পরিচিত ‘৩৫তম নোহেদ এয়ারবর্ন স্পেশাল ব্রিগেড’ (35th Nohed Airborne Special Brigade) ইরাকি সীমান্তের ভেতরে সুদূর গভীরে গিয়ে অন্তত ১১টি আলাদা আলাদা অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কায়দা-কানুন সম্পন্ন কমান্ডো অপারেশন পরিচালনা করেছে। এই স্থল অভিযানে কোনো সাধারণ আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি, বরং ইরানি কমান্ডোরা সরাসরি শত্রুর বাঙ্কারে ঢুকে মুখোমুখি লড়াই করেছে। এই অপারেশনের মাধ্যমে তারা মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং মোসাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করা কুর্দিশ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্য ও উচ্চ স্তরের অন্তত ৮ জন শীর্ষ কমান্ডারকে সুনির্দিষ্টভাবে টার্গেট করে খতম করেছে। এই দুঃসাহসিক অভিযান প্রমাণ করে যে, ইরান এখন আর কেবল দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং তারা শত্রুর সীমানার ভেতরে ঢুকে তাদের কমান্ড স্ট্রাকচার গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম।
৩. কুর্দিশ গেরিলাদের ঐতিহাসিক বাস্তবতা এবং আন্তর্জাতিক পরাশক্তির কূটচাল
মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে কুর্দি জাতির সংকট এক দীর্ঘস্থায়ী ভূ-রাজনৈতিক ক্ষত। মধ্যপ্রাচ্যের বিশাল চার মুসলিম রাষ্ট্র—তুরস্ক, ইরান, সিরিয়া এবং ইরাকের সীমানার সংযোগস্থলে এই কুর্দিশ জনগোষ্ঠীর বসবাস। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পৃথিবীর ইতিহাসে ‘কুর্দিস্তান’ নামে স্বাধীন ও সার্বভৌম কোনো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব কখনোই ছিল না। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম অটোমান সাম্রাজ্য বা উসমানীয় খিলাফতকে খণ্ডবিখণ্ড করার কুৎসিত উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ এবং ফরাসি সাম্রাজ্যবাদীরা এই কুর্দিদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের কৃত্রিম স্বপ্ন দেখায় এবং তাদের ঐতিহ্যগত মুসলিম সংস্কৃতির বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে অস্ত্র তুলে দেয়। উসমানীয় সাম্রাজ্যের বিখ্যাত পাশা, জামাল পাশা সেসময় দামেস্কে এই বিশ্বাসঘাতক কুর্দি নেতাদের কঠোরভাবে দমন করেছিলেন। পরবর্তীতে কুর্দিরা কখনো মস্কোর সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে সেজদা দিয়েছে, আবার কখনো ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসের পদলেহন করেছে। ইতিহাস সাক্ষী, প্রতিটি বৈশ্বিক পরাশক্তিই কুর্দিদের নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে সস্তা টিস্যু পেপারের মতো ব্যবহার করেছে এবং কাজ শেষে আস্থার আস্তাকুঁড়ে ছুড়ে ফেলেছে।
৪. সিরিয়ার অভিজ্ঞতা ও ওয়াশিংটনের চরম বিশ্বাসঘাতকতা
সিরিয়া সংকটের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কুর্দিদের যেভাবে ব্যবহার করেছিল, তা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক ক্লাসিক প্রতারণার উদাহরণ। উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ার বিশাল তেল-গ্যাস সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে আমেরিকা কুর্দিদের দিয়ে ‘সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস’ (SDF) নামক একটি সমান্তরাল বিশাল মিলিশিয়া বাহিনী গড়ে তুলেছিল। তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে সিরিয়া বিভাজন করে একটি স্বাধীন কুর্দি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে। কিন্তু যখনই তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান এবং সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের সরকারি বাহিনী দুই দিক থেকে যৌথ সামরিক ও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করল, অমনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাতারাতি তার সমস্ত সৈন্য ঘাঁটি গুটিয়ে কুর্দিদের সম্পূর্ণ এতিম ও নিঃস্ব অবস্থায় ফেলে পালিয়ে গেল। মার্কিন বাহিনীর এই আকস্মিক পলায়নের পর কুর্দিশ মিলিশিয়ারা তুর্কি ও সিরীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। আজ ইরাকে ইরানের এই ব্যাপক স্থল অভিযানের মুখেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একইভাবে কুর্দিদের মুখ থুবড়ে ফেলে নিজেদের কনসুলের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
