কুয়েতে মার্কিন রাডার ও পেট্রিয়ট ব্যবস্থা ধ্বংসের দাবি ইরানের। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন হামলা, সিরিয়ার নতুন গোয়েন্দা প্রধান নিয়োগ এবং বেলুচিস্তানের বাস্তব চিত্র নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ।

📅 July 2026

কুয়েতে মার্কিন রাডার ও পেট্রিয়ট ধ্বংসের দাবি ইরানের: মধ্যপ্রাচ্যে মহাযুদ্ধের আবহ ও আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির নতুন মোড়

📅 ১৬ জুলাই, ২০২৬ | ✍️ বিশেষ প্রতিনিধি, Chronicle Point

ঢাকা, ১৬ জুলাই ২০২৬: মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবার এক বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে। একের পর এক ড্রোন হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের পাল্টাপাল্টি দাবিতে পুরো অঞ্চল এখন চরম যুদ্ধাবস্থার দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। গতকাল রাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালানোর পর, ইরানও বসে থাকেনি। তারা একযোগে কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে শত শত ড্রোন ও মিসাইল নিয়ে তীব্র পাল্টা আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে কুয়েতের আলী আল সালেম ঘাঁটিতে অবস্থিত অত্যাধুনিক মার্কিন রাডার এবং পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস করার দাবি করেছে তেহরান। একই সাথে সিরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থায় বড় ধরনের রদবদল এবং পাকিস্তানের বেলুচিস্তান অঞ্চলে ভারতীয় প্রচারমাধ্যমের ছড়ানো গুজবের সত্যতা উন্মোচন ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশ্বরাজনীতির এই জটিল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতি নিয়ে ক্রনিকল পয়েন্টের বিশেষ অনুসন্ধান।

১. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরান সীমান্তে আকস্মিক বিমান হামলা

গতকাল রাতে মার্কিন বিমানবাহিনী ইরানের সীমান্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আকস্মিক ও তীব্র বিমান হামলা পরিচালনা করে। মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাশেম দ্বীপ, সমুদ্রবন্দরের শহর বন্দর আব্বাস এবং আহবাজ এলাকায় আক্রমণ চালায়। বন্দর আব্বাস অঞ্চলে ইরানের নৌবাহিনীর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যা হরমুজ প্রণালীর একেবারে প্রবেশদ্বারে অবস্থিত। এই হামলার তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, আহবাজ এলাকার একটি স্থানীয় বেসামরিক হাসপাতালও এর পরোক্ষ প্রভাবের শিকার হয় এবং জরুরি ভিত্তিতে সেখানে চিকিৎসাধীন ২১১ জন রোগীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় স্থানীয় প্রশাসন। ওয়াশিংটন দাবি করেছে, ইরানি মদদপুষ্ট প্রতিরোধ যোদ্ধাদের লাগাতার হামলা দমন করতে এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তারা এই আগাম প্রতিরোধমূলক হামলা (Pre-emptive Strike) চালিয়েছে।

২. ইরানের অপারেশন লাইটনিং এবং পাল্টা ড্রোন হামলা

মার্কিন বিমান হামলার পর ইরান অত্যন্ত দ্রুত ও সংগঠিতভাবে পাল্টা আঘাত হানার সিদ্ধান্ত নেয়। তেহরানের সামরিক কমান্ড অবিলম্বে "অপারেশন লাইটনিং" বা বজ্রপাত অভিযানের দশম পর্যায়ের ঘোষণা দেয়। এই অভিযানের আওতায় ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) এবং নিয়মিত সেনাবাহিনী শত শত আত্মঘাতী ড্রোন ও ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়। ইরানের তৈরি বিখ্যাত শাহেদ-১৩৬ এবং আরাশ ড্রোনগুলো ঝাঁকে ঝাঁকে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় ভেদ করে ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনের দিকে ধেয়ে যায়। ইরানি সামরিক বাহিনী এই ড্রোন অভিযানের হাই-ডেফিনিশন ভিডিও প্রকাশ করে নিজেদের সামরিক শক্তির জানান দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

