সৌদি আরবের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নজিরবিহীন মিসাইল হামলা, ৩ দিনের চূড়ান্ত আলটিমেটাম!

📅 জুলাই, ২০২৬

সৌদি আরব ও আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ: মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের সূচনা এবং ওয়াশিংটনকে ৩ দিনের চূড়ান্ত আলটিমেটাম

📅 ১৮ জুলাই, ২০২৬ | ✍️ বিশেষ প্রতিনিধি, Chronicle Point

ক্রনিকল পয়েন্ট ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক মোড় সৃষ্টি হয়েছে, যা সমগ্র অঞ্চলকে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক মহাযুদ্ধের (Full-Scale Regional War) দিকে ঠেলে দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সামরিক সংঘাত এবার এক নতুন এবং চরম ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত ব্রেকিং নিউজ অনুযায়ী, এতদিন মার্কিন আগ্রাসনের মুখে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) কিছুটা নিরপেক্ষ বা পরোক্ষ অবস্থানে থাকলেও, এবার এই দুই দেশে অবস্থিত অত্যন্ত সুরক্ষিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। কাল রাতভর চালানো এই নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) প্রতিরক্ষা বলয় সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এবং মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক স্বাধীন গণমাধ্যম সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রধান সামরিক উপদেষ্টা মহসিন রেজাই ওয়াশিংটনকে আগামী ৩ দিনের একটি চূড়ান্ত সময়সীমা বা ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছেন, যা অমান্য করলে ইরান তার ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক স্ট্র্যাটেজিক ও হাইপারসনিক মিসাইল ব্যবহার করে আমেরিকার কাপন ছুটিয়ে ছাড়বে বলে হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

১. সংঘাতের নতুন সমীকরণ: সৌদি আরব ও আমিরাতের মার্কিন ঘাঁটিতে তীব্র আঘাত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এতদিন ইরান মূলত কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান এবং সিরিয়াতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে তাদের সামরিক অভিযান সীমাবদ্ধ রেখেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সেন্টকমের ধারণা ছিল, যে সমস্ত দেশ থেকে ইরানের মূল ভূখণ্ডে সরাসরি বিমান হামলা বা ড্রোন চালানো হচ্ছে না, ইরান হয়তো সেসব দেশের মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত করবে না। এই সামরিক কৌশলগত দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং অত্যন্ত দামি যুদ্ধ সরঞ্জামগুলো জীবন বাঁচাতে এবং নিজেদের পুনর্গঠিত করতে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু গতকাল রাতে ইরান তাদের রণকৌশল সম্পূর্ণ বদলে ফেলে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের চমকে দিয়ে ইরান কাল রাতে সরাসরি সৌদি আরবের অভ্যন্তরে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত অত্যন্ত সংবেদনশীল মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে একসাথে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আত্মঘাতী ড্রোন নিক্ষেপ করে। এই আকস্মিক ও তীব্র হামলায় সৌদি আরবের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনার মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বা সেন্টকমের চেইন অব কমান্ড বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

২. মানবিক বিপর্যয় বনাম যুদ্ধাপরাধ: ইরানে মার্কিন বাহিনীর পানি শোধনাগারে হামলা

এই যুদ্ধের সবচেয়ে অন্ধকার এবং অমানবিক দিকটি উন্মোচিত হয়েছে ইরানের অভ্যন্তরে মার্কিন বিমান বাহিনীর বর্বর বিমান হামলার মাধ্যমে। ইরানের জাতীয় পানি সরবরাহকারী সংস্থা এবং স্বাধীন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাত দিয়ে জানা গেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ফ্রন্টে ইরানের আইআরজিসি (IRGC) এর ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার সাথে পেরে উঠতে না পেরে এখন ইরানের সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করা শুরু করেছে। গত রাতে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে পানি শোধনাগার এবং রিফিলিং স্টেশনগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করেছে। এই অত্যন্ত অমানবিক এবং আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইনের পরিপন্থী হামলার কারণে বর্তমানে ইরানের প্রায় ২০টি গ্রামের ১ লক্ষাধিক মানুষ সম্পূর্ণ পানিবিহীন অবস্থায় চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। সভ্য সমাজ বা আধুনিক সামরিক ডকট্রিন অনুযায়ী, যুদ্ধ সবসময় এক বাহিনীর সাথে অন্য বাহিনীর হওয়া উচিত, যেখানে সামরিক ঘাঁটি বনাম সামরিক ঘাঁটি লড়াই চলবে। কিন্তু ইরানের কাছে সামরিকভাবে পরাস্ত হয়ে আমেরিকা যেভাবে মানুষের মৌলিক অধিকার পানির ওপর আঘাত হেনেছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের "যুদ্ধাপরাধ" (War Crimes) এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি জ্বলন্ত প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