৫. বেলুচিস্তান ফ্রন্ট ও নরেন্দ্র মোদির বিপজ্জনক ভূ-রাজনৈতিক চক্রান্ত
কুর্দিস্তানের এই একই বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক মডেল বর্তমান দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তান ও ইরানের সীমান্তে অবস্থিত বেলুচিস্তান প্রদেশে বাস্তবায়নের অপচেষ্টা চালাচ্ছে ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদ। ভারতের চরমপন্থী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মিথ্যা স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, ঠিক যেভাবে ব্রিটিশরা কুর্দিদের দেখিয়েছিল। অথচ এই বেলুচিস্তানের গোয়াদর বন্দরে চীন বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ‘সিপেক’ (CPEC) বা চায়না-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোরের মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক গভীর সমুদ্র বন্দর এবং সুপার হাইওয়ে নির্মাণ করেছে, যা সমগ্র অঞ্চলের অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে। ভারতের মূল উদ্দেশ্য বালুচ জনগণের উন্নয়ন নয়, বরং চীনের এই মহাপরিকল্পনাকে নস্যাৎ করা এবং পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করা। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, বেলুচিস্তানে নিয়োজিত চীনা প্রকৌশলীদের ওপর হামলা চালানোর জন্য ভারত অত্যন্ত গোপনে চীনের উইগুর অঞ্চল (পূর্ব তুর্কিস্তান) থেকে কট্টরপন্থী সন্ত্রাসীদের সংগ্রহ করে আফগানিস্তানের গোপন ক্যাম্পে বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে বেলুচিস্তানে পাঠাচ্ছে, যা এক চরম আন্তর্জাতিক অপরাধ।
৬. বাংলাদেশী কিছু গণমাধ্যমের ভূমিকা ও প্রোপাগান্ডা চক্র
এই আন্তর্জাতিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কিছু নির্দিষ্ট মূলধারার গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত বিতর্কিত এবং উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল '৭১ টিভি' (71 TV) অত্যন্ত নগ্নভাবে ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত হয়েছে। সম্প্রতি তারা একটি দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যার মূল বক্তব্য ছিল—বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারার মতোই নাকি পাকিস্তান ও ইরানি সীমান্তে একটি নতুন স্বাধীন কুর্দিস্তান ও বেলুচিস্তান রাষ্ট্র গঠিত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনগুলোতে এই ৭১ টিভি জনরোষ থেকে বাঁচতে সাময়িকভাবে নিরপেক্ষতার মুখোশ পরেছিল। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই তারা পুনরায় তাদের পুরনো ও আসল চেহারায় ফিরে এসেছে এবং দিল্লি ও ওয়াশিংটনের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী মুসলিম বিশ্বের বিভাজনের পক্ষে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা ভূ-রাজনৈতিক প্রতিবেদন থেকে বাংলাদেশের সাধারণ পাঠকদের সম্পূর্ণ সচেতন ও সাবধান থাকা অত্যন্ত জরুরি।
৭. পারস্য উপসাগরে মার্কিন অত্যাধুনিক 'লোকাস' ড্রোনের পতন ও ইরানি প্রতিরোধ
আকাশসীমা এবং প্রযুক্তির লড়াইয়ে ইরান যে আমেরিকার চেয়ে কোনো অংশে পিছিয়ে নেই, তার আরেকটি বড় প্রমাণ মিলেছে পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশিতে। মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যন্ত গোপনীয় এবং অত্যাধুনিক কৌশলগত ড্রোন 'লোকাস' (Locus Drone) ইরানের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেমের নিখুঁত ইন্টারসেপশনের শিকার হয়ে পারস্য উপসাগরে ভূপাতিত হয়েছে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, মার্কিন এই বিলিয়ন ডলারের ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ কোনো সামরিক সাবমেরিন বা বিশেষ জাহাজ উদ্ধার করেনি, বরং ইরানের সাধারণ জেলেরা সমুদ্রে মাছ ধরার জাল ফেলার পর তাদের জালে এই ড্রোনের মূল বডি ও ডানা আটকে যায়। ইরান এই ঘটনার পর মার্কিন সামরিক প্রযুক্তিকে উপহাস করে এবং নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষার সক্ষমতা উদযাপন করতে একটি বিশেষ ‘র্যাপ সংগীত’ (Rap Song) তৈরি করে তা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে। এটি মার্কিন পেন্টাগনের জন্য এক চরম মনস্তাত্ত্বিক পরাজয়, যা প্রমাণ করে যে আমেরিকার রাডার-ফাঁকি দেওয়া প্রযুক্তি এখন ইরানের জেলেদের জালের সাধারণ শিকারে পরিণত হয়েছে।