৩. কুয়েতের আলী আল সালেম ঘাঁটিতে মার্কিন রাডার ধ্বংসের দাবি

অপারেশন লাইটনিংয়ের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে। ইরান দাবি করেছে, তাদের নির্ভুল আরাশ ড্রোন কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হেনে সেখানে থাকা অত্যাধুনিক সি-র‌্যাম (C-RAM: Counter Rocket, Artillery, and Mortar) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং একটি দীর্ঘ পাল্লার আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। সি-র‌্যাম মূলত নিচু দিয়ে উড়ে আসা ড্রোন ও রকেট ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হয়, কিন্তু ইরানের অত্যাধুনিক ড্রোন সেই প্রতিরক্ষাবূহ্য সফলভাবে ফাঁকি দিয়ে রাডারটিকে অকেজো করে দেয়। রাডার ধ্বংসের ফলে ওই ঘাঁটির প্রধান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা পেট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারিগুলো লক্ষ্যহীন হয়ে পড়ে এবং ইরান সেখানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম হয় বলে সামরিক বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

৪. বাহরাইনের শেখ ঈসা ঘাঁটিতে সুপার হক রাডার ও পেট্রিয়ট ধ্বংসের বিবরণ

কুয়েতের পাশাপাশি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহত্তম বিমান ঘাঁটি "শেখ ঈসা এয়ার বেস"-এও ইরান ড্রোনের মাধ্যমে দ্বিতীয় তরঙ্গের হামলা চালায়। এই হামলায় মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্যবহৃত সুপার হক (Super Hawk) রাডার সিস্টেম, পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার যোগাযোগ রাডার এবং জ্বালানি ট্যাংকারগুলোকে সফলভাবে ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। বাহরাইনের এই ঘাঁটিটি মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এখানে হামলা হওয়ার ফলে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় ধরনের ফাঁক তৈরি হয়েছে, যা পেন্টাগনকে চরম উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

৫. ইরাকের এরবিল ও মার্কিন কনসুলেটে ড্রোন হামলা

ইরানের ড্রোনের অন্যতম প্রধান নিশানা ছিল ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী এরবিল শহর। এরবিলে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেট এবং তার পাশেই অবস্থিত মার্কিন সামরিক জোটের প্রধান কার্যালয় লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার সময় এরবিল শহরজুড়ে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ইরাকে অবস্থিত মার্কিন জোটের বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিত করতে পারলেও কনসুলেটের নিকটবর্তী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে ইরানি ড্রোন। এরবিলের এই সফল হামলার মাধ্যমে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কুর্দিস্তানের মাটিতে মার্কিন মদদপুষ্ট যেকোনো কার্যক্রমের কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

৬. ইরাকে নতুন মার্কিনপন্থী সরকার ও ইরান-ইরাক সম্পর্কের ফাটল

ইরাকের এরবিলে ইরানি হামলার পর বাগদাদ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইরাকের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী এই হামলার তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, ইরাকে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সমর্থনে এক মার্কিনপন্থী রাজনীতিবিদকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসানো হয়েছে। গত সপ্তাহেই ইরাকি প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটন সফর করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক সম্পন্ন করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ইরাক ইরানের একটি অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত হলেও, এই নতুন রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে বাগদাদ এখন ইরানের প্রতিরোধ অক্ষ (Axis of Resistance) থেকে সরে গিয়ে মার্কিন অক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

৭. জেনারেল সাফাবির হুশিয়ারি: আমেরিকার জন্য মৃত্যুফাঁদ

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সামরিক উপদেষ্টা এবং প্রবীণ মেজর জেনারেল ইয়াহইয়া রহিম সাফাবি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এক কঠোর হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রতিরোধ অক্ষ মধ্যপ্রাচ্যের মাটিতে একটি চোরাবালি বা মৃত্যুফাঁদ প্রস্তুত করছে। আমেরিকানরা এই যুদ্ধে প্রবেশ করার পথ পেলেও এখান থেকে বের হওয়ার কোনো সুড়ঙ্গ খুঁজে পাবে না।" জেনারেল সাফাবির এই মন্তব্য ইঙ্গিত করে যে, ইরান কেবল আকাশপথেই নয়, বরং স্থল ও জলপথেও মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দীর্ঘমেয়াদী এবং ক্ষয়িষ্ণু গেরিলা যুদ্ধের মুখোমুখি করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