৩. কুয়েতের পানি ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইরানের পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা

আমেরিকা কর্তৃক ইরানের বেসামরিক নাগরিকদের পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস করার চেষ্টার জবাবে ইরান মুহূর্তের মধ্যে "চোখের বদলে চোখ এবং দাঁতের বদলে দাঁত" নীতি গ্রহণ করেছে। মার্কিন সেন্টকম যখন কুয়েতের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের সিভিলিয়ান স্ট্রাকচারে আঘাত হানে, তখন ইরান তার ড্রোন এবং প্রিসিশন-গাইডেড ক্রুজ মিসাইল দিয়ে কুয়েতের অভ্যন্তরে অবস্থিত প্রধান মার্কিন লজিস্টিক কেন্দ্র এবং কুয়েতের একটি প্রধান বিদ্যুৎ ও লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রে (Desalination Plant) পাল্টা ভয়াবহ হামলা চালায়। কুয়েত সরকারের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নিখুঁত আঘাতে তাদের পানি পরিশোধন কেন্দ্রে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে এবং এর উৎপাদন ক্ষমতা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে। ইরান পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে—আমেরিকা বা তার মিত্ররা যদি ইরানের সাধারণ মানুষকে পানি ও বিদ্যুৎ থেকে বঞ্চিত করার নোংরা খেলায় মেতে ওঠে, তবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটিকে এবং তাদের আশ্রয়দাতা দেশগুলোর বেসামরিক বা আধা-সামরিক জাতীয় অবকাঠামোকে তছনছ করে দেবে।

৪. মার্কিন সেন্টকমের দাবি: টানা সপ্তম রাতের আকাশ যুদ্ধ ও ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান

এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) একটি সামরিক বিবৃতি জারি করে দাবি করেছে যে, তারা ইরানের মূল ভূখণ্ডের ওপর টানা সপ্তম রাতের মতো অত্যন্ত তীব্র এবং সমন্বিত বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে। ওয়াশিংটনের দাবি অনুযায়ী, এই হামলায় তারা মূলত ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডার সিস্টেম, নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক রসদ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ বিশাল অস্ত্রাগার এবং পারস্য উপসাগরে ইরানের সামুদ্রিক সক্ষমতা বা নেভাল ডকইয়ার্ডগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এই হামলায় তারা আধুনিক যুদ্ধবিমান, দূরপাল্লার কৌশলগত ড্রোন এবং পারস্য উপসাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ থেকে শত শত টমাহক ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিকে অতিরঞ্জিত এবং পশ্চিমা মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমেরিকার অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ইরানের নিজস্ব তৈরি 'খোরদাদ-১৫' এবং 'বাভার-৩৭৩' বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে মার্কিন বাহিনীর মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।

৫. হরমুজগান প্রদেশের ট্র্যাজেডি: মার্কিন হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু ও ধ্বংসলীলা

মার্কিন বিমান বাহিনী সামরিক লক্ষ্যবস্তুর দাবি করলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ইরানের কৌশলগত ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর সীমান্তবর্তী হরমুজগান প্রদেশে মার্কিন বোমাবর্ষণে ভয়াবহ বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় প্রাদেশিক গভর্নরের দেওয়া তথ্যমতে, মার্কিন যুদ্ধবিমান থেকে ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি একটি মহাসড়কের ওপর অবস্থিত সেতুর ওপর এসে পড়ে। সেই মুহূর্তে সেতুটি পার হচ্ছিল দুটি সাধারণ পরিবারের ব্যক্তিগত গাড়ি। এই পৈশাচিক হামলায় দুটি গাড়িতে থাকা ৬ জন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক ঘটনাস্থলেই জীবন্ত পুড়ে ছাই হয়ে যান। এছাড়া বন্দর আব্বাসের তাপে আল্লাহ আকবার আবাসিক মহল্লাতেও মার্কিন বিমান থেকে ভারী বোমা ফেলা হয়, যার আঘাতে একজন নিরপরাধ নারী নিহত হন এবং মাত্র ১ বছর বয়সী একটি নিষ্পাপ শিশুর অঙ্গহানি ঘটে। এছাড়া জ্বালানি সরবরাহকারী একটি বেসামরিক ট্যাঙ্কারের চালকও মার্কিন রকেটের আঘাতে পুড়ে মারা গেছেন। বুশেহর প্রদেশের দাসতি কাউন্টিতেও মার্কিন বাহিনী ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, যেখানে কোনো সামরিক ঘাঁটি না থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও সরকারি স্থাপনাসমূহ ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