৮. সিরিয়া ও হিজবুল্লাহর ভ্রাতৃত্ব এবং ভারতীয় ‘গোদি মিডিয়া’র প্রোপাগান্ডা নস্যাৎ
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিশেষ করে ভারতের কর্পোরেট এবং উগ্রপন্থী ‘গোদি মিডিয়া’ (Godi Media) কয়েকদিন ধরে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে একটি গুজব ছড়াচ্ছিল যে, সিরিয়ার আসাদ সরকার নাকি লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক যুদ্ধ ঘোষণা করতে যাচ্ছে। ভারতের এই মিডিয়াগুলোর উদ্দেশ্য ছিল মুসলিম বিশ্বের প্রতিরোধ অক্ষের মধ্যে একটি কৃত্রিম ফাটল দেখানো। তবে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ এবং নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ আল-সারা প্রকাশ্যে এক যৌথ প্রেস কনফারেন্সে এই তথ্য সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন। সিরিয়া স্পষ্ট করে ঘোষণা করেছে যে, অতীতের যেকোনো রাজনৈতিক বা কৌশলগত তিক্ততা ভুলে সিরিয়া কখনোই লেবাননের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানবে না এবং হিজবুল্লাহর সাথে তাদের সম্পর্ক রক্তের ও অভিন্ন শত্রুর বিরুদ্ধে। লেবাননের বর্তমান সেনাপ্রধান জোসেফ আইয়ুবও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইসরাইলের সাথে ভবিষ্যতে যেকোনো শান্তি আলোচনার একমাত্র পূর্বশর্ত হলো লেবানন এবং সিরিয়ার ভূখণ্ড থেকে প্রতিটি ইসরাইলি সেনাকে প্রত্যাহার করতে হবে, কারণ সিরিয়ার হারমান পর্বতমালা থেকে ইসরাইল দুই দেশের ওপরই নজরদারি চালায়।
৯. হরমুজ প্রণালীতে আইআরজিসি-র বিধ্বংসী নৌ-অপারেশন
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল জ্বালানি সরবরাহ রুট 'হরমুজ প্রণালী' (Strait of Hormuz) এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হওয়ার পথে। আইআরজিসি-র নৌ-শাখা সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক তেল ট্যাংকার জাহাজকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করার সময় থামার নির্দেশ দেয়। কিন্তু জাহাজটি ইরানের নৌ-আইন ও নিরাপত্তা সতর্কতা অমান্য করে মার্কিন নৌবাহিনীর আশ্বাসে পালানোর চেষ্টা করলে ইরানের দ্রুতগামী স্পিডবোট এবং কোস্টাল মিসাইল ব্যাটারি থেকে সেটির ওপর সরাসরি হামলা চালানো হয়। আইআরজিসি কর্তৃক প্রকাশিত অফিশিয়াল ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মাঝসমুদ্রে বিশাল সেই ট্যাংকার জাহাজটি ইরানের নিখুঁত আঘাতে দাউদাউ করে জ্বলছে। এই হামলার মাধ্যমে ইরান বিশ্ব অর্থনীতি এবং বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বকে এই কড়া বার্তা দিয়েছে যে, যদি ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করার কোনো ষড়যন্ত্র করা হয়, তবে পারস্য উপসাগর দিয়ে বিশ্বের অন্য কোনো দেশের একটি ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেওয়া হবে না।
১০. বাবেলমান্দেব প্রণালীতে রহস্যময় হামলা ও লোহিত সাগরের অচলাবস্থা