৮. আলী আকবর বেলাইতির বার্তা: হরমুজ প্রণালীর সার্বিক নিয়ন্ত্রণ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অত্যন্ত প্রভাবশালী পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা আলী আকবর বেলাইতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেছেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে যে বিপজ্জনক খেলায় মেতে উঠেছে, তা থেকে তারা কোনো ফায়দা লুটতে পারবে না।" তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে, ইরান তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে যেকোনো মূল্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট 'হরমুজ প্রণালী'-র ওপর নিজের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ খনিজ তেল পরিবাহিত হয়, ফলে এই প্রণালী বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ধস নামবে।

৯. ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী: যুদ্ধ ও কূটনীতির মেলবন্ধন

ইরানের ডেপুটি ফরেন মিনিস্টার (উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী) এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের বর্তমান পররাষ্ট্র কৌশল পরিষ্কার করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "ইরানের কাছে যুদ্ধ এবং কূটনীতি কোনো আলাদা বিষয় নয়, বরং এরা একে অপরের পরিপূরক। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিরোধ বজায় রেখেই কূটনীতির টেবিলে নিজের দাবি আদায় করতে হয়।" তিনি জানান যে, ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তির সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ব্যবহার করতে দ্বিধা করবে না, তবে একই সাথে আলোচনার দরজা একেবারে বন্ধ করে দিচ্ছে না।

১০. জর্ডান সীমান্তে ইরানি মিসাইল ইন্টারসেপ্টের ঘটনা

ইরানের পাল্টা হামলার সময় জর্ডান সরকারের ভূমিকা নিয়ে আবারো মধ্যপ্রাচ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আম্মান দাবি করেছে যে, গতকাল রাতে ইরাক ও সিরিয়া সীমান্ত হয়ে জর্ডানের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইসরাইল বা মার্কিন ঘাঁটির দিকে যাওয়া অন্তত আটটি ইরানি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ড্রোন তাদের বিমানবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট বা ধ্বংস করেছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই জর্ডানের এই মার্কিন ঘেঁষা ভূমিকার সমালোচনা করে আসছে। তেহরানের মতে, জর্ডান নিজের আকাশসীমা মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীকে ব্যবহার করতে দিয়ে মুসলিম উম্মাহ এবং আঞ্চলিক স্বার্থের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

১১. ইরান কেন আরব ও মুসলিম দেশের মাটিতে হামলা চালাচ্ছে?

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ইরান কেন কুয়েত, বাহরাইন বা জর্ডানের মতো মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে? আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই আক্রমণ কোনো মুসলিম দেশ বা সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে নয়। কুয়েত এবং বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজপরিবার বা শাসকরা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিশালাকার সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করার অনুমতি দিয়েছে। গতকাল রাতে ইরান সীমান্তে মার্কিন হামলার পেছনে এই কুয়েত ও বাহরাইনের ঘাঁটিগুলো থেকেই মার্কিন হিমারস (HIMARS) মিসাইল লঞ্চার এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন উড্ডয়ন করানো হয়েছিল। আত্মরক্ষার খাতিরে ইরান ওইসব লঞ্চার প্যাড এবং ড্রোন নিয়ন্ত্রণকারী রাডার ধ্বংস করতে বাধ্য হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও কৌশলগত পদক্ষেপ।

১২. গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বর্বরতা অব্যাহত

যখন বিশ্ববাসীর দৃষ্টি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দিকে নিবদ্ধ, ঠিক তখনই এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরে নিজেদের আগ্রাসন ও বর্বরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। গতকাল রাতেও গাজার বেসামরিক লোকালয় ও শরণার্থী শিবিরগুলোতে ইসরাইলি যুদ্ধবিমান থেকে নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। নিত্যদিন যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলো লঙ্ঘন করে নিরপরাধ নারী ও শিশুদের হত্যা করছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। একই সাথে পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনি যুবকদের ওপর অমানবিক নির্যাতন ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের তান্ডব অব্যাহত রয়েছে, যা সমগ্র আরব বিশ্বে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