৬. মাইন বিস্ফোরণ ও পারস্য উপসাগরে তেল ট্যাঙ্কার ধ্বংসের রহস্য

পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা এখন সম্পূর্ণ শূন্যের কোঠায়। মার্কিন সেন্টকম অভিযোগ করেছে যে, ইরান আন্তর্জাতিক জলপথে আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে শত শত আন্ডারওয়াটার মাইন (Underwater Mines) পুতে রেখেছে এবং এর ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় ওই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি বিশাল আন্তর্জাতিক তেল ট্যাঙ্কার মাইনের আঘাতে বিস্ফোরিত ও ধ্বংস হয়ে গেছে। সেন্টকম এই ঘটনার জন্য সরাসরি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (IRGC) দায়ী করে এটিকে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর চরম আঘাত বলে অভিহিত করেছে। তবে আইআরজিসি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের দাবি, তারা আগেই আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থাকে নির্দিষ্ট এবং নিরাপদ রুটের ম্যাপ সরবরাহ করেছিল এবং হুশিয়ারি দিয়েছিল যে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের গতিবিধি নজরদারির জন্য নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে মাইন পোতা রয়েছে। কিন্তু মার্কিন সেন্টকম জোরপূর্বক অন্যান্য দেশের তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে সেই বিপজ্জনক রুট দিয়ে পরিচালনা করতে বাধ্য করেছে, যার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই ঘটনার দায় ইরানের ওপর চাপিয়ে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে ফায়দা লুটতে চায়।

৭. ভূ-রাজনৈতিক বিস্তৃতি: সাত থেকে আটটি রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়া মহাযুদ্ধ

এই যুদ্ধ এখন আর কেবল ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো দ্বিপাক্ষিক সংঘাত নয়, এটি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি বহুমাত্রিক আঞ্চলিক মহাযুদ্ধে রূপ নিয়েছে। মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে এই যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিধি মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ৭ থেকে ৮টি স্বাধীন রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রের মানচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সর্বশেষ মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্র সৌদি আরব সরাসরি এই যুদ্ধের আগুনের কবলে পড়েছে। এর মূল কারণ হলো, এই সমস্ত দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল বিশাল সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা ব্যবহার করে ওয়াশিংটন বছরের পর বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে এবং বর্তমান সংকটে ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবে না এবং যে দেশের মাটি বা আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের ওপর একটি বুলেটও ছোঁড়া হবে, সেই দেশকেই শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করে মাটির সাথে মিশিয়ে দেওয়া হবে। এই স্ট্র্যাটেজির কারণেই পুরো মিডিল ইস্ট এখন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরিতে পরিণত হয়েছে।

৮. আইআরজিসির কড়া বার্তা: "মার্কিন পরাজয় ঢাকতেই বেসামরিক মানুষের ওপর বর্বরতা"

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) তাদের সর্বশেষ প্রাতিষ্ঠানিক ও সামরিক বিবৃতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক রণকৌশলকে চরম কাপুরুষোত্ত ও দেউলিয়া বলে আখ্যায়িত করেছে। আইআরজিসি বলেছে, যুদ্ধক্ষেত্রের মূল সামরিক ফ্রন্টে মার্কিন সেনা ও তাদের আধুনিক প্রযুক্তির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়েছে। নিজেদের এই ঐতিহাসিক ও লজ্জাজনক সামরিক পরাজয় বিশ্ববাসীর কাছ থেকে আড়াল করতে এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মুখ রক্ষা করতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এখন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের পথ বেছে নিয়েছে। মার্কিন বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের বেসামরিক হাসপাতাল, যোগাযোগের সেতু, বেসামরিক রেলপথ, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সাধারণ টেলিযোগাযোগ কেন্দ্র এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডগুলোকে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে, যাতে ইরানি জনগণের মধ্যে প্যানিক বা আতঙ্ক সৃষ্টি করা যায়। আইআরজিসি হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যেহেতু জাতিসংঘ বা কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই চরম বর্বরতা ও আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না বা নিচ্ছে না, তাই ইরান নিজের প্রতিরক্ষায় এবং এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতে আন্তর্জাতিক আইন মেনেই মার্কিন বাহিনীর ওপর পাল্টা আঘাতের মাত্রা শতগুণ বাড়িয়ে দেবে।