হরমুজ প্রণালীর পর এবার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৌশলগত জলপথ লোহিত সাগরের ‘বাবেলমান্দেব প্রণালী’ (Bab-el-Mandeb Strait)-ও সম্পূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা আগে পাওয়া অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সামরিক সূত্র অনুযায়ী, বাবেলমান্দেব প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় একটি বিশাল পশ্চিমা কার্গো জাহাজে অজ্ঞাতপরিচয় একদল সশস্ত্র কমান্ডো দ্রুতগামী স্পিডবোট নিয়ে হানা দেয়। তারা অত্যন্ত পেশাদার কায়দায় চলন্ত জাহাজের ডেকে আরোহন করে এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো জাহাজের নেভিগেশন ও কন্ট্রোল রুমের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। যদিও কোনো পক্ষ এখনো এই অপারেশনের দায় স্বীকার করেনি, তবে সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ (হুথি) আন্দোলন অথবা ইরানের কোনো বিশেষ স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের কাজ। এর ফলে লোহিত সাগর দিয়ে ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যকার সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা বিশ্ববাজারে পণ্য পরিবহনের খরচ এক ধাক্কায় ৩০০ গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
১১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ বোম্বার পরিকল্পনা এবং ইরানের গ্রানাইট পাহাড়ের অভেদ্য দুর্গ
টাইমস অফ ইসরাইলের এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্টে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে চিরতরে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে তাদের সবচেয়ে মারাত্মক 'বি-২ স্পিরিট স্টিলথ বোম্বার' (B-2 Bomber) বিমান ব্যবহারের চূড়ান্ত ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছে। ওয়াশিংটনের মূল পরিকল্পনা হলো, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোর ওপর এত ব্যাপক ও গভীর মাত্রার বোম্বিং করা যাতে পুরো ল্যাবরেটরি মাটির নিচে দাফন হয়ে যায়। কিন্তু মার্কিন সামরিক গোয়েন্দারা ভালো করেই জানে, ইরান তাদের পরমাণু স্থাপনাগুলো কোনো সাধারণ মাটির নিচে তৈরি করেনি। তারা এগুলোকে সুদূর পারস্যের বিশাল ও কঠিন 'গ্রানাইট পাথরের পাহাড়ের' (Granite Mountain) অন্তত কয়েকশত ফুট গভীরে অত্যন্ত আধুনিক টানেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্থাপন করেছে। অতীতে মার্কিন বাঙ্কার-বাস্টার বোমা এই পাহাড়ের কিছুই করতে পারেনি, তারা কেবল প্রবেশপথগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করতে পেরেছিল। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান সেই সমস্ত প্রবেশপথ পুনরায় উন্মুক্ত করেছে এবং আরও কয়েক ডজন নতুন গোপন টানেল খনন করেছে, যা মার্কিন স্যাটেলাইটকেও ফাঁকি দিতে সক্ষম।
১২. ইসরাইলে আমেরিকার ডজন ডজন এফ-১৬ ফাইটার জেট ও জ্বালানি বিমান প্রেরণ
ইরানের সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ভয়ে ইসরাইলের বেন গুরিওন বিমানবন্দর এবং সামরিক ঘাঁটিগুলো যখন কাঁপছে, ঠিক তখন তেল আবিবকে রক্ষা করতে সরাসরি মাঠে নেমেছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন পেন্টাগন জরুরি ভিত্তিতে ইসরাইলে ডজন ডজন অত্যাধুনিক এফ-১৬ ফাইটার জেট (F-16 Fighter Jets) পাঠিয়েছে। এর চেয়েও বড় সামরিক আলামত হলো, তারা অন্তত চার থেকে পাঁচ জোড়া বিশাল আকৃতির '空中加油机' বা রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট (Refueling Aircraft) ইসরাইলি বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করেছে। এই রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফটের মূল কাজ হলো আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করা, যা তখনই প্রয়োজন হয় যখন কোনো দেশ দূরপাল্লার (যেমন ইরানের ভেতরে গিয়ে) বড় ধরনের বিমান হামলা চালানোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করে। এই সামরিক সমাবেশ স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, আমেরিকা এবং ইসরাইল যৌথভাবে আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের মূল ভূখণ্ডে একটি বিধ্বংসী ও বড় মাপের বিমান হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
১৩. পাকিস্তানের পারমাণবিক কূটনীতি এবং সৌদি আরবের অভেদ্য নিরাপত্তা গ্যারান্টি