১৩. সিরিয়ার নতুন গোয়েন্দা প্রধান আব্দুল কাদেরের নিয়োগ ও কৌশলগত গুরুত্ব

মধ্যপ্রাচ্যের এই অশান্ত পরিস্থিতির মাঝেই সিরিয়া থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ খবর এসেছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থায় বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়েছেন। সিরিয়ার নতুন প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অত্যন্ত চৌকস, অভিজ্ঞ এবং সামরিক রণকৌশলে পারদর্শী কর্মকর্তা আব্দুল কাদের। অন্যদিকে সাবেক গোয়েন্দা প্রধানকে পদোন্নতি দিয়ে সিরিয়ার ন্যাশনাল সিকিউরিটি ডিরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। ইসরাইলের ক্রমাগত আগ্রাসন ঠেকানো এবং দামেস্কসহ প্রধান শহরগুলোকে পশ্চিমা মদদপুষ্ট বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নাশকতা থেকে রক্ষা করতে আব্দুল কাদেরের এই নিয়োগ অত্যন্ত ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

১৪. বেলুচিস্তানের ৮৫% এলাকা দখলের ভারতীয় প্রোপাগান্ডা নস্যাৎ

সম্প্রতি বাংলাদেশের কিছু প্রথম সারির মেইনস্ট্রিম মিডিয়া এবং ভারতীয় গণমাধ্যম প্রচার করছে যে, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের ৮৫ শতাংশ এলাকা এবং শতাধিক কয়লা খনি বালোচ লিবারেশন আর্মি (BLA) নামক গেরিলা গোষ্ঠী নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। ক্রনিকল পয়েন্টের অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' (RAW) এর সাজানো মনগড়া গল্প। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি (যা স্থানীয়ভাবে 'গদি মিডিয়া' নামে পরিচিত) এই ফেক নিউজটি তৈরি করে, যা বাংলাদেশের দিল্লির দালাল মিডিয়াগুলো হুবহু অনুবাদ করে প্রচার করেছে। প্রকৃতপক্ষে, বেলুচিস্তানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত আছে। কোনো অঞ্চল বা খনি গেরিলাদের দখলে যায়নি।

১৫. বাংলাদেশে "ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম" ও দিল্লির ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্কতা

বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এবং পাকিস্তানকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করার জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এক অভিনব ফাঁদ পেতেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশে "ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম" নামক একটি রহস্যময় ও উগ্রপন্থী সংগঠনের কয়েকজন সদস্যকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তে জানা গেছে, এই চক্রটি বাংলাদেশ থেকে তরুণ ও ছাত্রদের মগজ ধোলাই করে রিক্রুট করত এবং আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তানে টিটিপি (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) এর হয়ে লড়াই করতে পাঠাত। বাংলাদেশ থেকে যুদ্ধ করতে যাওয়া বেশ কয়েকজন তরুণ ইতিমধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও তরুণদের সুরক্ষায় দিল্লির এই কুৎসিত প্রোপাগান্ডা এবং এদেশীয় পা চাটা গণমাধ্যমগুলোর ব্যাপারে দেশবাসীকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।

Chronicle Point Analysis:

  • ১. মার্কিন আগ্রাসনের প্রত্যুত্তর: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাশেম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসে হামলা চালিয়ে মূলত তেহরানকে ভয় দেখাতে চেয়েছিল, কিন্তু ইরান পাল্টা ড্রোন হামলার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছে তারা সরাসরি যুদ্ধে ভয় পায় না।
  • ২. শাহেদ-১৩৬ ও আরাশ ডোন প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব: কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোনের নিখুঁত আঘাত প্রমাণ করে যে, কোটি কোটি ডলারের মার্কিন পেট্রিয়ট এবং সি-র‌্যাম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের স্বল্পমূল্যের ড্রোনের সামনে কার্যকারিতা হারাচ্ছে।
  • ৩. হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি: ইরানের হুশিয়ারি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাহত হবে, যা বিশ্বজুড়ে নতুন অর্থনৈতিক মন্দা ডেকে আনবে।
  • ৪. ইরাকে রাজনৈতিক মেরুকরণ: ইরাকে মার্কিন পন্থী নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের মাধ্যমে ওয়াশিংটন বাগদাদকে ইরানের হাত থেকে কেড়ে নেওয়ার যে চেষ্টা করছে, তা ইরাকে গৃহযুদ্ধের নতুন ডালপালা মেলতে পারে।
  • ৫. কুয়েতের সার্বভৌমত্ব ও মার্কিন ঘাঁটি: কুয়েতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং মার্কিন ঘাঁটিকে নিজেদের ভূমি ব্যবহার করতে দেওয়া প্রকারান্তরে দেশটিকে ইরানি হামলার মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
  • ৬. বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরের নিরাপত্তা ঝুঁকি: শেখ ঈসা ঘাঁটিতে রাডার ধ্বংসের ফলে পারস্য উপসাগরে মোতায়েন মার্কিন নৌবহর এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের সহজ লক্ষ্যে পরিণত হতে পারে।
  • ৭. জর্ডানের দ্বিচারিতা: ইসরাইল ও আমেরিকাকে রক্ষা করতে জর্ডান যেভাবে নিজের মুসলিম প্রতিবেশীর মিসাইল প্রতিহত করছে, তাতে দেশের ভেতরেই বাদশাহ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হচ্ছে।
  • ৮. সিরিয়ার প্রতিরক্ষা জোরদার: নতুন গোয়েন্দা প্রধান আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে সিরিয়া ও লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে সামরিক সমন্বয় আরও দৃঢ় হবে, যা ইসরাইলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
  • ৯. প্রতিরোধের অক্ষ (Axis of Resistance) এর ঐক্য: ইয়েমেনের হুথি, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের প্রতিরোধ বাহিনীগুলো একযোগে ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে মার্কিন বিরোধী অক্ষকে শক্তিশালী করছে।
  • ১০. ভারতীয় প্রোপাগান্ডার স্বরূপ উন্মোচন: বেলুচিস্তান নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার মিথ্যাচার মূলত পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরার এবং বাংলাদেশের জনগণের চোখ আসল সমস্যা থেকে অন্যদিকে ঘোরানোর অপচেষ্টা।
  • ১১. বাংলাদেশে জঙ্গি রিক্রুটমেন্টের নেপথ্য নায়ক: "ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম" এর পেছনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এর মদদ থাকার জোরালো সন্দেহ রয়েছে, যা বাংলাদেশকে আফগান স্টাইলের জঙ্গি তকমা দিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
  • ১২. গাজায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের নীরবতা: ইরান-মার্কিন যুদ্ধকে ঢাল বানিয়ে ইসরাইল গাজা ও পশ্চিম তীরে যে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ ও পরাশক্তিগুলোর নীরবতা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
  • ১৩. কূটনীতি বনাম সামরিক শক্তি: ইরানের দ্বিমুখী নীতি (যুদ্ধ ও কূটনীতি সমান্তরালে চালানো) তেহরানকে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখছে।
  • ১৪. ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অতিরিক্ত মাত্রায় ইসরাইল তোষণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় সেনা সক্রিয় করার নীতি পুরো অঞ্চলের শান্তি স্থায়ীভাবে বিনষ্ট করছে।
  • ১৫. বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা সংকট: প্রথম আলো বা কালের কণ্ঠের মতো পত্রিকাগুলো যেভাবে দিল্লির স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে, তাতে বিকল্প ধারার স্বাধীন মিডিয়া হিসেবে "ক্রনিকল পয়েন্ট" এর গুরুত্ব ও সত্যনিষ্ঠা আজ প্রমাণিত।