৯. মার্কিন ঘাঁটি প্রদানকারী দেশগুলোর প্রতি ইরানের অন্তিম হুশিয়ারি

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) তাদের বিবৃতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আরব রাষ্ট্রগুলোকে, বিশেষ করে যারা মার্কিন সামরিক বাহিনীকে নিজেদের দেশে আশ্রয় দিয়েছে এবং ইরানের ওপর আগ্রাসন চালানোর জন্য নিজেদের ভূখণ্ড, বিমানঘাঁটি ও লজিস্টিক সুবিধা উন্মুক্ত করে দিয়েছে, তাদেরকে এক চরম ও অন্তিম হুশিয়ারি প্রদান করেছে। তেহরান স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, "যেসব দেশ আগ্রাসী মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূমি ব্যবহার করতে দিচ্ছে, তারা আমেরিকার এই ঐতিহাসিক অপরাধের সমান অংশীদার। অতএব, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের অনুরূপ এবং আরও ভয়াবহ ধ্বংসাত্মক জবাবের জন্য আপনাদের প্রস্তুত থাকা উচিত।" ইরান এই রাষ্ট্রগুলোকে তাদের নিজেদের বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষা করার স্বার্থে সমস্ত সম্ভাব্য মার্কিন ঘাঁটির আশেপাশের এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে এবং তাদের নিজস্ব বেসামরিক প্রতিরক্ষা ইউনিটগুলোকে (Civil Defense Units) সর্বোচ্চ সক্রিয় করার পরামর্শ দিয়েছে। এই হুশিয়ারির পর কুয়েত, কাতার এবং বাহরাইনের মতো দেশগুলোতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং দেশগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে বাধ্য হচ্ছে।

১০. মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোর বর্তমান কঙ্কালসার দশা

ইরানের আইআরজিসি আরও দাবি করেছে যে, ওয়াশিংটনকে তাদের ভুল ও অনৈতিক নীতি পরিবর্তনের একটি শেষ সুযোগ দেওয়ার জন্য ইরান এখন পর্যন্ত তাদের রাতভর চালানো পাল্টা হামলাগুলোকে মূলত নিখুঁত সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। কিন্তু সেই সীমিত হামলাই আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোর কঙ্কালসার রূপ বের করে দিয়েছে। ইরানের সর্বশেষ হামলায় কুয়েতের আরিফজান স্থল বাহিনীর প্রধান রসদ কেন্দ্রে মার্কিন সেনার বিশাল সমাবেশে নিখুঁত আঘাত হানা হয়েছে। এছাড়া কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির মূল রাডার সিস্টেমটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ওই অঞ্চলের মার্কিন বিমান চলাচলের ওপর বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে। একই সাথে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর একটি প্রধান অত্যাধুনিক অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার (Weapon Maintenance Hangar) এবং ড্রোন আশ্রয় কেন্দ্রগুলো ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (Fifth Fleet) সদর দফতর এবং জর্ডানের লজিস্টিক বেসগুলোও ইরানের ড্রোন ও মিসাইলের আঘাতে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে, যা প্রমাণ করে আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের 'প্যাট্রিয়ট' বা 'থাড' (THAAD) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের হামলা ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ।

১১. কুয়েত ও কাতারে জরুরি অবস্থা: মার্কিন সেনাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আড়ালে লুকানো সত্য

ইরানের এই নজিরবিহীন ও ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণের ফলে কুয়েত ও কাতারের মতো দেশগুলোতে গভীর সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। কুয়েতের বেশ কয়েকটি প্রধান সামরিক ও বেসামরিক শহরে ইতিমধ্যেই জরুরি অবস্থা (State of Emergency) জারি করা হয়েছে। ইরানের গণমাধ্যম ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো দাবি করছে যে, গত কয়েকদিনের হামলায় বিপুল সংখ্যক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও সাধারণ সেনা নিহত হয়েছেন এবং শত শত সেনা গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মার্কিন প্রশাসন তাদের দেশে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের ইমেজ ধরে রাখার জন্য এই বিপুল সংখ্যক সেনার মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ গোপন রাখছে এবং গণমাধ্যমে ব্ল্যাকআউট জারি করেছে। তবে সত্য বেশিদিন লুকিয়ে রাখা যায়নি। গত রাতে কুয়েতের একটি স্থানীয় টেলিভিশনের নিউজ বুলেটিনে দুর্ঘটনাবশত দেখা গেছে যে, ইরানের হামলায় আহত কুয়েতি ও মার্কিন সেনাদের স্ট্রেচারে করে সারিবদ্ধভাবে কুয়েতের প্রধান সামরিক হাসপাতালগুলোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আরবের স্বাধীন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নিশ্চিত করেছেন যে, ডজন ডজন অ্যাম্বুলেন্সকে মার্কিন ঘাঁটি থেকে রক্তাক্ত সেনাদের নিয়ে হাসপাতালের দিকে ছুটতে দেখা গেছে, যা আমেরিকার বিশাল ক্ষয়ক্ষতির সত্যতাকে সরাসরি প্রমাণ করে।