মধ্যপ্রাচ্যের এই দাবানলের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র পারমাণবিক শক্তিধর দেশ পাকিস্তানের সামরিক ও পরমাণু কূটনীতি এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি বাহিনীর পক্ষ থেকে সৌদি আরবের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং তেল শোধনাগারে হামলার চেষ্টার পর পাকিস্তান অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানকে একটি চূড়ান্ত হুশিয়ারি বার্তা পাঠিয়েছিল। পাকিস্তান সরাসরি জানিয়ে দেয় যে, সৌদি আরবের পবিত্র ভূমিতে যদি কোনো ধরনের সামরিক বা ড্রোন আক্রমণ হয়, তবে ইসলামাবাদ সেটিকে সরাসরি ‘পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা’ বলে বিবেচনা করবে এবং নিজেদের পারমাণবিক ও প্রচলিত সামরিক শক্তি নিয়ে পাল্টা আক্রমণে যাবে। কারণ সৌদি আরবের সাথে পাকিস্তানের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঐতিহাসিক ‘ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ বা প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। পাকিস্তানের এই চরম অনড় অবস্থানের পর ইরান বাধ্য হয়ে তাদের প্রক্সি হুথিদের নির্দেশ দেয় যাতে সৌদি আরবের ভূখণ্ডে আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র না ছড়া হয়। বিনিময়ে সৌদি আরবও আমেরিকার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে তাদের মাটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালাতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
১৪. কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে বিপর্যয় এবং কুয়েতি সেনাদের হতাহতের রহস্য
কাতারের ভূখণ্ডে মার্কিন ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর ইরান যখন পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, তখন কাতারের পাশাপাশি কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোও তীব্র হামলার শিকার হয়। কুয়েতের পূর্ব সীমান্ত থেকে পাওয়া অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ছবিতে দেখা গেছে, মার্কিন ঘাঁটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর বহু সংখ্যক কুয়েতি সৈন্য গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হচ্ছেন। এখানে এক বিশাল সামরিক রহস্যের জন্ম হয়েছে—যদি হামলা মার্কিন ঘাঁটিতে হয়ে থাকে, তবে মার্কিন সৈন্যদের কোনো লাশের ছবি বা আহত হওয়ার খবর কেন প্রকাশ করা হলো না? কেন কেবল কুয়েতি সেনারা হতাহত হলো? সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত চতুরতার সাথে তাদের সৈন্যদের বাঙ্কারে লুকিয়ে রেখে কুয়েতের স্থানীয় সেনাদের প্রথম সারির ‘পাহারাদার’ বা মানব ঢাল (Human Shield) হিসেবে ব্যবহার করেছে। এই নগ্ন সত্যটি কুয়েতের রাজপরিবার এবং সাধারণ জনগণের মনে মার্কিন নিরাপত্তার প্রতি তীব্র ক্ষোভ ও চরম অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে।
১৫. কুয়েতের পাকিস্তানমুখী নতুন নিরাপত্তা নীতি ও ইসলামাবাদের কঠিন শর্ত
আমেরিকার এই চরম বিশ্বাসঘাতকতা এবং কুয়েতের মাটিতে কুয়েতি সেনাদের রক্তাক্ত লাশ দেখার পর, কুয়েত সরকার তাদের কয়েক দশকের পুরনো প্রথাগত মার্কিন-নির্ভর নিরাপত্তা নীতি সম্পূর্ণ পরিবর্তন করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কুয়েত এখন সৌদি আরবের মডেল অনুসরণ করে সরাসরি পাকিস্তানের পারমাণবিক ও সামরিক ছত্রছায়ায় নিজেদের সঁপে দিতে ইসলামাবাদের সাথে একটি মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদনের চূড়ান্ত টেবিলে বসেছে। পাকিস্তানও এই সুযোগে নিজেদের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে কুয়েতের সামনে দুটি অত্যন্ত কঠোর ও অনমনীয় শর্ত জুড়ে দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রথম শর্ত হলো—কুয়েতকে আগামী ২০ বছর প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেল আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে অত্যন্ত সুলভ ও বিশেষ ছাড়ে পাকিস্তানকে সরবরাহ করতে হবে। দ্বিতীয় শর্ত হলো—কুয়েত সেন্ট্রাল ব্যাংকের যে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ‘উদ্বৃত্ত ক্যাশ ফান্ড’ বা উদ্বৃত্ত অর্থ রয়েছে, তা পশ্চিমা ব্যাংকে না রেখে সরাসরি পাকিস্তানের অবকাঠামো, শিল্প ও সামরিক খাতে দীর্ঘমেয়াদী ইনভেস্ট করতে হবে। বিনিময়ে পাকিস্তান তার বিশেষ কমান্ডো ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি কুয়েতে মোতায়েন করে তাদের চিরতরে অভেদ্য নিরাপত্তা প্রদান করবে।