পাঠকদের জিজ্ঞাসিত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

১. কুয়েতে ইরানের হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক কী ক্ষতি হয়েছে? ইরানের দাবি অনুযায়ী, কুয়েতের আলী আল সালেম ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন আর্লি ওয়ার্নিং রাডার এবং সি-র‌্যাম (C-RAM) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ২. সি-র‌্যাম (C-RAM) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কী এবং এটি কেন ইরানি ড্রোন ঠেকাতে ব্যর্থ হলো? সি-র‌্যাম হলো এমন একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যা কাছাকাছি দূরত্ব থেকে আসা রকেট, কামানের গোলা এবং ড্রোন ধ্বংস করে। ইরানের আরাশ ও শাহেদ ড্রোনগুলো অত্যন্ত নিচু দিয়ে ও আঁকাবাঁকা পথে ওড়ার কারণে সি-র‌্যামের রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হয়েছে। ৩. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কোন কোন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন কাশেম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস নৌঘাঁটি এবং আহবাজ এলাকার একটি সামরিক হাসপাতালের নিকটবর্তী স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। ৪. আহবাজের হাসপাতাল থেকে কেন রোগী সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল? মার্কিন বিমান হামলার ভয়াবহ কম্পন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে আহবাজের ওই হাসপাতাল থেকে ২১১ জন রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে অন্য নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছিল। ৫. বাহরাইনের শেখ ঈসা ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় কী কী ধ্বংস হয়েছে? বাহরাইনের এই ঘাঁটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপার হক (Super Hawk) রাডার সিস্টেম, পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বেশ কয়েকটি বড় জ্বালানি ট্যাংকার ধ্বংস হয়েছে। ৬. ইরাকের এরবিলে হামলা করার প্রধান কারণ কী ছিল? ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক ঘাঁটি এবং কনসুলেট রয়েছে, যেখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি চালানো হতো। তাই ইরান একে অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু বানায়। ৭. ইরাকের নতুন প্রধানমন্ত্রী কেন ইরানের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন? ইরাকের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মার্কিন সমর্থিত এবং গত সপ্তাহেই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করেছেন। আমেরিকার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। ৮. জেনারেল সাফাবির দেওয়া 'চোরাবালি' বা 'মৃত্যুফাঁদ' বার্তার অর্থ কী? মেজর জেনারেল সাফাবি বুঝিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সাথে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়ায়, তবে তারা মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরোধ অক্ষের চোরাবালিতে এমনভাবে আটকে যাবে যে সেখান থেকে অক্ষত অবস্থায় বের হওয়া অসম্ভব হবে। ৯. হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা কেন ইরানের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ? হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম প্রধান তেলের রুট। এর ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকলে ইরান যেকোনো সময় পশ্চিমা দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে অচল করে দিতে পারবে। ১০. জর্ডান কেন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করছে? জর্ডান একটি পশ্চিমা ও মার্কিনপন্থী রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। তারা নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষার অজুহাতে এবং মার্কিন-ইসরাইলি স্বার্থ রক্ষার্থেই ইরানি মিসাইল ইন্টারসেপ্ট করেছে। ১১. ইরান কেন আরব রাষ্ট্রগুলোতে হামলা করছে? তারা কি মুসলিমদের শত্রু? একেবারেই নয়। ইরান মূলত বাহরাইন বা কুয়েতের মুসলিম জনগণের ওপর হামলা করছে না; বরং সেসব দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যে ঘাঁটিগুলো থেকে ইরানে হামলা চালানো হয়েছিল। ১২. সিরিয়ার নতুন গোয়েন্দা প্রধান আব্দুল কাদেরের নিয়োগের তাৎপর্য কী? এই নিয়োগের মাধ্যমে সিরিয়া নিজের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা আরও সুসংহত করল এবং ইসরাইল ও মার্কিন মদদপুষ্ট কুর্দি বা আইএস সন্ত্রাসীদের দমন করার জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রমকে আরও আধুনিক রূপ দিল। ১৩. বেলুচিস্তানের ৮৫% এলাকা গেরিলারা দখল করে নিয়েছে— এই খবরটি কি সত্য? না, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রোপাগান্ডা। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'র' এর মদদপুষ্ট গণমাধ্যম এনডিটিভি (গদি মিডিয়া) এই ভুয়া খবর ছড়িয়েছে, যা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করার একটি অপচেষ্টা মাত্র। ১৪. বাংলাদেশে "ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম" আসলে কী কাজ করছিল? এই উগ্রপন্থী চক্রটি বাংলাদেশ থেকে সাধারণ ছাত্রদের বিভ্রান্ত করে ও মগজ ধোলাই করে পাকিস্তানের টিটিপির হয়ে লড়াই করার জন্য আফগানিস্তানে পাঠাচ্ছিল, যা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ১৫. বাংলাদেশের প্রথম সারির কিছু পত্রিকা কেন ভারতীয় খবর হুবহু প্রচার করছে? কালের কণ্ঠ বা প্রথম আলোর মতো কিছু পত্রিকা দিল্লির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খবর প্রচার করে থাকে যাতে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা যায় এবং ভারতের আধিপত্য বজায় রাখা সহজ হয়।

লেখাটি কি আপনার উপকারে এলো? প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দিন

Website Total View