১২. সুপ্রিম লিডারের উপদেষ্টা মহসিন রেজাইয়ের ৩ দিনের চূড়ান্ত আলটিমেটাম

এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক ও সামরিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং প্রধান সামরিক উপদেষ্টা মহসিন রেজাই। তিনি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সরাসরি উপস্থিত হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্দেশ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত ৩ দিনের সময়সীমা (Three-Day Ultimatum) বেঁধে দিয়েছেন। মহসিন রেজাই অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেছেন, "আমরা আমেরিকাকে আগামী তিন দিন সময় দিলাম। এই তিন দিনের মধ্যে যদি মার্কিন বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে বা আমাদের কোনো বেসামরিক স্থাপনার ওপর তাদের বোমাবর্ষণ এবং আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ না করে, তবে আগামী ৭২ ঘণ্টা পর ইরান এমন এক ভয়ঙ্কর এবং নজিরবিহীন সামরিক অ্যাকশনে যাবে যার পর ইরান আর কোনো আন্তর্জাতিক শান্তি চুক্তি, যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) বা কোনো ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতার তোয়াক্কা করবে না।" তিনি আরও বলেন, ইরান তার চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করবে এবং এই আলটিমেটামকে হালকাভাবে নিলে আমেরিকাকে তার জীবনের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হবে। সুপ্রিম লিডারের উপদেষ্টার এই বক্তব্য মূলত আয়াতুল্লাহ খামেনির সরাসরি বার্তা, যা নির্দেশ করে ইরান এখন আর কোনো ফাঁকা হুমকি দিচ্ছে না, বরং তারা চূড়ান্ত যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

১৩. ট্রাম্পের মরিয়া চেষ্টা: ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেনার ঢল

ইরানের এই অভাবনীয় প্রতিরোধ এবং প্রিসিশন মিসাইলের তীব্র আঘাতের সামনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সামরিক কমান্ড যে চরমভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন, তার প্রমাণ মিলছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বৈশ্বিক মুভমেন্ট বা চলাচলে। মধ্যপ্রাচ্যের স্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বর্তমান মজুদ অস্ত্র এবং সৈন্য দিয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ও তীব্রতা মোকাবেলা করতে পারছে না। ফলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুরো ইউরোপ, ভূমধ্যসাগর এবং আটলান্টিক মহাসাগরে মোতায়েন করা আমেরিকার যত আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, বিমানবাহী রণতরী (Aircraft Carriers), দূরপাল্লার মিসাইল ব্যাটারি এবং স্পেশাল ফোর্স রয়েছে, তার সবকিছুই জরুরি ভিত্তিতে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে টেনে আনছেন। প্রতিদিন ডজন ডজন মার্কিন সামরিক কার্গো বিমান ইউরোপের ঘাঁটিগুলো থেকে অস্ত্র ও সেনা নিয়ে কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবের ঘাঁটিতে অবতরণ করছে। আমেরিকা তাদের বিশ্বব্যাপী সামরিক আধিপত্যের সমস্ত বাজি এখন ইরানের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের এই একক যুদ্ধক্ষেত্রে খাটাতে বাধ্য হচ্ছে, যা ওয়াশিংটনের চরম সামরিক অসহায়ত্ব ও মরিয়া ভাবকেই ফুটিয়ে তোলে।

১৪. ইরানের নতুন রণকৌশল: শাহেদ-১৪৯ এবং ভয়ঙ্কর ক্লাস্টার মিসাইলের গোপন ভেরিয়েন্ট

মার্কিন সেন্টকমকে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি আতঙ্কিত ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে তুলেছে, তা হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ক্রমাগত উন্নত ও পরিবর্তিত প্রযুক্তি। সামরিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ইরান এই যুদ্ধে তাদের বিখ্যাত এবং অত্যন্ত কার্যকারী আত্মঘাতী ড্রোন 'শাহেদ-১৪৯' (Shahed-149) এর একটি সম্পূর্ণ নতুন এবং আপগ্রেডেড সংস্করণ মাঠে নামিয়েছে। এই ড্রোনগুলো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দূরপাল্লার এবং এগুলো অত্যন্ত ভারী ও আধুনিক বিস্ফোরক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। এর পাশাপাশি ইরান তাদের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র 'জুলফিকার', 'খাইবার শেকান' এবং অত্যাধুনিক 'ক্লাস্টার মিসাইল' (Cluster Missiles) এর এমন কিছু গোপন ও নতুন ভেরিয়েন্ট বা সংস্করণ ব্যবহার করছে, যা মার্কিন প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রাডারকে সম্পূর্ণ ফাঁকি দিতে সক্ষম। ইরানের এই নতুন প্রযুক্তির কারণে মার্কিন বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মাঝআকাশে ইন্টারসেপ্ট বা ধ্বংস করতে পারছে না, যার ফলে ইরানের ছোঁড়া প্রতিটি মিসাইল সরাসরি মার্কিন ঘাঁটির ভেতরে মার্কিন সেনাদের থাকার কোয়ার্টার, অস্ত্রাগার এবং হ্যাঙ্গারে গিয়ে আঘাত হানছে। এছাড়া ৩ দিনের আলটিমেটাম শেষ হলে ইরান তাদের অজেয় হাইপারসনিক মিসাইল 'ফাত্তাহ' ব্যবহার করারও পরোক্ষ হুশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।