Chronicle Point Analysis:
- ১. ওয়াশিংটনের প্রক্সি নেটওয়ার্কের পতন: সুলাইমানিয়া ও এরবিলে কুর্দিশ ঘাঁটিতে ইরানের হামলা প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার প্রক্সি নেটওয়ার্ক এখন সম্পূর্ণ অরক্ষিত এবং পতনের মুখে।
- ২. নোহেদ ব্রিগেডের নতুন রণকৌশল: ইরানের ৩৫তম নোহেদ স্পেশাল ব্রিগেডের ১১ দফা স্থল অভিযান এটি নির্দেশ করে যে, ইরান এখন শত্রুর ভূখণ্ডে ঢুকে সরাসরি কমান্ডো অপারেশনে সক্ষম।
- ৩. কুর্দি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি: ইতিহাস সাক্ষী যে, ব্রিটিশ থেকে শুরু করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ—সবাই কুর্দিদের কেবল ভূ-রাজনৈতিক টিস্যু পেপার হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং স্বার্থ শেষে ছুড়ে ফেলেছে।
- ৪. বেলুচিস্তানে ভারতীয় চক্রান্তের পর্দাফাঁস: চীনের সিপেক (CPEC) প্রকল্প নস্যাৎ করতে ভারত যেভাবে উইগুর সন্ত্রাসীদের বেলুচিস্তানে ব্যবহার করছে, তা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি।
- ৫. বাংলাদেশী গণমাধ্যমের ভারতীয় দাসত্ব: ৭১ টিভির মতো কিছু চ্যানেল যেভাবে মুসলিম বিশ্ব বিভাজনের পক্ষে এবং ভারতীয় প্রোপাগান্ডার সমর্থনে কাজ করছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও সতর্কতামূলক।
- ৬. মার্কিন ড্রোন প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা: পারস্য উপসাগরে মার্কিন 'লোকাস' ড্রোন সাধারণ ইরানি জেলেদের জালে আটকে যাওয়া প্রমাণ করে যে, পশ্চিমা সামরিক অহংকার এখন অনেকটাই ম্লান।
- ৭. প্রতিরোধ অক্ষের অভেদ্য একতা: সিরিয়া ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার ভ্রাতৃত্বের পুনঃঘোষণা ভারতের ‘গোদি মিডিয়া’র ছড়ানো সমস্ত সস্তা গুজবকে সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়েছে।
- ৮. বৈশ্বিক জ্বালানি রুট অবরুদ্ধকরণ: হরমুজ ও বাবেলমান্দেব প্রণালীতে ইরানের সমান্তরাল আক্রমণ বিশ্ব অর্থনীতিকে এক শতাব্দীর সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
- ৯. বাঙ্কার-বাস্টারের ব্যর্থতা: ইরানের গ্রানাইট পাথরের পাহাড়ের নিচে নির্মিত পরমাণু স্থাপনাগুলো প্রমাণ করে যে, মার্কিন বি-২ বোম্বার দিয়েও ইরানের পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করা অসম্ভব।
- ১০. ওড়ন্ত রিফুয়েলিংয়ের আলামত: ইসরাইলে মার্কিন রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফট প্রেরণের স্পষ্ট অর্থ হলো, মধ্যপ্রাচ্যে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী বিমান যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে।
- ১১. পাকিস্তানের পারমাণবিক লেভারেজ: সৌদি আরবকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের অনড় অবস্থান প্রমাণ করে যে, মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তার মূল চাবিকাঠি এখন ইসলামাবাদের পারমাণবিক শক্তির হাতে।
- ১২. মার্কিনীদের মানব ঢাল নীতি: কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে মার্কিন সেনারা নিরাপদে থেকে কুয়েতি সেনাদের যেভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, তা পশ্চিমাদের আসল চরিত্র উন্মোচন করে।
- ১৩. কুয়েতের ঐতিহাসিক নীতি পরিবর্তন: ওয়াশিংটনের ওপর অন্ধ নির্ভরতা ত্যাগ করে কুয়েতের পাকিস্তানমুখী হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা।
- ১৪. পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পুনরুত্থান: কুয়েতের উদ্বৃত্ত বিলিয়ন ডলারের ইনভেস্টমেন্ট এবং সুলভ তেলের শর্ত পাকিস্তানের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করার এক সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
- ১৫. হাজার বছরের ইরানি কূটনীতি: 'অকল্পনীয় স্থান থেকে অকল্পনীয় উপায়ে হামলা'—ইরানি স্পিকারের এই কৌশলগত শব্দচয়ন শত্রুর মনে স্থায়ী মনস্তাত্ত্বিক ভয় তৈরি করার এক প্রাচীন ও সফল ইরানি কৌশল।