১৫. ইসরাইলের সাথে গোপন অক্ষ: পর্দার আড়ালে এক ভয়াবহ মহাজাগতিক প্ল্যান

এই চলমান মহাযুদ্ধের নেপথ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের দীর্ঘদিনের প্রধান আঞ্চলিক মিত্র ইসরাইলের মধ্যে একটি অত্যন্ত সুগভীর ও ভয়ঙ্কর গোপন সামরিক পরিকল্পনা (Secret War Blueprint) বাস্তবায়নের কাজ চলছে বলে ইরান গুরুতর অভিযোগ করেছে। ইরানের গোয়েন্দা সুত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, ওয়াশিংটন এবং তেল আবিব পর্দার আড়ালে বসে ইরানের মূল পরমাণু স্থাপনা এবং প্রধান সরকারি কেন্দ্রগুলোর ওপর একযোগে একটি প্রলয়ঙ্কারী ও ধ্বংসাত্মক ক্ষেপণাস্ত্র বা কৌশলগত পারমাণবিক হামলার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে সামরিকভাবে একের পর এক ঘাঁটিতে মার খাচ্ছে, তখন তারা ইসরাইলকে সরাসরি এই যুদ্ধে পূর্ণ শক্তিতে মাঠে নামানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরান পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে যে, ইসরাইল যদি আমেরিকার এই নোংরা খেলায় অংশ নিয়ে ইরানের ওপর কোনো ধরনের দুঃসাহস দেখানোর চেষ্টা করে, তবে ইসরাইল নামক রাষ্ট্রটিকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে চিরতরে মুছে দেওয়া হবে। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে বিশ্ববাসী এখন এক নজিরবিহীন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের (World War 3) দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে কাঁপছে, যার পরিণতি হতে পারে সমগ্র মানব সভ্যতার জন্য চরম বিপর্যয়কর।

Chronicle Point Analysis:

  • ১. ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যের পতন: সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো সুরক্ষিত মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সরাসরি হামলা প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার একক সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটতে চলেছে।
  • ২. কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা: মার্কিন বাহিনী নিজেদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের জীবন বাঁচাতে সৌদি আরবের ঘাঁটিকে সেফ জোন মনে করলেও, ইরান সেখানে আঘাত হেনে আমেরিকার সামগ্রিক সামরিক রণকৌশল ও চেইন অব কমান্ডকে সম্পূর্ণ অচল করে দিয়েছে।
  • ৩. মার্কিন যুদ্ধাপরাধের আন্তর্জাতিক দলিল: ইরানের বেসামরিক পানি শোধনাগার এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ করেছে, তা বিশ্বমঞ্চে ওয়াশিংটনের তথাকথিত মানবাধিকারের মুখোশ উন্মোচন করেছে।
  • ৪. কুয়েতের ওপর অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ধাক্কা: কুয়েতের লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইরানের পাল্টা আঘাত প্রমাণ করে যে, মার্কিন ঘাঁটিকে আশ্রয় দিলে যেকোনো দেশের জাতীয় নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে পড়বে।
  • ৫. প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা: আমেরিকার বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের শাহেদ-১৪৯ ড্রোন এবং ক্লাস্টার মিসাইলের নতুন ভেরিয়েন্ট ঠেকাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, যা মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
  • ৬. হরমুজ প্রণালীতে ভূ-অর্থনৈতিক সংকট: মাইন বিস্ফোরণে তেল ট্যাঙ্কার ধ্বংসের ঘটনা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহকে স্থবির করে দেবে, যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি ও মন্দা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
  • ৭. বহুমাত্রিক আঞ্চলিক যুদ্ধ: মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে সংঘাত ৭ থেকে ৮টি দেশে ছড়িয়ে পড়া নির্দেশ করে যে, এটি আর কোনো সীমিত সংঘাত নয়, বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক মহাযুদ্ধ, যা বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারে।
  • ৮. মার্কিন সেনাদের মৃত্যুর তথ্য গোপন: কুয়েতি গণমাধ্যমের অসতর্ক সম্প্রচার এবং আরবের বিভিন্ন রিপোর্ট প্রমাণ করে যে, মার্কিন প্রশাসন নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এড়াতে তাদের বিপুল সংখ্যক সেনা নিহতের প্রকৃত সংখ্যা বিশ্ববাসীর কাছে গোপন রাখছে।
  • ৯. আয়াতুল্লাহ খামেনির চূড়ান্ত বার্তা: সুপ্রিম লিডারের সামরিক উপদেষ্টা মহসিন রেজাইয়ের ৩ দিনের আলটিমেটাম মূলত ইরানের পক্ষ থেকে এক অন্তিম হুশিয়ারি, যা প্রমাণ করে ইরান এখন মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত মরণপণ লড়াইয়ে নামতে প্রস্তুত।
  • ১০. ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রভাব: ইরানকে মোকাবিলা করতে ইউরোপের ঘাঁটি থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সেনা মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে আসায় ইউক্রেন ও ইউরোপীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা বলয় দুর্বল হয়ে পড়বে, যার সুযোগ অন্য পরাশক্তিগুলো নিতে পারে।
  • ১১. আরব বিশ্বের অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও আতঙ্ক: ইরানের কড়া হুশিয়ারির পর মার্কিন ঘাঁটিকে আশ্রয় দেওয়া আরব দেশগুলোর বেসামরিক প্রতিরক্ষা ইউনিট সক্রিয় করা নির্দেশ করে যে, তারা আমেরিকার সুরক্ষার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।
  • ১২. ট্রাম্প প্রশাসনের মরিয়া নীতি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই যুদ্ধংদেহী নীতি আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে, কারণ মার্কিন জনগণ আরেকটি দীর্ঘ ও ক্ষয়ক্ষতিপূর্ণ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ দেখতে প্রস্তুত নয়।
  • ১৩. ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের অপ্রতিরোধ্য প্রযুক্তি: জুলফিকার, খাইবার শেকান এবং নতুন হাইপারসনিক ও প্রিসিশন ক্রুজ মিসাইলের ব্যবহার প্রমাণ করে ইরান গত এক দশকে নিজেদের সম্পূর্ণ স্বনির্ভর সামরিক পরাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে।
  • ১৪. ইসরাইল-আমেরিকা গোপন অক্ষের বিপদ: পর্দার আড়ালে ইসরাইলকে যুদ্ধে নামানোর মার্কিন পরিকল্পনা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোর সীমানা এবং ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রকে চিরতরে বদলে দেবে।
  • ১৫. ক্রনিকল পয়েন্টের চূড়ান্ত মূল্যায়ন: মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখন এমন এক বিন্দুতে পৌঁছেছে যেখান থেকে কোনো পক্ষেরই পিছু হটার সুযোগ নেই। ৩ দিনের আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর যদি কূটনীতি ব্যর্থ হয়, তবে মানবজাতি আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক মহাযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হতে যাচ্ছে।

পাঠকদের জিজ্ঞাসিত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

১. প্রশ্ন: কাল রাতে ইরান কোন কোন নতুন দেশে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে? উত্তর: কাল রাতে ইরান তাদের হামলার পরিধি বাড়িয়ে এতদিন সুরক্ষিত থাকা সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে (UAE) অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ২. প্রশ্ন: মার্কিন হামলায় ইরানের কতজন মানুষ পানি সংকটে পড়েছেন? উত্তর: মার্কিন বিমান বাহিনী ইরানের দক্ষিণ অঞ্চলের বেসামরিক পানি শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোয় ২০টি গ্রামের প্রায় ১ লক্ষাধিক মানুষ সম্পূর্ণ পানিবিহীন অবস্থায় চরম মানবিক সংকটে পড়েছেন। ৩. প্রশ্ন: ইরানের পানি শোধনাগারে হামলার জবাবে ইরান কুয়েতে কী করল? উত্তর: মার্কিন হামলার তীব্র প্রতিশোধ হিসেবে ইরান কুয়েতের অভ্যন্তরে অবস্থিত মার্কিন লজিস্টিক কেন্দ্র এবং কুয়েতের একটি প্রধান বিদ্যুৎ ও লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তা অচল করে দিয়েছে। ৪. প্রশ্ন: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) ইরানের বিরুদ্ধে কী দাবি করেছে? উত্তর: মার্কিন সেন্টকম দাবি করেছে যে তারা ইরানের মূল ভূখণ্ডে টানা সপ্তম রাতের মতো হামলা চালিয়ে দেশটির রাডার সিস্টেম, নজরদারি কেন্দ্র, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রাগার এবং সামুদ্রিক সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। ৫. প্রশ্ন: হরমুজগান প্রদেশে মার্কিন হামলায় কতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন? উত্তর: মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি একটি সেতুর ওপর সাধারণ দুটি পারিবারিক গাড়িতে আঘাত হানলে ৬ জন এবং বন্দর আব্বাসের আবাসিক এলাকায় হামলায় ১ জন নারীসহ মোট অন্তত ৭-৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ৬. প্রশ্ন: হরমুজ প্রণালীতে দুটি তেল ট্যাঙ্কার ধ্বংস হওয়ার পেছনে মূল কারণ কী? উত্তর: আমেরিকার দাবি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক জলপথে ইরানের পোতা মাইনের বিস্ফোরণে তেল ট্যাঙ্কার দুটি ধ্বংস হয়েছে। তবে ইরানের দাবি, মার্কিন সেন্টকম জোরপূর্বক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক রুট দিয়ে পরিচালনা করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ৭. প্রশ্ন: এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের কতটি দেশে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে? উত্তর: এই মুহূর্তে যুদ্ধটি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ অন্তত ৭ থেকে ৮টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ৮. প্রশ্ন: ইরানের আইআরজিসি (IRGC) আমেরিকার হামলাকে কেন যুদ্ধাপরাধ বলছে? উত্তর: কারণ মার্কিন সামরিক বাহিনী যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের আইআরজিসির সাথে সামরিকভাবে পরাস্ত হয়ে এখন ইরানের সাধারণ হাসপাতাল, সেতু, রেলপথ, বিমানবন্দর এবং পানি-বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষ হত্যা করছে। ৯. প্রশ্ন: মার্কিন ঘাঁটিকে আশ্রয় দেওয়া আরব দেশগুলোকে ইরান কী হুশিয়ারি দিয়েছে? উত্তর: ইরান কড়া হুশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যেসব দেশ নিজের ভূমি ও আকাশসীমা ইরানের ওপর হামলার জন্য আমেরিকাকে ব্যবহার করতে দিচ্ছে, তারা যেন অনুরূপ ধ্বংসাত্মক হামলার জন্য প্রস্তুত থাকে এবং নিজেদের নাগরিকদের মার্কিন ঘাঁটির আশেপাশ থেকে সরিয়ে নেয়। ১০. প্রশ্ন: ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটির কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে? উত্তর: ইরানের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কুয়েতের আরিফজান মার্কিন লজিস্টিক কেন্দ্র, আলী আল সালেম বিমানঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা এবং মার্কিন বাহিনীর প্রধান অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার ও ড্রোন আশ্রয় কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ১১. প্রশ্ন: কুয়েত ও কাতারের বর্তমান অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কেমন? উত্তর: ইরানের একের পর এক প্রলয়ঙ্কারী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কুয়েতের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে ইতিমধ্যেই জরুরি অবস্থা (State of Emergency) জারি করা হয়েছে এবং পুরো দেশজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ১২. প্রশ্ন: গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী কতজন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন? উত্তর: মার্কিন প্রশাসন সেনা নিহতের খবর সম্পূর্ণ গোপন রাখলেও, আরবের স্বাধীন গণমাধ্যমসমূহ ১৪ থেকে ২০ জন এবং ইরানের গোয়েন্দা সূত্র শতাবধিক মার্কিন সেনা নিহত ও বিপুল সংখ্যক সেনা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকার দাবি করেছে। ১৩. প্রশ্ন: ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মহসিন রেজাই ওয়াশিংটনকে কী আলটিমেটাম দিয়েছেন? উত্তর: মহসিন রেজাই আমেরিকাকে আগামী ৩ দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে ইরানের ওপর মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হলে ইরান তার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও অজেয় মিসাইল ব্যবহার করবে এবং কোনো যুদ্ধবিরতি মানবেনা। ১৪. প্রশ্ন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন? উত্তর: মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলো বাঁচাতে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জরুরি ভিত্তিতে পুরো ইউরোপ মহাদেশ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, রণতরী, বিমান ও হাজার হাজার সৈন্য মধ্যপ্রাচ্যে নিয়ে আসছেন। ১৫. প্রশ্ন: এই যুদ্ধে ইরান কোন কোন নতুন সামরিক প্রযুক্তি ও রণকৌশল ব্যবহার করছে? উত্তর: ইরান তাদের অত্যাধুনিক ও ভারী আত্মঘাতী ড্রোন 'शाहेद-149' (Shahed-149) এর নতুন সংস্করণসহ জুলফিকার, খাইবার শেকান এবং প্যাট্রিয়ট রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তির আধুনিক ক্লাস্টার মিসাইল ব্যবহার করছে।

লেখাটি কি আপনার উপকারে এলো? প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দিন

Website Total View